চলতি বছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক মনে করে আইবিএফবি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, জুন ২১, ২০১৯ ১১:২৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক:
২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট ইতিবাচক বলে মনে করে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)। বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে এ রকম বাস্তবায়নযোগ্য ও সম্প্রসারণশীল বাজেট প্রয়োজন ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন আইবিএফবির সভাপতি ও এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের এমডি হুমায়ুন রশিদ।

তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৫, ৭.৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ হারে চার স্তরবিশিষ্ট নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হলো। নতুন নির্ধারিত হারের কারণে মোট কর-ভার পণ্য ও সেবার মূল্যে গড়ে ২৭ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং ভ্যাট আহরণের ক্ষেত্রে দ্বৈত কর বা করের ওপর কর ব্যবস্থা চালু হতে পারে।

এতে পণ্য ও সেবার খরচ বাড়বে, যা প্রকৃতপক্ষে জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়াবে। অন্যদিকে যারা ১৫ শতাংশ হারে মূসক দেবেন তাঁরা রেয়াত সুবিধা পাবেন আর যাঁরা ১৫ শতাংশের নিচে ৫, ৭.৫ ও ১০ শতাংশ হারে মূসক দেবেন তাঁরা রেয়াতি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এ ধরনের পদ্ধতি একই আইনে দুই ধরনের নীতির পরিচায়ক। পূর্বে মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য কিনে একজন ব্যবসায়ী পুনরায় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তার নীট মূল্য সংযোজনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক প্রদান করত।

চলমান বার্তার অন্যান্য খবর>>

সৌদির কাছে অস্ত্র বিক্রি আটকে দিল মার্কিন সিনেট

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

হেরে গিয়েও যে রেকর্ড করলো বাংলাদেশ

ভালো খেলে হারলো বাংলাদেশ

কিন্তু নতুন আইনের আওতায় একজন ব্যবসায়ীকে মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য ক্রয় করে তার বিক্রয় মূল্যের ওপর পণ্যভেদে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ হারে প্রদান করতে হবে, এতে পণ্যের মূল্য আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে। প্রস্তাবিত বাজেটে অগ্রিম করের প্রস্তাব করা হয়েছে, কিন্তু এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেলের কাঁচামাল ও কম্পোন্যান্ট আমদানির ক্ষেত্রে রেয়াতি হারে শুল্ক পরিশোধ করা হয়, যেখানে কোনো নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি), সম্পূরক শুল্ক (এসডি), মূসক ও অগ্রিম মূসক (এটিভি) প্রদেয় হয় না। কিন্তু নতুন আইনের আওতায় রেয়াতি হারে শুল্ক পরিশোধের পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে, যা পরবর্তীতে সমন্বয়ের কোনো সুযোগ নেই। এতে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপ সৃষ্টি করবে।

আইবিএফবি মনে করে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরোক্ষ করের তুলনায় প্রত্যক্ষ করের অনুপাত ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কারণ পরোক্ষ কর বৃদ্ধিতে দেশের দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে প্রত্যক্ষ কর দেশের ধনিক শ্রেণির ওপর করের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

এ কারণে আরো বেশি পরিমাণ করদাতাকে করের আওতায় আনলে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা পরোক্ষ করের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতাকে অনেকাংশে কমিয়ে দেবে। শিল্পায়নের দিক থেকে যেসব বিভাগ ও জেলা তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে ভারসাম্যমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সেসব অঞ্চলের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ কারণে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর উন্নয়নের জন্য প্রণোদনা দেওয়া উচিত।

বিনিয়োগকারীরা যাতে সেসব অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহী হয় তার জন্য উদ্দীপনামূলক ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সহজে গ্যাস বিদ্যুৎ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইবিএফবির সাবেক সভাপতি এবং রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, পরিচালক এবং ড. মুজিবুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। অন্যদের মধ্যে রানার গ্রুপের পরিচালক এবং আইবিএফবির পরিচালক মোহাম্মদ আলী দ্বীন, কৃষিবিদ গ্রুপের এমডি এবং আইবিএফবির পরিচালক মো. আলী আফজাল উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন :

দিনাজপুরের হিলিতে লোহার খনির সন্ধান লাভ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়