এটিএম বুথের নিরাপত্তায় শঙ্কিত গ্রাহকেরা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, জুন ৪, ২০১৯ ১:৩৮:৪৩ অপরাহ্ণ
ছবি : প্রতীকী

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি:
এবারের ঈদের ছুটিটা বেশ লম্বা। আর এই ছুটির দিনগুলোতে ব্যাংকের গ্রাহকদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ। গ্রাহকেরা তখন ব্যাংকের ক্রেডিট কিংবা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করেন। কিন্তু এবার দুশ্চিন্তায় ফেলেছে ক্রেডিট কার্ডের বুথগুলোতে নতুন ধরণের জালিয়াতি।

নিজের কার্ড থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা সরানোর আশঙ্কায় আছেন গ্রাহকেরা।  যদিও ব্যাংক কর্তৃৃপক্ষরা বলছে, টাকা নিয়ে গ্রাহকের উদ্বেগের কিছু নেই। ব্যাংক বা বুথ থেকে টাকা গেলে সেটি গ্রাহক ফেরত পাবেই। গ্রাহক সবসময় সুরক্ষিত। আইন অনুযায়ী তার টাকা আমি তাকে ফেরত দিতে বাধ্য”।

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে অপরাধীরাও অত্যাধুনিক প্রযু্ক্তির ইন্টারনেট আর কম্পিউটারের মাধ্যমে চুরি করছে। যত বেশি আধুনিক প্রযুক্তি আসছে অপরাধীরাও নতুন নতুন পন্থা বের করার চেষ্টা করছে।

২০১৬ সালে বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চারটি এটিএম বুথে গ্রাহকের কার্ডের তথ্য-উপাত্ত চুরি করে এটিএম থেকে অর্থ তোলার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে এসব তথ্য চুরি করা হয়েছে। ঐ সময়ের মধ্যে ঐ চারটি বুথে ১২০০ কার্ডে লেনদেন হয়েছে। তবে তথ্য চুরি ও কার্ড ক্লোন হয়েছে ৩৬ টির মতো কার্ডে এবং এভাবে প্রায় ২০ লাখের মতো অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছিলো। আর ওই ঘটনাতেও উঠে এসেছিলো কয়েকজন বিদেশী নাগরিকের নাম।

এর আগে বনানীর একটি সুপার শপে ডেবিট কার্ডে গ্রাহকরা বিল দেয়ার পর চারটি ব্যাংকের কার্ড জালিয়াতি হয়ে টাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছিলো। এসব কারণেই কার্ড ও এটিএম বুথ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কিন্তু এবার ঘটেছে আরও অভিনব ঘটনা। গত শুক্রবার রাতে ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি বুথ থেকে জালিয়াতি করে অর্থ তুলে নিলেও তার রেকর্ড পাওয়া যায়নি ব্যাংকের সার্ভারে কিংবা কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা যায়নি। অর্থাৎ টাকাটা সরাসরি এটিএম মেশিন থেকে বের করে নিয়েছে এবং কর্মকর্তারা বলছেন এখানে এক ধরণের কার্ড ব্যবহার করা হয়েছে যেগুলোর মেশিনে দিয়ে সরাসরি অর্থ বের করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ইউক্রেনের পাঁচ নাগরিককে আটক করেছে। তারা বৈধভাবেই বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। সাতদিনের ভিসা নিয়ে ৩০শে মে তারা বাংলাদেশে আসে। ৬ই জুন এখান থেকে ভারত যাওয়ার কথা ছিল তাদের। রাজধানীর পান্থপথের একটি হোটেলে তারা অবস্থান করছিলেন।

ঠিক কোন পদ্ধতিতে তারা এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করলেন সেসম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি পুলিশ। তারা কীভাবে এই কাজ করলো সেটি বিশ্লেষণ করতে এরই মধ্যে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম এর গবেষণা প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে দেশের ৫০ভাগ ব্যাংক সাইবার নিরাপত্তায় নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়্যাল সফটওয়্যার স্থাপন করেছে। বাকীগুলোতে এখনো প্রক্রিয়াধীন।

বর্তমানে সিকিউরিটি ভেন্ডরদের সাথে একযোগে কাজ করছে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার ভিত্তিক, বুথ ও গ্রাহকদের দেয়া কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। এজন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও বুথে জ্যামারের পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা বুথ ও লেনদেনগুলো সেন্টার সিকিউরিটি সিস্টেম ও কল সেন্টার থেকে মনিটর করা হচ্ছে। কিন্তু তারপর স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না গ্রাহকেরা।

কারণ, জালিয়াতরা নিত্য নতুন পন্থা বের করছে। গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা হলো, যখন কোনো নতুন পদ্ধতিতে বুথ থেকে টাকা তুলে নেয় জালিয়াত চক্র, আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই পদ্ধতির কুলকিনারা করতে যখন ব্যস্ত থাকেন, তখন জালিয়াতরা নতুন কোনো পদ্ধতি যদি ব্যবহার করে- তখন আর কিছুই করার থাকবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদের লম্বা ছুটি মাথায় রেখে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এছাড়া গ্রাহকদের জালিয়াতির বিষয়ে উদ্বেগ না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক যতই গ্রাহকদের উদ্বেগ না হওয়ার পরামর্শ দেন না কেনো, তাতে গ্রাহকেরা নিশ্চিত হতে পারছেন না। কারণ, আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোতে কম্পিউটারাইজড সিস্টেমে যে এখনো অনেক দুর্বলতা রয়ে গেছে তার প্রমাণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ চুরি থেকে শুরু করে এটিএম কার্ড জালিয়াতি। সর্বশেষ অভিনব পদ্ধতিতে বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আমাদের দেশে ফায়ারওয়াল, সফটওয়্যার এসব বিষয়ে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। আগে ব্যাংকে শুধু আইটি বিভাগ ছিলো এখন আইটি সিকিউরিটি বিভাগ হয়েছে এবং তার ব্যাপ্তি অনেক বেড়েছে”। চ্যালেঞ্জ যেমন আসছে তেমনি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যাংকগুলোও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এছাড়া  প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বুথ ও কার্ডের বিপরীতে লেনদেনকে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন : বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আমরাও চ্যাম্পিয়ন হতে পারি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়