শিরোনাম

অশান্তির অনলে শান্তির পৃথিবী

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০১৯ ৪:১২:৩১ অপরাহ্ণ
World
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী বেড়ে চলেছে সন্ত্রাসবাদ। শান্তিপ্রিয় দেশ থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে এর বিস্তৃতি ঘটছে অব্যাহতভাবে। মানুষ নামের কিছু অমানুষ, নরাধম সুস্থ মস্তিস্কে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে হত্যা করছে শত শত, হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষকে। সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করে যেমন মারা হচ্ছে নিরীহদের, তেমনি কোথাও আবার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। কিন্তু কেন এই হত্যাযজ্ঞ? কী এমন স্বার্থ হাসিল করা হয় পবিত্র রক্তের স্রোতে? সাধারণ মানুষের মনে জাগ্রত এই সব প্রশ্নের উত্তর হয়ত মিলবে না। হত্যাকারীদের কানে পৌঁছাবে না স্বজন হারাদের গগন বিদারী চিৎকার।

প্রায় প্রতিদিনই বিশ্বের কোথাও না কোথাও ঘটছে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর ঘটনা। কিছুদিন আগে নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে যেভাবে হত্যাকাণ্ডের চিত্র সরাসরি ভিডিওর মাধ্যমে সম্প্রচার করলো, তাতে করে সভ্য সমাজের মুখোশ খুলে লুটিয়ে পড়লো নর্দমায়। বিশ্ব বিবেক নিরব নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

আজকে শ্রীলংকায় বোমা হামলা হয়েছে। কারা চালিয়েছে, কেন চালিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। কিন্তু তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য কেড়ে নিল দুই শতাধিক নিরীহ মানুষের তরতাজা কর্মক্ষম প্রাণ। হাসপাতালে যন্ত্রণায় ঝটফট করছে আরো কয়েকশত মানুষ। স্বজনদের আহাজারি, আহতদের আর্তচিৎকারে কী অর্জিত হলো? -তা কেবল সেই সকল সন্ত্রাসীরাই বলতে পারে।

মানুষের জীবনের মূল্য কোনো কিছুর বিনিময়ে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। নিজের জীবন যেমন নিজের কাছে মূল্যবান, তেমনি অন্যের জীবন তার কাছে মূল্যবান। যারা এমন নৃশংসতায় মেতে ওঠে তাদের পরিবারে যেমন একজন কর্মক্ষম ব্যক্তির প্রয়োজন আছে, তেমনি প্রতিটি মানুষের তাদের পরিবারে তাদের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এ সবকিছু জানার পরও অন্যের বিষয়টি চিন্তা না করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা কোনো সভ্য সমাজের মানুষের সুস্থ মস্তিস্কের পরিচয় বহন করতে পারে না।

বর্তমান বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের সাথে প্রভাবশালী দেশের একটা যোগসূত্র থাকার খবরটি পাওয়া যায় মিডিয়ার কল্যাণে। অনেক প্রভাবশালী দেশ একদিকে যেমন সন্ত্রাস দমনের কথা বলে, অন্যদিকে সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে অর্থনৈতিক মুনাফা লাভ করে। এ রকম অনৈতিক দ্বৈতনীতির কারণে সন্ত্রাস বেড়ে চলেছে লাগামহীনভাবে। এর থেকে মুক্তির উপায় যাদের বের করার কথা, তারাও রয়েছেন নির্বিকার।

ধর্মের নামে বাড়াবাড়িও সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। ধর্মের নামে কিছু উগ্রপন্থীরা ধর্মীয় গ্রন্থের অপব্যাখ্যা দিয়ে কিছু মানুষকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। প্ররোচনা দিচ্ছে আত্মঘাতি হতে। প্রতিটি ধর্মের প-িতদের বিষয়টি নিয়ে আরো গভীরভাবে ভাবতে হবে। বর্তমান প্রজন্ম তথা সকল শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষদের ধর্মের সত্যিকারের ব্যাখ্যা করে তাদেরকে উগ্রবাদীর কুফল থেকে দূরে রাখার শিক্ষা দিতে হবে। প্রতিটি রাষ্ট্রকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সন্ত্রাসকে সমুলে নির্মুল করতে হবে। আর তা করতে না পারলে শান্তির পৃথিবী যে একদিন অশান্তির অনলে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যাবে- তা জোর দিয়েই বলা যায়।

আরও পড়ুন: বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়