গাজীপুরে ট্রেড লাইসেন্স ফি এর অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, মে ২১, ২০১৯ ৯:৩১:৫৫ অপরাহ্ণ
Saiful
কোনাবাড়ী সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৫ এর লাইসেন্স সুপারভাইজার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। ছবি : সংগৃহীত

মো.শহিদুল ইসলামঃ গাজীপুর কোনাবাড়ী সিটি কর্পোরেশনে ট্রেড লাইসেন্স করতে আসা ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীদের হাতে প্রতিদিনই ট্রেড লাইসেন্স করতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ট্রেড লাইসেন্সের নতুন বই দেয়ার নামে নানা অজুহাত দেখিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হওয়ায়, তারা সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে আসেন।

কোনাবাড়ী সিটি কর্পোরেশন অঞ্চল-৫ এর লাইসেন্স সুপারভাইজার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। কোনাবাড়ী তাজমহল ডায় সেন্টারের ম্যানেজার হারুন আর রশিদ বলেন, আমাদের লাইসেন্সের বইয়ে লেখা ৬৫০ টাকা অথচ আমার কাছ থেকে নিচ্ছেন ২৫০০শত টাকা।

কোনাবাড়ীতে আরেক ওষুধ ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন জানান, আমার ট্রেড লাইসেন্স বইয়ে লেখা ১৩৫০ টাকা কিন্তু আমার কাছ থেকে নিচ্ছেন ১৮০০টাকা।

কোনাবাড়ী বেসিক মার্কেটের মোবাইল ব্যবসায়ীরা জানান, সিটি করপোরেশন লোকজন আমাদের প্রতেকের কাছ থেকেই অতিরিক্ত টাকা নিয়ে লাইসেন্স দিচ্ছে। এরকম প্রতিবছরই আমাদের অতিরিক্ত টাকা দিয়েও ভোগান্তিতে পরতে হয় আমাদের।এক মুদি ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন,সাইফুল ইসলাম ট্রেড লাইসেন্স বইয়ে লেখার চেয়ে ৩০০/৪০০টাকা এমনকি হাজারের উপরেও নিয়ে থাকেন লাইসেন্স প্রতি।

গত ১৯শে মে রবিবার, সাকিল এন্টারপ্রাইজ নামে এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স করতে গেলে তার কাছ থেকে সাইফুল ইসলাম ৩৬০০টাকা নিয়েছেন। অথচ ট্রেড লাইসেন্স বইয়ে লেখা ১৩৫০ টাকা্। প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,গত বছর আপনি আপনার ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করেননি তাই গত বছরের ফি দিতে হবে। দুঃখজনক হলো বইয়ের কোথাও গত বছরের নবায়নের ফি টাকা উল্লেখ নেই কিন্তু দিয়েছে তাকে নতুন বই। তার মানে নতুন ট্রেড লাইসেন্স করতে আসলে যেভাবে নতুন বই দেন ঠিক এভাবেই দিয়েছেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতিগ্রস্ত সাইফুল দীর্ঘ দিনধরে লাইসেন্স বাণিজ্যের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি নতুন ট্রেড লাইসেন্স ও নবায়নের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ফি ব্যতীত হাজারের উপর পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকেন। তার কথামতো টাকা পয়সা লেনদেন না করলে লাইসেন্স করতে আসা ব্যবসায়ীদের সাথে খারাপ ব্যবহার ও হয়রানির শিকার হতে হয় ব্যবসায়ী ভুক্তভোগীদের।

কোনাবাড়ী বোর্ডঘর অফিসে ট্রেড লাইসেন্স করতে আসা ওই এলাকারই ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন , মনির মিয়া, সুমনসহ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার এসব অপকর্মের কথা।

এব্যাপারে সাইফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা।  তবে সে যদি কোন দালাল ধরে আসে এবং দালালকে বেশি টাকা দেন সেই জন্য তো আমি দায়ী না।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা নাজমুল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিক হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপনি প্রমাণ নিয়ে অফিসে আসুন বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো.আব্বাস উদ্দিন খোকন জানান, সিটির চার্ট অনুযায়ী ফি নিবেন কিন্তু তার চেয়ে যদি বেশি নেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মেয়রকে অবগত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন >>

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ১৮টি ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা

গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসের দালালদের জেলে পাঠালেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

আগামী শনিবার কোনাবাড়ী ফ্লাইওভার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়