শিরোনাম

টিআইএনধারীরা আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, এপ্রিল ১০, ২০১৯ ১০:২৮:১৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) রয়েছে, কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা দেন না, এমন টিআইএনধারীদের জরিমানা করার বিষয়টি ভাবছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, টিআইএনধারী রয়েছে ৪০ লাখ, অথচ রিটার্ন জমা দেন ১৮ লাখ। আগামী বাজেটে রিটার্ন জমা দেওয়াকে বাধ্যবাধকতায় আনতে ব্যবস্থা থাকবে। এ ক্ষেত্রে কিছু জরিমানা আরোপ করা যায় কি না সেটি বিবেচনা করব। এ ছাড়া বাজেটে আয়কর বিষয়ে কিছু সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি। গতকাল বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপার্সের (পিডাব্লিওসি) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় বসে এনবিআর। একই দিন বিকেলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বারের (এফআইসিসিআই বা ফিকি) সঙ্গেও আলোচনায় বসে এনবিআর।

দেশে টিআইএনধারী ব্যাপকহারে বাড়লেও এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রিটার্ন জমাদানকারী বাড়ছে না। এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এনবিআরে। বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশের ৭৫ ধারায় কারা আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট করে বলা আছে। তারা রিটার্ন জমা না দিলে সুদ ও জরিমানার বিধানও রয়েছে। তবে ওই শ্রেণির বাইরে টিআইএনধারীরা রিটার্ন জমা না দিলে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানার কথা বলা নেই।

সব টিআইএনধারীকে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতায় আনতে বিদ্যমান ডিজিটাল ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি। আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, রিটার্ন জমা দেওয়া টিআইএনধারীদের খুঁজে বের করার সুযোগ এনবিআরের হাতে রয়েছে। মোবাইল ফোনে কল দিয়ে, এসএমএসে, ই-মেইল কিংবা ডিজিটাল ব্যবস্থায় এটি করা সম্ভব। তাদের ওপর সামাজিক ও নৈতিক চাপ তৈরি করা যায়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত কালো টাকার বিস্তারের ইস্যুটি তোলেন। তিনি বলেন, গত দুই বছরে দেশে কালো টাকার পরিমাণ সাত লাখ কোটি টাকা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অনেককে সুযোগ দেওয়ার পরও কতটুকু অর্থনীতির মূল স্রোতে এসেছে তা দেখতে হবে। এদিকে জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিকি। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর সফটওয়্যারসহ নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য সময় দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন ফিকি সভাপতি শেহজাদ মুনিম। তিনি বলেন, আইনটি কিভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে বাজারে গুজব রয়েছে। পরিকল্পনা দরকার। তিনি বলেন, বাজেটে যেসব পরিবর্তন আনা হয়, এর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তার বিশ্লেষণ করে তা প্রকাশ করা দরকার।

আরও পড়ুন: সব চেষ্টা বিফল করে না ফেরা দেশে চলে গেলেন নুসরাত

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়