ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সমর্থন বাড়চ্ছে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, এপ্রিল ২৭, ২০২২ ১১:০২:০৩ পূর্বাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইঙ্গিত দিয়েছে—তারা রাশিয়ার দুই মাসব্যাপী আক্রমণ মোকাবিলায় ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সমর্থন ও সহায়তা দিতে আরও দ্রুত এবং আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিয়ে কাজ করছে। খবর ভয়েস অব আমেরিকার।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটিকে বলেন, ইউক্রেনে সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র স্থানান্তর করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথমে ‘কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত’, কিন্তু, এখন প্রায় তিন দিনের মধ্যেই ইউক্রেনে নতুন অস্ত্র পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

ব্লিনকেন আরও বলেন, তিনি ও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন সপ্তাহান্তে কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করার পর, ‘তারা (ইউক্রেন) যা বলেছে এবং আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) যা দিতে পেরেছি বলে আমরা মনে করি, তাতে অনেকাংশেই একমত হয়েছে’ দুটি দেশ।

সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বলছে—জার্মানি ৫০টি উড়োজাহাজ-বিধ্বংসী অস্ত্রব্যবস্থার চালান দিয়ে শুরু করে মঙ্গলবার প্রথম বারের মতো ইউক্রেনে ভারী অস্ত্র পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

হোয়াইট হাউস বলছে—জার্মানির এ সিদ্ধান্ত রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব এক ঐক্যের বার্তা বহন করছে।

জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উড়োজাহাজ ঘাঁটিতে ৪০টি ন্যাটো দেশ এবং অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অস্টিন বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘কখনও কল্পনা করেননি যে, পুরো বিশ্ব এত দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াবে।’

ভয়েস আমেরিকা বলছে—মস্কো ইউক্রেনে আরও অস্ত্রশস্ত্র পাঠিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাজানো যুদ্ধ চালানোর জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে অভিযুক্ত করেছে এবং একটি ‘উল্লেখযোগ্য’ ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে, যে যুদ্ধটি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে।

এদিকে, ইউক্রেনের যুদ্ধ রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে পারমাণবিক সংঘর্ষে পরিণত হতে পারে বলে আভাস দেওয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অস্টিন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভকে তিরস্কার করেছেন।

ব্লিনকেন ও অস্টিন কিয়েভ সফরে গিয়ে ইউক্রেনের জন্য আরও সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার অস্টিন বলেছেন, ‘রাশিয়ার আক্রমণ ও নৃশংসতা অমার্জনীয়। আসুন, আমরা সবাই আজ নৈতিক স্বচ্ছতার অবস্থান থেকে শুরু করি। রাশিয়া এক জন ব্যক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রশ্রয় দিতে ইচ্ছা করে যুদ্ধ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন তার গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব এবং তার নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য যুদ্ধে লড়ছে।’

রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে নতুন আক্রমণ শুরু করার পর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মঙ্গলবার মস্কো সফরে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করে যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানান।

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও পুতিনকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়া ও ইউক্রেনে সঙ্গে তুরস্কের অভিন্ন সামুদ্রিক সীমানা রয়েছে। এবং এ যুদ্ধ শেষ করার জন্য তুরস্ক দুপক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেও এর আগে ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন : পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে : রাশিয়ার সতর্কবার্তা

জনপ্রিয়