জাপার এমপিকে শোকজ, দলের ভিতর তোলপাড়

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, জুন ৪, ২০১৯ ১২:০৬:৫৪ অপরাহ্ণ
ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক:
‘অঙ্গীকার’ বাস্তবায়ন না করায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সংরক্ষিত আসনে দলের মহিলা এমপি অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে নোটিস পাঠিয়েছেন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। এজন্য ‘কেন প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ সকল পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করা হবে না, ১০ দিনের মধ্যে তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে।’

এদিকে পার্টির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বলছেন, এই ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। মনোনয়ন বাণিজ্য কম-বেশি অনেক রাজনৈতিক দলেই হয়ে থাকে, কিন্তু এভাবে লিখিত দলিল করে শর্ত সাপেক্ষে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের জন্য লজ্জার। কারণ দর্শানোর নোটিসের মধ্যদিয়ে দলটিতে কোন্দল আবারও চাঙ্গা হয়েছে।

চলমান পত্রিকার আরো খবর পড়ুন>>

ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার কে এই সুন্দরী?

বিশ্বকাপ মানেই ভিন্ন কিছু

কেমন পুরুষ পছন্দ বাংলাদেশি মেয়েদের?

জানতে চাইলে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠি দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তাই মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। দলের মহাসচিব এমন চিঠি দিয়ে থাকলে এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।

এ প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, এখন ঈদের সময়। দলের অনেক খরচ। দলের দুটি কার্যালয়ে স্টাফ আছেন ৫২ জনের মতো, তাদের বেতন-বোনাস মিলিয়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা লাগে। এরকম নানা খরচ রয়েছে। মনোনয়ন দেওয়ার সময় মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী অঙ্গীকার করেছিলেন যে তিনি চট্টগ্রামে দলকে সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখবেন, সেখানে অফিস নেবেন, দল চালাবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এ ছাড়া দুই বছর ধরে মাসিক চাঁদা পরিশোধ করেননি। এখানে আর গোপন কোনো অঙ্গীকার ছিল না। উনার (মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী) লিখিত সন্তোষজনক জবাব আশা করছি।

এদিকে মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে সানজীদ রশীদ চৌধুরী বলেছেন, প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তার মা জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এখন দলের মধ্যে তিনি জি এম কাদেরের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, তার মা কোনো চিঠি পাননি। তার মাকে সামাজিকভাবে হেয় করায় আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ বিক্ষোভ হয়েছিল। দলটির নেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে মনোনয়নের জন্য টাকা দিয়েও মনোনয়ন পাননি বলে অভিযোগ করেছিলেন। পরে সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগের মুখে পড়ে জাতীয় পার্টি।

মাসুদা রশীদ চৌধুরীকে গত ২০ মে ‘সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত) হওয়ার পর অঙ্গীকার ভঙ্গেও নোটিস প্রসঙ্গে’ পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন রাঙ্গা। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের ফোরামে কিছু শর্ত সাপেক্ষে আপনাকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়। যার কপি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে। আপনার স্বাক্ষরিত পার্টি সংক্রান্ত অঙ্গীকারপত্রও আছে। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় আপনার দেওয়া অঙ্গীকারগুলো আপনি যথাযথভাবে পালন করেননি।’ চলতি একাদশ সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রধান বিরোধী দল জাপার মোট চারজন সদস্য রয়েছেন। মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী ছাড়াও অবশিষ্ট তিনজন এমপি হলেন সালমা ইসলাম, অধ্যাপিকা রওশন আরা মান্নান ও নাজমা আক্তার।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা-৬ আসনের জাপা দলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, যখন সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল, তখন আমি ছিলাম সৌদি আরবে। সেখান থেকে দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাকে ফোন করে বলেছিলাম- আমি পাঁচ কোটি টাকা দেব, আমার মেয়েকে মনোনয়ন দিন। বলেছিলাম- স্যার (এইচএম এরশাদ) অসুস্থ, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি দলের নামে নেই। যে চারজনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ কোটি করে ২০ কোটি টাকা দিয়ে সেটি পার্টির নামে দলিল করে সেখানে ‘এরশাদ ভবন’ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিন। তারা দুজন আমাকে বলেছিলেন-ঠিক আছে। আমি এটাও বলেছিলাম, টাকাটা দলের ব্যাংক তহবিলে আমরা জমা দেব। দেশে ফিরেও তাদের দুজনকে আমি একই কথা বলি। বলেছিলাম, পাঁচ কোটি টাকার কমে কিন্তু কাউকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। আমার মেয়ে মনোনয়ন পেতে সাক্ষাৎকারও দিয়েছিল। কিন্তু তাকে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সেই কারণে আমি ধরে নিয়েছি, হয়তো আরও বেশি টাকার প্রার্থী পাওয়া গেছে বিধায় আমার মেয়ে মনোনয়ন পায়নি। বাংলাদেশ প্রতিদিন।

আরও পড়ুন:

যাত্রী ভোগান্তি চরমে, অভিযোগ রিজভীর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়