করতোয়ায় নৌকাডুবিতে নিহত বেড়ে ৬৭

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ ৫:৫১:৪৭ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক:
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। তৃতীয় দিনে আরও ১৭টি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে ৫টায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

নিহতরা হলেন- হাশেম আলী (৭০) শ্যামলী রানী (১৪), লক্ষী রানী (২৫), অমল চন্দ্র (৩৫) শোভা রানি (২৭), দিপঙ্কর (৩) পিয়ন্ত (২.৫) রুপালি ওরফে খুকি রানী (৩৫), প্রমিলা রানী (৫৫) ধনবালা (৬০) সুনিতা রানী (৬০), ফাল্গুনী (৪৫) প্রমিলা দেবী, জ্যোতিশ চন্দ্র (৫৫), তারা রানী (২৫), সানেকা রানি (৬০), সফলতা রানি (৪০) বিলাশ চন্দ্র (৪৫), শ্যামলী রানী ওরফে শিমুলি (৩৫), উশোশি (৮) তনুশ্রী (৫), শ্রেয়সী, প্রিয়ন্তী(৮), সনেকা রানী (৬০), ব্রজেন্দ্র নাথ (৫৫), ঝর্ণা রানী (৪৫), দীপ বাবু (১০), সূচিত্রা (২২), কবিতা রানী (৫০), বেজ্যে বালা (৫০), দিপশিখা রানী (১০), সুব্রত (২), জগদীশ (৩৫), যতি মিম্রয় (১৫), গেন্দা রানী, কনিকা রানী, সূমিত্রা রানী, আদুরী (৫০), পূষ্পা রানী, প্রতিমা রানী (৫০), সূর্যনাথ বর্মন (১২), হরিকেশর বর্মন (৪৫), নিখিল চন্দ্র (৬০), সুশীল চন্দ্র (৬৫), যুথি রানী (০১), রাজমোহন অধিকারী (৬৫), রূপালী রানী (৩৮), প্রদীপ রায় (৩০) এবং পারুল রানী (৩২),প্রতিমা রানী (৩৯), বিষনু (৩)।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৫১ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার তুষার কা‌ন্তি রায় বলেন, সোমবার সকালে মরদেহগুলো ভেসে উঠলে স্থানীয়রা আমাদের জানায়। পরে আমরা সেগুলো উদ্ধার করি। তাৎক্ষণিক তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ও ৯ ডুবুরি উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপঙ্কর রায় বলেন, আরও প্রায় ৩৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে নিখোঁজের সংখ্যা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অন্য পারে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা নৌকাযোগে নদী পার হচ্ছিলেন। তবে ৪০ থেকে ৫০ জনের ধারণ ক্ষমতার নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে নদীর মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায়। অনেকে সাঁতরে তীরে আসতে পারলেও সাঁতার না জানা নারী ও শিশুরা পানিতে ডুবে যায়।

এদিকে ঘটনা তদন্তের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। আর আহতদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : বিপিএলে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ঘোষণা বিসিবির

জনপ্রিয়