আন্দোলন-সংগ্রামের তীর্থস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : প্রধানমন্ত্রী

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, আগস্ট ৭, ২০২২ ৬:১৯:০৬ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের তীর্থস্থান বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি একটু পেছনে তাকাই, তাহলে দেখব যে, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ঘোষণার সময়, ভাষা আন্দোলনসহ সবকিছুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে ‘বঙ্গমাতা : এ প্যারাগন অব উইমেন লিডারশিপ অ্যান্ড ন্যাশন-বিল্ডিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্‌বোধনকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ সম্মেলন শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের পতন, তারপর আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৫ আগস্টের ঘটনা—যখন সংবিধান লঙ্ঘন করে আইয়ুব খানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মিলিটারি শাসন কায়েম করা হয়, তখন সেই মিলিটারি ডিক্টেটরের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই কথা বলেছিলেন, প্রতিবাদ করেছিলেন। এরপর জিয়াউর রহমানের পতনের পর উত্থান হলো আরেক মেজর জেনারেল এরশাদের। তার বিরুদ্ধেও হলো আন্দোলন। এ আন্দোলনেরও শুরু কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। শুধু তা-ই নয়, ১৯৯৬ সালে ভোট চুরি ঠেকাতে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেটাও হয় এখান থেকেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে যখন বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের দুঃশাসন, দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাসবাদ, বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, ১০ ট্রাক অস্ত্র চালান, গ্রেনেড হামলাসহ নানা অপকর্মের ফলে বাংলাদেশের মানুষকে যেভাবে ডিফ্লেইট করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধেও এখান থেকে প্রতিবাদ হয়েছে।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘২০০৭ সালে যখন ইমারজেন্সি আসে, তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হওয়ার পর তাদের সময় ছিল তিন মাস। কিন্তু, তারা ক্ষমতা থেকে সরে যাচ্ছিল না। তখনও সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য সংগ্রাম শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিহাসের প্রতিটি পরতে বাংলাদেশের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০০৮ সালের পর আমরা সরকারে এসে জাতির পিতার যুদ্ধবিধ্বস্ত ও স্বল্পোন্নত দেশকে আজ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। আমি মনে করি, এ সবকিছু অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। আ,র আমার বাবা, আমি, কামাল, কামালের স্ত্রীসহ পরিবারের আমরা প্রায় সবাই এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলাম। সেজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আমি সবসময় গর্ববোধ করি।’

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আমার মায়ের যে আত্মত্যাগ, তা খুব কমই উঠে এসেছে। দেশের স্বাধীনতার জন্য আমার বাবার যে সংগ্রাম, সে সংগ্রামের সারথি ছিলেন আমার মা। সবসময় আমার মা সাহস জুগিয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য বাবা বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকলেও কখনোই বিরক্ত করতেন না। বলতেন ‘আমি দেখব, তুমি চিন্তা করো না।’ সংসার সামলানোর পাশাপাশি জাতির পিতার অনেক সময়োচিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গমাতার পরামর্শ আন্দোলন-সংগ্রামে গতির সঞ্চার করেছিল।”

অনুষ্ঠিত সম্মেলন এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ উদ্‌বোধন ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মায়ের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেজন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এ উদ্যোগ সফল হোক। আমি আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্‌বোধনী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. তানিয়া হক।

আরও পড়ুন : বাংলাদেশ-চীন চারটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

জনপ্রিয়