ইমরান কি মেয়াদ শেষ করতে পারবেন?

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, এপ্রিল ১, ২০২২ ১১:১৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগ দাবি করছে বিরোধী দলগুলো। ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রধান মিত্র এমকিউএম বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতীয় পরিষদে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ভোটাভুটির আগে এ দাবি আরও তীব্র হচ্ছে। পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। এবার পদত্যাগ করলে দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হবেন ইমরান খানও।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চারটি বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। ১৯৫০ সালের উত্তাল দশকে প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা সংবিধানটি বাতিল করেছিলেন এবং ১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারি করা হয়েছিল।

১৩ বছর সামরিক আইনে চলার পর জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৭৩ সালে বিশেষ ব্যবস্থায় সংবিধান পাস হওয়ার পর তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৭৭ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। কিন্তু একই বছর তিনি জেনারেল জিয়া-উল-হকের নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন।

১৯৮৮ সালে বিমান দুর্ঘটনায় জেনারেল জিয়া-উল-হকের মৃত্যুর পর জুলফিকার আলী ভুট্টোর কন্যা বেনজির পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু তার শাসন মাত্র তিন বছর স্থায়ী হয়েছিল। ১৯৯০ সালে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে জাতীয় পরিষদ (সংসদের নিম্নকক্ষ) ভেঙে দেওয়ার পর বেনজিরকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

তার স্থলাভিষিক্ত হন নওয়াজ শরিফ। কিন্তু ১৯৯৩ সালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর চাপে তাকেও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়।

১৯৯৩ সালের নির্বাচনে বেনজির ভুট্টো জয়ী হননি, কিন্তু তার দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তাকে আবারও দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তার এই মেয়াদে দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে পরিপূর্ণ ছিল। ১৯৯৬ সালের ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট ফারুক লেঘারি জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন এবং ভুট্টোকে আবারও ক্ষমতাচ্যুত করেন।

১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরবর্তী নির্বাচনে নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ জয়লাভ করে। কিন্তু ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন।

মোশাররফের শাসনামলে তিনজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন- মীর জাফরুল্লাহ খান জামালি, চৌধুরী সুজাত ও শওকত আজিজ।

২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ইউসুফ রাজা গিলানি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলায় গিলানিকে দোষী সাব্যস্ত করে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার বাকি মেয়াদ রাজা পারভেজ আশরাফ পূর্ণ করেন।

২০১৩ সালে নওয়াজ শরীফ আবার প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু পানামা পেপারস মামলার কারণে তার মেয়াদ কমানো হয়। ২০১৭ সালে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণ করে এবং বাকি মেয়াদ পূর্ণ করেন শহীদ খাকান আব্বাসি।

২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন ইমরান খান। তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। তার মেয়াদও দুর্নীতির অভিযোগে পূর্ণ। বিরোধীরা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ৩ এপ্রিল পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি

আরো পড়ুন : ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

জনপ্রিয়