আইপিএলে ‘মেগা অকশন’

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২ ১১:২৩:৩০ পূর্বাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ- আইপিএলের ১৫তম আসরের নিলাম নিয়ে আগ্রহ এবার তুঙ্গে, টুইটারে হ্যাশট্যাগ #IPLmegaAuction উপমহাদেশ তো বটেই বেশ কয়েকটি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশে টপ ট্রেন্ডিং। এবারের আইপিএলের বিশেষত্ব হচ্ছে আগের আসর থেকে বেশিরভাগ দলই অল্প কজন ক্রিকেটার ধরে রেখে বাকিদের ছেড়ে দিয়েছে, একই সাথে দুটো নতুন দল যোগ হয়েছে এবার। এতে করে আইপিএলে দলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দশটি, নতুন যুক্ত হয়েছে আহমেদাবাদ ও লক্ষ্ণৌ ফ্র্যাঞ্চাইজ।

এবারের আইপিএলের নিলামের বিশেষত্ব হচ্ছে প্রতিটি দল ৩ থেকে ৪ জন ক্রিকেটারকে ধরে রেখেছে এবং এজন্যই এবারের আইপিএলের নিলাম অন্যবারের তুলনায় বেশি আকর্ষণীয়।

শনিবার বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে এগারোটায় শুরু হবে দুই দিনের এই মেগা অকশন বা ক্রিকেটারদের নিলাম, চলবে রবিবার রাত অব্দি।

ব্যাঙ্গালুরুতে হচ্ছে এবারের নিলাম, যেদিকে চোখ থাকবে শুধু ক্রিকেট সমর্থকই না, বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫৯০ জন ক্রিকেটারেরও, যাদের মধ্যে ৩৭০ জন ভারতীয় এবং ২২০ জন অন্য দেশ থেকে, পাঁচজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারও আছেন এই তালিকায়।প্রাথমিকভাবে এই নিলামে অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন ১২১৪ জন ক্রিকেটার।

এবারের আইপিএলে নিজ নিজ দেশের জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়া ২২৮ জন ক্রিকেটার নিলামে উঠবেন, ৩৫৫জন ক্রিকেটারের নাম আছে নিলামে যারা এখনো জাতীয় দলে খেলেননি, এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহযোগী দেশগুলো থেকে সাতজন ক্রিকেটার থাকছেন নিলামে।

ক্রিকেটারদের দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে
১০ জন ক্রিকেটার আছেন যাদের মার্কি ক্রিকেটার বা আইকন ধরা হচ্ছে, এই দশজনের মধ্যে একজন করে প্রতি দলে যাবেন।তারা হলেন- রাভিচান্দ্রান আশ্বিন, ট্রেন্ট বোল্ট, প্যাট কামিন্স, কুইন্টন ডি কক, শেখর ধাওয়ান, ফ্যাফ ডু প্লেসি, শ্রেয়াস আইয়ার, কাগিসো রাবাদা, মোহাম্মদ শামি ও ডেভিড ওয়ার্নার।

কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে ক্রিকেটারদের।এই ক্যাটাগরি নির্ধারিত হচ্ছে ভিত্তিমূল্য দিয়ে।সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি রুপি। এই ক্যাটাগরিতে আছেন ১৭ জন ভারতীয় ক্রিকেটার- রাভিচান্দ্রান আশ্বিন, ইয়ুজভেন্দ্রা চাহাল, দিপাক চাহার, শ্রেয়াল আইয়ার, শেখার ধাওয়ান, দিনেশ কার্তিক, ইশান কিশান, ভুবনেশ্বর কুমার, দেভদুট পাডিকাল, ক্রুনাল পান্ডিয়া, হারশাল পাটেল, সুরেশ রাইনা, আম্বাতি রাইডু, মোহাম্মদ শামি, শারদুল ঠাকুর, রবিন উথাপ্পা এবং উমেশ ইয়াদাভ।

২ কোটি ভিত্তিমূল্য ক্যাটাগরিতে ভারতের বাইরের ক্রিকেটার আছেন ৩১ জন, যেখানে প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, জেসন রয়, ডেভিড ওয়ার্নার, ফ্যাফ ডু প্লেসিদের সাথে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানও আছেন।

২ কোটি ছাড়া, দেড় কোটি ও এক কোটি ভিত্তিমূল্যের ক্রিকেটারও থাকবেন নিলামে, এমনও হতে পারে এই ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা ওপরে উল্লেখ করা ক্রিকেটারদের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছেন, এই পুরো ব্যাপারটা নির্ভর করবে যদি একজন ক্রিকেটারের ওপর একের অধিক দল আগ্রহী থাকে।

যেমন ২০০৯ সালে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ওপর আগ্রহী ছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স, শেষ পর্যন্ত কলকাতা নাইট রাইডার্সে মাশরাফীকে পায় প্রায় ৬ লাখ ডলারে, প্রায় চার কোটি টাকা, সেবার মাশরাফীর ভিত্তিমূল্য ছিল মাত্র ৫০ হাজার ডলার।

