আটোয়ারীতে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উদযাপন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, মার্চ ৭, ২০২২ ৫:৪৭:৫৮ অপরাহ্ণ

মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
সারাদেশের ন্যায় পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতেও ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বিভিন্ন কর্মসুচির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার (৭ মার্চ) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কর্মসুচির মধ্যে পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান—এঁর ম্যুরালে পুস্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, পুরস্কার বিতরণ ,বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষন উপভোগ, ও বিশেষ মোনাজাত ছিল অন্যতম।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ তৌহিদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুসফিকুল আলম হালিম প্রথম পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এসময় উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে বাংলাদেশ পুলিশ, আটোয়ারী থানা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, যুব লীগ ,আটোয়ারী সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পৃথক পৃথকভাবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মুসফিকুল আলম হালিম।

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আলহাজ্ব মোঃ রমজান আলীর সঞ্চালনায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের উপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি অফিসার নুরজাহান খাতুন ওসি এ.কে.এম মেহেদী হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. অফিসার ডা. মোঃ হুমায়ুন কবীর, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তোবারক হুসেন, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল ইসলাম, আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল কুদ্দুশ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ৭মার্চ বাঙ্গালী জাতির জন্য আবেগের, দ্রোহের, চেতনার, আকাঙ্খার এক অপরুপ সম্মিলন ঘটান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৭ মার্চের সেই ভাষণ আজও এক অমরসৃষ্টি। বলা যায় এই একটি ভাষনের উপর ভিত্তি করেই বিশ্বে অনন্য মর্যাদায় আসীন হয় বাঙ্গালী জাতি। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়ার চুড়ান্ত আহবান। ৭ই মার্চে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু ভাষন দেওয়ার জন্য যখন মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসছিলেন, তখন আকাশ কাঁপিয়ে স্লোগান হচ্ছিল, ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো,’ ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা—মেঘনা—যমুনা,’ ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ। মঞ্চে দাড়িয়েই বিশাল জনসমুদ্রে পাকিস্তানের নিষ্পেষন থেকে বাঙ্গালীর মুক্তির মুলমন্ত্র ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি জান্তাদের জানিয়ে দেন স্বাধীনতাকামী জনতাকে আর বুলেট—বেয়নেটে দাবিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বজ্রকন্ঠে বলেছিলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব , ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আলোচনা শেষে কবিতা আবৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আরো পড়ুন : আটোয়ারীতে সরকারি গাছ কেটে সাবার

জনপ্রিয়