শিরোনাম

চোখের জলে কী নিভবে ধান ক্ষেতের আগুন?

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, মে ২৮, ২০১৯ ১২:০০:১১ অপরাহ্ণ
Rice
ছবি : সংগৃহীত

দেশে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে কৃষকেরা। বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফোটার কথা। কিন্তু হয়েছে উল্টো। ধানের ক্রেতা নেই, দামও নেই। প্রতিমণ ধান উৎপাদনে যে টাকা খরচ হয়েছে, সেই ধানের বাজারমূল্য খরচের অর্ধেক। স্বাভাবিকভাবেই কৃষকেরা এখন চোখে সরষেফুল দেখছেন।

একটা সময় ছিল, এদেশের মানুষ পেটপুরে ভাত খেতে পারতেন না। আউশ আর আমন নির্ভর ধান দেশের চাহিদা মেটাতে পেরেছে খুব কমই। সময়ের পরিবর্তনে কৃষি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধিত হয়েছে। নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। আগে প্রতি বিঘায় ধান হতো ২/৩ মন। যে কারণে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই দেশের চালের চাহিদা পূরণে আমদানি করা হতো।

দিন বদলে গেছে। এখন প্রতি বিঘায় আধুনিক পদ্ধতিতে নতুন জাতের ধান উৎপাদন হচ্ছে ৩০-৪০ মন। যা সত্যি অভাবনীয়। আর এবারের ধান উৎপাদন অতীতের রেকর্ড অতিক্রম করেছে।

কিন্তু কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে প্রতিবাদে নেমেছে। ধানক্ষেত্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। দরিদ্র কৃষক চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছে।  রাস্তায় ধান ফেলে ন্যায্যমূল্য আদায়ের চেষ্টা করছে। কিন্তু তাঁদের এই যৌক্তিক চাওয়া যে পূরণ হবে- তা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ধান সংগ্রহের কথা বলা হলেও তাতে সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে হয় না। সরকার নির্ধারিত মূল্যেও কৃষকের খরচের টাকা উঠছে না। তাছাড়া দেশে যে পরিমাণে খাদ্য গুদাম আছে তার ধারণ ক্ষমতাও সীমিত।

জানা গেছে, সরকার পনের লক্ষ টন চাল রফতানি করার চিন্তা করছে। এটা হলে খুব একটা খারাপ হবে না। কারণ, আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার, থাইল্যান্ড চাল রফতানি করে থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো, বিশ্বের আমদানিকারক দেশ যে জাত বা ধরণের চাল আমদানি করে, সে ধরণের বা জাতের চাল আমাদের দেশে উৎপন্ন হয় না। তাহলে রফতানিটা করবে কোন দেশে?

রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে কৃষকের। মাথার গাম পায়ে ফেলে উৎপাদিত ধানের যদি ন্যায্য মূল্য না পায়, এর চেয়ে বেদনার আর কি হতে পারে? অতীতে দেখা গেছে, কৃষক যখন দেখেন কোনো উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাননি বা লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়েছে, পরের বছর সেই ফসল উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে, তখন আবার সেই ফসলেরই ঘাটতি দেখা গেছে। এখন কৃষক যদি আগামীতে ধান চাষ বন্ধ করে অন্য কোনো ফসলের দিকে ঝোঁকে, তখন আবার ঠিকই বেশি দামে চাল আমদানি করতে হবে। যা আমাদের জন্য সুখকর হবে না।

আমাদের দেশ কৃষি নির্ভর দেশ। কৃষকেরা যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ধান চাষ করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন, আমরা চাই, সরকার ভূর্তুকি দিয়ে হলেও কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে দিবেন। কারণ, কৃষকের জন্যই আমরা বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনে অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থানে উন্নীত হয়েছি। আমরা চাই, ধানের এই উৎপাদনের ধারা অব্যাহত থাক। লাভবান হোক আমাদের কৃষকেরা।

আরও পড়ুন :

শাস্তির বদলে পুরস্কার পাচ্ছেন ঋণ খেলাপিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ

জনপ্রিয়