কেশবপুরে টিকাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২২ ৭:৩১:৫৮ অপরাহ্ণ

হাফিজুর শেখ , যশোর জেলা প্রতিনিধিঃ
যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ হাজার শিক্ষার্থীকে করোনা প্রতিরোধে টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে কেশবপুর হাসপাতালে ২৮শ’ শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে। টিকাকেন্দ্রে টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো সামাজিক দূরত্ব ছিলো না। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিচ্ছে। কিন্তু লাইনে ঘা ঘেঁষে দাঁড়ানোর কারণে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হচ্ছে। এ জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুইটি বুথে টিকা দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিন টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। দূরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গাড়ি ভাড়া করে টিকা দিতে এসেছে। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে তারা। ছাত্রছাত্রীরা পৃথক দুটি লাইন করে দাঁড়িয়ে আছে। লাইন দুটি টিকাকেন্দ্রে থেকে শুরু করে প্রধান সড়কে চলে গেছে। কিন্তু সবাই দাঁড়িয়ে আছে গা ঘেঁষে এবং অনেকেরই মুখে মাস্ক নেই।

কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে ৭২ টি, মাদরাসা ৫২টি ও কলেজ ১১ টি। এর মধ্যে ১২-১৭ বছর বয়সের ২৩ হাজার ৮১২ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা কার্যক্রম শেষ করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বয়স নির্ধারণ করে একটি তালিকা দেয়া হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী দেয়া হচ্ছে টিকা।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আহসান মিজান রুমি বলেন, করোনা মহামারির প্রথম থেকে এ পর্যন্ত কেশবপুরে ৪ হাজার ২০৭ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬৭৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ৬৫১ জন।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উপসর্গ নিয়ে লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে এসে নমুনা পরীক্ষা করছেন। তবে গত দুই মাসে কেশবপুরে কারও করোনা শনাক্ত হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলমগীর হোসেন জানান, ইউনিয়ন পর্যায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফ্রীজিং এর ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে করোনা টিকা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কেশবপুর উপজেলায় শুরু করা হয় টিকা কার্যক্রম। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৭ জনকে প্রথম ডোজ ও ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৪১ জনকে দেয়া হয় দ্বিতীয় ডোজের টিকা প্রদান করা হয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়নভিত্তিক গণটিকা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। তবে এখন কমিউনিটি ক্লিনিক থেকেও টিকার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

 

জনপ্রিয়