শিরোনাম

গল্প পড়ি জীবন গড়ি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, অক্টোবর ১৫, ২০২১ ১০:৪১:০৮ পূর্বাহ্ণ

বৃদ্ধার সেবায় হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা.
মাওলানা আবদুল মালেক
হজরত আবু বকর রা. যখন মুসলিম জাহানের খলিফা সেই সময়ের কথা। তাঁরই রাজ্যের এক কোনে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস এক অন্ধ বৃদ্ধার। খেজুর পাতার চাটাই ঘেরা জীর্ণ কুটির। শতছিন্ন বস্ত্রের মত জীর্ণ, তলায় দাড়ালে আকাশ দেখা যায়। শত দারিদ্রতায় তার দেহ শীর্ণ ও মলিন। পুত্র, কন্যা বা নিকট আত্মীয় এমন কেউই নেই, যে তার সেবা যত্ন করবে। এমন এক অন্ধ বৃদ্ধার কথা কর্ণ গোচর হল হজরত উমর রা. এর।

হজরত উমর রা. এর কানে কথা গুলো যেতেই তিনি অন্ধবৃদ্ধার সেবা শুশ্রƒষার জন্য তার নিকট গেলেন। তিনি তখন খলিফা হননি। মদিনার একজন নাগরিক। প্রতিদিন সকালে যান বৃদ্ধার নিকট। তার সেবা শুশ্রƒষা করেন। খাদ্য পানীয়ের ব্যবস্থা করেন। যা যা দরকার তা দিয়ে আসেন ঠিকমত। একদিন গিয়ে দেখলেন অন্য কেউ এসে কাজগুলি করে দিয়ে গেছেন। হজরত উমর রা. কিছুটা অবাক হলেন। বৃদ্ধাকে কিছু না বলে সে দিনের মত ফিরে এলেন। পরের দিন গিয়েও দেখলেন, তাঁর আসার পূর্বেই কে যেন সকল কাজ পরিপাটি করে সম্পন্ন করেছেন। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন বৃদ্ধার পরনে নতুন কাপড়, পাত্র ভরা পানি, দু খানা রুটি, কিছু তরকারী। পরনের পুরাতন কাপড়টা নেই, মেঝেটা পরিষ্কার করে ঝাঁট দেওয়া। সব দেখে শুনে হজরত উমর রা. বৃদ্ধাকে বললেন, কে তোমার সব কাজ করে দিচ্ছে মা? তুমি তাকে চেন? শব্দ শুনে দৃষ্টিহীন কম্পিত মুখটা উপরে তুলে বৃদ্ধা বলল, না বাবাÑ তাকে তো চিনি না, কিন্তু তিনি খুব ভাল লোক, কি সুন্দর মিষ্টি কথা! নতুন কাপড়ের এক অংশ ধরে বুড়ি বলল, এই দ্যাখো বাবাÑ নতুন কাপড় দিয়েছে, পুরোনো কাপড়টা নিয়ে গেছে পরিষ্কার করে আনবে বলে।

সব শুনে হজরত উমর রা. গম্ভির হয়ে বাড়ি ফিরলেন। পরের দিন গিয়েও দেখলেন তার আগেই কে যেন করে গেছে সব কাজ। বুড়ি মা সেবা যত্ন পাচ্ছে এটা খুবই আনন্দের কথা কিন্তু হজরত উমর রা. চিন্তিত হলেন অন্য কারণে। শুধু চিন্তিত নন, সেই অজানা মানুষটির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলেন। পুণ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি ভাবেন কে সে মদিনাবাসী? যিনি তারও আগে এসে এতবড় পূন্যের কাজ করে যান। সে দিন ফিরে যেতে যেতে ঠিক করলেন, আগামীকাল অনেক রাতে এসে বুড়ির কুঠিরের পিছনে লুকিয়ে থাকবেন আর দেখবেন কে সেই পুণ্যকামী মানুষ।

পরের রাতে সত্য সত্যই হজরত উমর রা. কুটিরের পিছনে এসে আত্মগোপন করলেন। ভোর হতে দেরি নেই। দু’একটা করে পাখ—পাখালির ডাক শুরু হয়েছে, এমন সময় কিছু খাবার, পানি আর বুড়ির পুরোনো কাপড় হাতে সেই পূণ্যকামী মানুষটি এসে দাঁড়ালেন কুটিরের সামনে। কোমল স্বরে ডাকলেন, বুড়ি মাÑ জেগে আছো না কি?

বুড়ি উঠে বসল। আগন্তুক খাদ্য সামগ্রীগুলি রেখে প্রথমে মলমূত্রগুলি পরিষ্কার করলেন। গা হাত মুছিয়ে দিলেন, কাপড় পাল্টে দিলেন, খাবার খাওয়ালেন। তারপর ঝাঁট দিয়ে ঘর সাফ করে বেরিয়ে আসার সময় বললেন এবার যাই মা Ñ বুড়ি কোন কথা বলতে পারল নাÑ তার চোখে তখন অশ্রম্নর বন্যা। কুটিরের ভিতর থেকে সেই পূণ্যকামী যেই বাইরে এসেছেন, হজরত উমর রা. ছুটে এসে তাঁর হাত ধরে সালাম জানালেন। তাঁর চোখে তখন অশ্রম্ন। সেই অশ্রম্নরুদ্ধ কন্ঠে তিনি বললেন, হে আমিরুল মু’মিনিনÑআপনি আমাকে পরাজিত করেছেন, আপনার নিকট পরাজিত হওয়াও মহা—গৌরবের।

এই পুণ্যকামী আগন্তুক হলেন মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা.। এ ঘটনা থেকে উপলব্দি হচ্ছে তিনি কেমন মহৎ মানুষ ছিলেন। কত দরদী, কত প্রজাহিতৈশী, পরোপকারী, সহজ—সরল, উদার মানুষ। আমরা এ থেকে উপদেশ নিতে পারি যে, আমরাও এমন উদার ও দরদী মানুষ হব। আল্লাহ তায়ালা তাওফিক দাতা।

আরো পড়ুন : বই কেনা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়