দলগুলো যেসব ক্রিকেটারদের ধরে রেখেছে
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস ধরে রেখেছে রাভিন্দ্রা জাদেজা, মাহেন্দ্রা সিং ধোনি, ইংল্যান্ডের মইন আলী ও ঋতূরাজ গাইকোয়াড়কে।দিল্লী কাপিটালসে আছেন রিশাভ পান্ত, আকষার প্যাটেল, পৃথ্বি শ ও দক্ষিণ আফ্রিকার আনরিখ নরকিয়া।

কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের নিয়মিত অধিনায়ক ইয়ন মরগানকে ছেড়ে দিয়েছে, এই দলে এখন আছেন আন্দ্রে রাসেল, ভারুন চক্রবর্তী, ভেঙকাটেশ আইয়ার ও সুনীল নারিন। দীর্ঘদিনের এই দলে খেলা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকেও ছেড়ে দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজ।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে আছেন রোহিত শর্মা, জসপ্রিত বুমরাহ, সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ ও কাইরন পোলার্ড।কিং ইলেভেন পাঞ্জাব একমাত্র দল যারা মাত্র দুজন ক্রিকেটার ধরে রেখেছে। তারা হলেন- মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও আর্মদিপ সিং।রাজস্থান রয়্যালস সাঞ্জু স্যামসন, জস বাটলার ও ইয়াশাসভি জেয়সওয়ালকে ধরে রেখেছে।রয়াল চ্যালেঞ্জার্স ব্যঙ্গালুরু ধরে রেখেছে ভিরাট কোহলি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মোহাম্মদ সিরাজ।সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে আছেন কেইন উইলিয়ামসন, আব্দুল সামাদ, উমরান মালিক।

নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ আহমেদাবাদে অধিনায়ক হিসেবে আছেন হার্দিক পান্ডিয়া। সাথে আছেন রশিদ খান ও শুভমান গিল।লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস আরেক নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ, এই দলে আছেন কেএল রাহুল, মার্কাস স্টয়নিস ও রাভি বিষ্ণয়।এবারের নিয়ম ছিল একটি দল চারজনে বেশি ক্রিকেটার ধরে রাখতে পারবে না। যার মধ্যে সর্বোচ্চ তিনজন ভারতীয় ক্রিকেটার, দুইজন ভারতের বাইরের ক্রিকেটার।

কত রুপি খরচ করতে পারবে দলগুলো
একটি দলের জন্য সর্বোচ্চ ৯০ কোটি রুপি করে ধরা হয়েছে অর্থাৎ এর বেশি অর্থ ক্রিকেটারের পিছনে ব্যয় করতে পারবে না কোনও দল। এরই মধ্যে কিছু অর্থ তারা ব্যয় করে ফেলেছে ২ থেকে ৪ জন ক্রিকেটার ধরে রাখার জন্য।

এখন চেন্নাই সুপার কিংস ৪৮ কোটি রুপি, দিল্লি কাপিটালস ৪৭.৫ কোটি রুপি, কলকাতা নাইট রাইডার্স ৪৮ কোটি রুপি , মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ৪৮ কোটি রুপি, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ৭২ কোটি রুপি, রাজস্থান রয়্যালস ৬২ কোটি রুপি, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু ৫৭ কোটি রুপি, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ৬৮ কোটি রুপি, লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস ৫৯ কোটি রুপি এবং আহমেদাবাদ ৫২ কোটি রুপি খরচ করতে পারবে।একটি দল সর্বোচ্চ ২৫ জন ক্রিকেটার রাখতে পারবে স্কোয়াডে।

কোন দেশ থেকে কতজন ক্রিকেটার আছেন নিলামে?
৫৯০ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ৩৭০ জন ক্রিকেটার ভারতীয়। এর বাইরে সবচেয়ে বেশি ৪৭ জন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের নিলাম হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার আছেন ৩৪ জন, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আছেন ৩৩ জন, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড থেকে সমান ২৪ জন করে ক্রিকেটার আছেন।২৩ জন শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার আছেন নিলামে।আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশ থেকে আছেন পাঁচজন করে ক্রিকেটার।তিনজন নামিবিয়ান ক্রিকেটার আছেন নিলামে। এছাড়া নেপালের একজন, স্কটল্যান্ডের দুইজন এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন ক্রিকেটারের নাম আছে নিলামে।

কোন কোন ক্রিকেটারের দিকে নজর রাখছে দলগুলো
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাস বলে ভারতীয় ক্রিকেটারদেরকেই শুরুতে টার্গেট করে দলগুলো, যেহেতু একাদশে মাত্র চারজন বিতেশি ক্রিকেটার রাখা যাবে, তাই অনেক সময় দেখা যায় যেসব দলে ভালো ভারতীয় ক্রিকেটার থাকেন সেসব দলই ভালো ফল পায়।

