আমাদের দেশে কর্মজীবনে ইসলামের প্রভাব কতটুকু?

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, মে ২৫, ২০১৯ ১:২০:২৪ অপরাহ্ণ
Islam

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি:
প্রতিটি মানুষই কর্মজীবী।  কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকরিজীবী। চাকরিজীবীর মধ্যে রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি। এছাড়ারও রয়েছে দোকান থেকে শুরু করে কারখানার শ্রমিক। প্রতিটি কর্মজীবী মানুষই কর্মের মাধ্যমে অর্জিত আয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু এই আয়ে যদি কোনো প্রকার ভেজাল থাকে তবে তা হবে আমাদের জন্য পরকালের সবচেয়ে ক্ষতির কারণ। হতে হবে জাহান্নামের বাসিন্দা। চলমান বার্তার পাঠকদের জন্য আমাদের আজকের আয়োজন ‘ কর্মজীবনে ইসলাম’।

কর্মজীবন (ব্যবসা):
সৃষ্টিকর্তা মানবকুলের অর্থ উপার্জনের জন্য দশটি রহমত দান করেছেন। এর মধ্যে নয়টি হলো ব্যবসায় আর একটি হলো চাকুরিতে। আমাদের দেশে ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগই দেখা যায় অসাধু। বড় বড় ব্যবসায়ীদের মাঝে সরকারি কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। এছাড়া অধিক মুনাফার জন্য পণ্যে ভেজাল মেশানো এখন মারাত্বক রূপ নিয়েছে। মাছ, তরকারি থেকে শুরু করে ফলমূলে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর পদার্থ। বাদ যাচ্ছে না শিশু খাদ্য থেকে শুরু করে নিত্য আবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য। এছাড়া পঁচা পণ্য বিক্রি, ওজনে কম দেয়া, বিভিন্ন মৌসুমে যেমন-রমজান, ঈদে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া, সিন্ডিকেট তৈরী করে মনোপলি ব্যবসার মাধ্যমে অধিক মুনাফা হাতিয়ে নেয়া এখনকার নিয়মিত ঘটনা। ব্যবসার প্রতিটি সেক্টরে বিরাজ করছে অরাজকতা।

ইসলাম কি বলে:
কোরআনে আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, “আহাল্লাল্লাহুল বাইয়া’ ওয়া র্হারামার রিবা” অর্থাৎ “আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন, আর সুদকে করেছেন হারাম।”। ইসলামী নীতি অনুযায়ী পণ্যে ভেজাল মেশানো, ওজনে কম দেয়া, বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে অধিক মুনাফা করা, খাদ্যপণ্য তিন মাসের অধিক মজুদ রাখা ইসলাম সমর্থন করে না। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসায় উল্লেখ করা হয়েছে, “তোমরা খারাপ মালের সাথে ভালো মালামালের অদলবদল করো না”। এর বিরুদ্ধে ধর্মগ্রন্থে পরকালে কঠিন শাস্তির কথা বলা আছে। ব্যবসায়ী সমাজ যদি নিজেদের আত্বশুদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসায়ী নবীজির অনুকরণে ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাহলে আমাদের সমাজের পুরো চিত্রটাই পাল্টে যাবে। তাছাড়া সরকারের উচিত এ সকল অনৈতিক কাজে জড়িত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মুসলমান হিসেবে এ সকল অনৈতিক কাজ থেকে ব্যবসায়ী সমাজ বিরত থাকলে সমাজে এখন যেমন সম্মানী ব্যক্তি হিসেবে অবস্থান করছেন, পরকালেও আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের দাবিদার হয়ে সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে নিজেদেরকে নিয়ে যেতে পারবেন।

কর্মজীবন (চাকুরি):
আমাদের দেশের কর্মজীবীদের মধ্যে অধিকাংশই চাকুরিজীবী। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ মুসলমান কাজ করছেন। বর্তমানে সরকারি অফিস সমূহে চলছে ঘুষের মহা-উৎসব। কোন কাজই আজ আর ঘুষ ছাড়া হয় না। অনেক বেসকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা অফিসগুলোতেও এর প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া আছে কাজে ফাঁকি দেয়া, সঠিক সময়ে অফিসে না আসা, অফিস চলাকালীন সময়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকা প্রায়ই অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।

ইসলাম কি বলে:
‘ঘুষ দাতা এবং ঘুষ গ্রহণকারী উভয়ই জাহান্নামি’ (তাবারানি)। দেখা যাচ্ছে ইসলামের দৃষ্টিতে ঘুষ দেয়া এবং নেয়া কোনটাই সমর্থন করে না। ঘুষের সংস্কৃতি বন্ধ করতে পারে একমাত্র সরকার প্রধান এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তি। আমরা নিজেরা অর্থ উপার্জন করি সংসারে মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানদের জন্য। কিন্তু একটি বারও কি চিন্তা করে দেখেছি, আমাদের এই অনৈতিক কাজের বিনিময়ে অর্জিত অর্থ যাদের জন্য ব্যয় করছি কিয়ামতের দিন তারা কিন্তু কেউই এর দায়ভার নিবেন না। সমস্ত দায়ভার নিজেকেই বহন করতে হবে অর্থাৎ শাস্তি ভোগ করতে হবে নিজেকে। অফিস সময়ে কাজে ফাঁকি দিলে, ঠিকমত দায়িত্ব পালন না করলে বেতনের টাকা কখনোই হালাল হয় না। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, “নামাজ তথা ইবাদত কবুলের পূর্ব শর্ত হচ্ছে হালাল উপার্জন”। হারাম উপার্জন করলে ইবাদতও হবে না, অন্যদিকে হাশরের ময়দানে নিকটজনের কেউই এর দায়ভারও নিবে না। তাহলে কেন আমরা নিজেদের ধ্বংসের পথ নিজেরাই তৈরি করছি? এক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা নিজের কল্যাণের জন্যই প্রত্যেকেরই সচেতন হওয়া একান্ত অপরিহার্য।

আগামী পর্বে পড়ুন: চলমান সমস্যা সমাধানে আলেম সমাজের ভূমিকা।

আরও পড়ুন : শান্তিময় জীবন ও সমাজ গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব

সামাজিক জীবনে ইসলাম

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়