শিরোনাম

জলবায়ু পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী চার দাবি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, নভেম্বর ৭, ২০২১ ১১:২৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় শুরু হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ২৬তম জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ২৬)। সম্মেলনের মূল অধিবেশনে ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম—সিভিএফ’—এর সভাপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের সামনে চারটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, (১) কার্বন নিঃসরণকারীদের অবশ্যই উচ্চাভিলাষী জাতীয় পরিকল্পনা (এনডিসি) দাখিল এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে, (২) উন্নত দেশগুলোকে অভিযোজন এবং প্রশমনে অর্ধেক অর্ধেক (৫০ঃ৫০) ভিত্তিতে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, (৩) উন্নত দেশগুলোকে স্বল্প খরচে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সরবরাহ করতে হবে এবং (৪) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার মতো দুর‌্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত জলবায়ু অভিবাসীদের দায়িত্ব নেয়াসহ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ক্ষতি ও ধ্বংস মোকাবিলা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী। এ প্রস্তাবের প্রতি বিশ্বনেতাদের মনোযোগী হতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের যেসব দেশ সবচেয়ে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর্দ্রতা কমে আসার পাশাপাশি তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের মাত্রা বাড়ছে। অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়সহ অতি গরম আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে আমাদের উপকূলীয় এলাকা এবং সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারসহ অন্যান্য এলাকা।

গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের পরিবেশবিরোধী নানারকম ক্রিয়াকলাপের ব্যাপক বৃদ্ধি এবং কয়লা, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই—অক্সাইড, ক্লোরোফ্লুরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি ‘গ্রিনহাউস’ গ্যাসের উপস্থিতি বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে উষ্ণতা বেড়ে গিয়ে তা প্রভাবিত করছে পৃথিবীর জলবায়ুকে। বিশেষ করে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের এই পরিবর্তনগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নানারকমের স্বাস্থ্য সমস্যা ডেকে আনছে। সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত কৌশল প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি মোকাবিলার মতো বড় কাজে সাফল্য অর্জন করা একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন আশা করছি বিশ্বনেতৃবৃন্দ তা গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করবেন এবং যথাযথ ও কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সেই সাথে আমাদের চারপাশের পরিবেশ সুরক্ষার জন্যও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া জরুরি। শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, পানিদূষণের মতো ক্ষতিকর অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ আবশ্যক।

আরো পড়ুন : করোনার ভ্যাকসিন; বুস্টার ডোজের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে

সর্বশেষ

জনপ্রিয়