এসব ক্ষেত্রে জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটাররাই বেশি আকর্ষণ পায়।দুই হাজার আঠারো সালে চেন্নাই সুপার কিংসের সেরা পারফর্মার ছিলেন আম্বাতি রাইডু।এছাড়া গত আসরের রানার আপ কলকাতা নাইট রাইডার্সের ভেংকাটেশ আইয়ার দারুণ পারফর্ম করেন।

দলগুলোতে যারা ক্রিকেটার নির্বাচন করে তাদের তীক্ষ্ণ চোখ থাকে ভারতের ঘরোয়া লিগগুলোতে।যেমন শাহরুখ খান নামের একজন ক্রিকেটার তামিল নাডুর ক্রিকেট মাতিয়ে নজর কাড়েন এবং তিনি সুযোগ পান কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের হয়ে খেলার, এখন তিনি জাতীয় দলের সাথেও আছেন।

বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে উইকেট কিপার ব্যাটসম্যানদের চাহিদা থাকে আইপিএলে, জনি বেয়ারস্টোর মতো ক্রিকেটারদের নিতে নিলামে কাড়াকাড়ি লাগবে।

এবারে যেহেতু নতুন দল যোগ হয়েছে এবং অধিকাংশ দলেই জায়গা ফাঁকা তাই অনেকে মনে করছেন বাংলাদেশের লিটন দাসও ডাক পেতে পারেন কোনও দলে।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ মাতানো হার্ড হিটার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে নিয়ে এবার মাতামাতি হতে পারে বলছেন বিশ্লেষকরা, মাঠের চারিদিকে চার ছয় মারার যে সহজাত ক্ষমতা তার আছে তাতে এই বয়সেই এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো ক্রিকেটারের সাথে তুলনা করা হচ্ছে।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের লক্ষ্য থাকবে একজন অধিনায়ক সই করানো, ইয়ন মরগানকে ছেড়ে দেয়ার পর অধিনায়কের কোটা ফাঁকা আছে দলটির, গত মৌসুমে রানার আপ হলেও মরগানের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

এর বাইরে নজর থাকবে লেগ স্পিনারদের ওপর- আইপিএল তো বটেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে কার্যকরী ক্রিকেটার মনে করা হয় লেগ স্পিনার বা রিস্ট স্পিনারদের, যাদের বোঝা কঠিন, যে চারটি ওভার ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার দিকে নজর থাকবে দলগুলোর।

অলরাউন্ডারদের জন্যও আইপিএল একটা বড় মঞ্চ, টি টোয়েন্টি ক্রিকেটটাই মূলত ইউটিলিটি ক্রিকেটারদের সেরা জায়গা কম সময়ে নিজেকে প্রমাণ করার। সেক্ষেত্রে জেসন হোল্ডারের মতো ক্রিকেটাররা এবারের আইপিএলে একের অধিক দলের নজরে থাকবেন।

এর বাইরেও যারা ক্রিকেটার নির্বাচন করবেন এবং নিলামে থাকবে তাদের হাতে থাকবে ক্রিকেটারদের জাতীয় দলের খেলার শিডিউল, অনেক ক্রিকেট দলই ক্রিকেটারদের ছাড়বে না পুরোটা সময়ের জন্য।যেমন এপ্রিল মাসের পাঁচ তারিখ পর্যন্ত প্যাট কামিন্স, ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ থাকবেন পাকিস্তান সফরে।

এছাড়া একই সময়ে চলবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে সিরিজ, যা শেষ হবে ১১ই এপ্রিল, এই সময় কাগিসো রাবাদা, আনরিখ নরকিয়া ও মার্কো জানসেনকে পাওয়া যাবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচের আগের দিন বেশ কজন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার আইপিএল খেলতে যান।

তবে আইপিএলের জন্য এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলও আলাদাভাবে ফাঁকা জায়গা রাখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে।এবারের আইপিএলে নেই ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস।

আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার কারা
এখন পর্যন্ত আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার ছিলেন ভিরাট কোহলি, যার দাম ১৭ কোটি রুপি, তবে ২০২২ সালের জন্য তিনি নিজের মূল্য ২ কোটি কমিয়ে এনেছেন এখন ভিরাট ১৫ কোটি রুপির ক্রিকেটার খেলবেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুতে।১৭ কোটি রুপিতে নতুন দল লক্ষ্ণৌতে খেলবেন কেএল রাহুল।দুই হাজার পনেরো সালে যুবরাজ সিং দিল্লি কাপিটালসে যোগ দিয়েছিলেন ১৬ কোটি রুপিতে।

আইপিএল নিলামে যুবরাজই ছিলেন সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার, তবে পরবর্তীতে ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিস মরিসের দাম ওঠে ১৬.২৫ কোটি রুপি, তার ভিত্তিমূল্য ছিল মাত্র ৭৫ লাখ রুপি। ২০২০ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দিয়েছিলেন প্যাট কামিন্স, এই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের দাম উঠেছিল ১৫.৫ কোটি রুপি।

আরো পড়ুন : জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলার স্বপ্নে বিভোর সাগর রুনির ছেলে মেঘ

জনপ্রিয়