শিরোনাম

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত; অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, নভেম্বর ২০, ২০২১ ১২:৫১:০৩ অপরাহ্ণ

সমুদ্রের অসামান্য সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক সম্পদ ও পর্যটন সেবার বহুমুখিতা সারা পৃথিবীর মানুষকে টানে। আর প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে আমাদের কার না ভালো লাগে। সমুদ্র হলে তো সেখানে আর কথায় নেই। বলা হয়ে থাকে, পৃথিবী কত দিন টিকে থাকবে সে ধারণা পাওয়া যাবে সমুদ্রের দিকে তাকালে। তাই আমরা এখান থেকেই বুঝতে পারি সমুদ্রের গুরুত্ব আমাদের জীবনে ঠিক কতটা।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটনের জন্য রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। উন্নত রাষ্ট্রগুলো এই সমুদ্র পর্যটন খাতকে কাজে লাগিয়ে তাদের অর্থনীতির খাতকে করছে শক্তিশালী। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৪৮টি স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে ২০টিতেই পর্যটন হচ্ছে রপ্তানি আয়ের প্রধান বা দ্বিতীয় প্রধান উৎস। অনেক উন্নয়নশীল দেশে, বিশেষত ক্ষুদ্র দ্বীপ দেশগুলোতে মোট জাতীয় উৎপাদনের ২৫ শতাংশই পর্যটন থেকে আসছে। তাই টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা (এসডিজি) বাস্তবায়নে পর্যটনের ভূমিকা বাড়াতে সামুদ্রিক পর্যটনে জোর দিতে হবে। সমুদ্র বিজয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৯টি মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত হলেও সমুদ্রে সম্পদ আহরণের জন্য একটি স্বাধীন মন্ত্রণালয় গঠন করা যেতে পারে।

পর্যটনের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। সমুদ্র পর্যটনের সম্ভাবনা বিপুল যা বাস্তবিক অর্থেও সত্য। কিন্তু সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর নানামুখি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেসরকারি পর্যায়ে অনেকেই উদ্যোগী হলেও তা অপ্রতুল। সরকারি সহায়তা আরো বাড়ানো দরকার বলে মনে করে সংশ্লিষ্ঠরা। পর্যটনশিল্পের ক্ষেত্রগুলোও বিকশিত করতে আরো কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যটনশিল্পকে কাজে লাগাতে সমুদ্র পর্যটনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ক. কোস্টাল ট্যুরিজম : সমুদ্র তীরকে কেন্দ্র করে বিশ্রাম ও বিনোদনভিত্তিক যে পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তাকে কোস্টাল ট্যুরিজম বা সৈকত পর্যটন বলে। সূর্যস্নান, সমুদ্রের পানিতে বিনোদনমূলক গোসল, সৈকতে হাঁটা, ঘুড়ি উড়ানো, প্যারাগ্লাইডিং, সূর‌্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা এই কোস্টাল ট্যুরিজমের আওতাধীন। খ. মেরিটাইম ট্যুরিজম : সমুদ্রকে কেন্দ্র করে যে পর্যটন তাকে মেরিটাইম ট্যুরিজম বলে। সাঁতার, সার্ফিং, উইন্ড সার্ফিং, ডাইভিং, সি—বার্ড ওয়াচিং, জলযানে চড়ে সমুদ্র—ভ্রমণ ইত্যাদি মেরিটাইম ট্যুরিজমের আওতাধীন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপীয় পর্যটকদের প্রায় ৬০ শতাংশ কোস্টাল ট্যুরিস্ট। ২০১১ সালে ইউরোপের দেশগুলো সমুদ্র পর্যটন থেকে আয় করে ১৮৩ বিলিয়ন পাউন্ড যা তাদের সমুদ্র অর্থনীতির প্রায় ৩৩ শতাংশ। পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করলে ২০৩০ সালে তা কোথায় দাঁড়াবে তা বিবেচনা সাপেক্ষও বটে। আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রুজ শিপ পর্যটনেও অনেক সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

সমুদ্র পর্যটনের খাতকে বর্ধিত করতে চাইলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া অবশ্যই জরুরি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে, পরিষেবা ভিত্তিক সেবার উন্নয়ন, সক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা, সমন্বয়, কৌশল ও পরিকল্পনার প্রয়োজন এবং আইটি ভিত্তিক সেবা গড়ে তোলা যেমন— ভিডিও তথ্যচিত্র, সামুদ্রিক ভার্চুয়াল ভ্রমণ যেটা বর্তমান সময়ে খুবই প্রচলিত।

বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন দ্বারা মাইলফলক সৃষ্টি করা সম্ভব। সময়োপযোগী ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে এক দিকে যেমন দেশের অর্থনীতির প্রসার হবে, অন্তর্ভুক্তিকরণ উন্নয়ন হবে, অপর দিকে বাংলাদেশকে আমরা এক অনন্য মাত্রায় দাঁড় করাতে সক্ষম হব। সরকার যত দ্রুত ও সহজভাবে এই পর্যটন খাত বাস্তবায়নে উপযোগী হবে তত দ্রুত প্রমাণিত হবে যে, সমুদ্র পর্যটন দিয়ে বাংলাদেশের ভাগ্য বদলানো সম্ভব।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়