কোনো প্রকার দুর্নীতি অনিয়ম সহ্য করা হবে না : প্রধান বিচারপতি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, এপ্রিল ১৩, ২০২২ ৫:৪০:৩৩ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে অধিকাংশ কর্মকর্তা সততার সঙ্গে কাজ করেন। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টে কোনো দুর্নীতি অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কোনো প্রকার চাটুকারিতা সহ্য করা হবে না।

আজ বুধবার জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে ‘সুপ্রিম কোর্টে সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রমের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বেঞ্চ অফিসার, বেঞ্চ রিডার ও সেকশন সুপারদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, গ্রাম থেকে অনেক মানুষ ঘর-ভিটা বিক্রি করে, শেষ সম্বল গরু বিক্রি করে আদালতে আসে, সেবা পাওয়ার আশায়। এসব মানুষকে সেবা দিতে হবে। মানুষের ভোগান্তি অনুভব করবেন। তাতে আপনি ও মানুষ উপকৃত হবেন।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সকল বেঞ্চ অফিসার, বেঞ্চ রিডার ও কর্মকর্তা সবাইকে চিনি। কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে বিচারকদের বদনাম হয়ে যায়। অধিকাংশ বেঞ্চ অফিসার সততার সাথে কাজ করছেন। কিন্তু সামান্য কিছু কর্মকর্তার কারণে বদনাম হচ্ছে। আদালতের সকল শাখা থেকে দুর্নীতিবাজ, অনিয়মকারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনাদের মনে রাখতে হবে, সবাইকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে৷

অনুষ্ঠানে লিগ্যাল এইড সুপ্রিম কোর্ট শাখার চেয়ারম্যান বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিভাগের বিচারপতি বোরহান উদ্দিন, বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বজলুর রহমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, এখানে যারা আছেন তারা কী অসচেতন? বেঞ্চ অফিসারদের সচেতনতা কেন বাড়াতে হবে? কাদের বাড়াতে হয় তা আপনারা ভালো করেই জানেন। আমাদের দায়িত্ব হবে, সকল মানুষের আইনগত সহায়তা প্রদানের। এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব। কীভাবে মামলা তালিকায় ওঠে সেটা আমরা সবাই জানি। তবে গরিব মানুষগুলো যেন সহায়তা পান। আমি মনে করি কীভাবে কাজ করতে হবে, সেটা আপনারা ভালো বুঝবেন।

ওবায়দুল হাসান আরও বলেন, রোজার দিন সবাই ভালো কাজ করলে পরদিন ভালো ফলাফল পাবেন। ভালো কাজের সাথে যত মন্দ কাজ আছে সব ত্যাগ করবেন, তাহলে আপনার দোয়া কবুল হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আপিল বিভাগের অপর বিচারপতি বোরহান উদ্দিন বলেন, মানুষের জীবনে বড় প্রাপ্তি মানুষের জন্য কাজ করা। এটার জন্য শুকরিয়া করা উচিৎ। যারা সামর্থ্যের অভাবে আসতে পারে না, তারাই আইনগত সহায়তা দাবি করেন। প্রকৃতির একটি নিয়ম আছে আপনি যা করবেন, তা আপনাকে ফিরিয়ে দিবে।

আপিল বিভাগের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, সততার মাধ্যমে কাজ করুন। তাহলে সৃষ্টিকর্তার কাছে ভালো ফল পাবেন।

লিগ্যাল এইড সুপ্রিম কোর্ট শাখার চেয়ারম্যান বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ স্থান। আপনার নিজেদের চিন্তাকে আরও প্রসারিত করুন। মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখুন। তাতে দেশ ও গরিব অসহায় মানুষেরা উপকৃত হবেন। যারা অসাধুভাবে কাজ করে, তাদের ঘৃণা করুন। এখানে যারা কাজ করেন তাদের ত্যাগের মানসিকতা রাখতে হবে। যারা দুস্থ মানুষকে সহায়তা করবেন, আল্লাহ তাদের সহায় হবেন। আপনার সন্তান, বংশ সবাই সেটার উপকার পাবেন।

আরো পড়ুন : হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

জনপ্রিয়