ঢাকার বাসিন্দাদের যেসব তথ্য জানাতে হবে পুলিশকে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯ ৮:২৬:২৭ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক:
‘নিজে নিরাপদ থাকুন অন্যকে নিরাপদে রাখুন’ – এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ‘নাগরিক তথ্য সংগ্রহ সপ্তাহ ২০১৯’ কার্যক্রমটি চলছে ২১শে জুন পর্যন্ত। এ সময় ঢাকা মহানগরীর ৫০টি থানায় একযোগে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ করা হবে। তিন বছর পর আবার ঢাকার বাসিন্দাদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগরীর উপ পুলিশ কমিশনার মোঃ মাসুদুর রহমান বলছেন, ”নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম। পুলিশের কাছে বাসিন্দাদের তথ্য থাকলে কোন অপরাধী যেমন সহজে অপরাধ করার সাহস করবে না, তেমনি কোন ঘটনা ঘটলে আমরা সহজেই অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবো।”

সম্প্রতি ঢাকার পুলিশের ওপর কয়েক দফা বোমা হামলার ঘটনা ঘটে, যেসব হামলার দায় স্বীকার করেছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস। এ প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএস মতাদর্শীরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে নগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরো জোর দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

চলমান বার্তার অন্যান্য খবর>>

বাজেটের অসঙ্গতি দূর করা হোক

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ কি আসন্ন? 

রাজনীতির সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই: মির্জা ফখরুল

এসএসএফকে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এর আগে ২০১৬ সালে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর, যখন দেশজুড়ে জঙ্গি বিরোধী অভিযান চলছিল, তখন প্রথমবার নাগরিকদের এ ধরণের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিজের নাম পরিচয় লুকিয়ে জঙ্গি বা অপরাধীরা যাতে লুকিয়ে থাকতে না পারে, সেজন্যই এই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম।

নাগরিকদের যেসব তথ্য পুলিশকে জানাতে হবে:
ঢাকার বাসিন্দাদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশের একটি ফর্ম রয়েছে। প্রতিটি থানার বিট অফিসাররা তাদের এলাকার বাসিন্দাদের এই ফর্মটি পূরণ করে তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করবেন।

তথ্য ফরম

সেখানে ভাড়াটিয়া/বাড়ীওয়ালার নাম, পিতার নাম, জন্ম তারিখ, বৈবাহিক অবস্থা, স্থায়ী ঠিকানা, পেশা ও কর্মস্থলের ঠিকানা, ধর্ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জরুরী যোগাযোগ নম্বর, পরিবারের সদস্যদের বিবরণ, গৃহকর্মী ও ড্রাইভারের বিবরণ, আগের বাসার বাড়িওয়ালার নাম, ফোন ও ঠিকানা (ভাড়াটিয়াদের ক্ষেত্রে) ইত্যাদি তথ্য দিতে হবে।

ফর্মে ভাড়াটিয়া বা মালিকদের এক কপি ছবি সংযুক্ত করতে হবে। এই ফর্মের একটি কপি বাড়ির মালিক সংরক্ষণ করবেন, অপর কপিটি স্থানীয় থানায় জমা দিতে হবে।

পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলছেন, ”সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমস নামের একটি বিশেষ সফটওয়্যারে এসব তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ইউনিক ইনডেক্স নম্বর থাকে। ফলে সেই নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্র, অথবা মোবাইল নম্বর দিয়ে সার্চ দিলেই কাঙ্ক্ষিত নাগরিকের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।”

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এর ফলে কারো আগে জঙ্গি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস থাকলে তাকে নজরদারি করা সহজ হবে। আবার অপরাধীরাও নজরদারিতে থাকার কারণে সহজে কোন অপরাধ করার সাহস করবে না।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৩ জুন ২০১৯ সাল পর্যন্ত ২২ লাখ পরিবারের ৬৩ লাখ নাগরিকের তথ্য ওই সফটওয়্যারে সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে বাড়িওয়ালা আছেন ২ লাখ ৪১ হাজার ৫০৭ জন, ভাড়াটিয়া ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯৪ জন, মেস সদস্য ১ লাখ ২১ হাজার ৪০ জন, অন্যান্য ১, ১০০ জন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮২১ জন ও ড্রাইভার বা গৃহকর্মী হিসাবে আছে ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৪ জন।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তথ্য প্রদানকারীর তথ্য গোপন থাকবে। পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলছেন, ”২০১৬ সাল থেকে আমরা নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করছি। কিন্তু এই তিন বছরে কোন তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতেও যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি। শুধুমাত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই আমরা এসব তথ্য সংগ্রহ করছি।”

কোথায় তথ্য দিতে হবে?
ঢাকার ৫০টি থানা বা পুলিশ স্টেশনে ওই এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এজন্য এসব থানার বিট অফিসাররা সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক, সামাজিক বা পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মিলে প্রতিটি বাড়ি যাচাই করে দেখবেন যে, কেউ বাদ পড়েছে কিনা। বাদ পড়লে তাকে ফর্ম দিয়ে তথ্য পূরণ করে ফেরত নেবেন। এছাড়া বাসিন্দারা চাইলে ডিএমপি ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম নামিয়ে পূরণ করে স্থানীয় থানায় জমা দিতে পারবেন। এসব ফর্ম পরে ডিএমপি হেডকোয়াটার্সে পাঠিয়ে দেয়া হবে। সেখানে এসব তথ্য সিআইএমএস সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।পরবর্তীতে পুলিশ দৈব চয়ন ভিত্তিতে যাচাই করে দেখবে সবার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা। সেখানে বাদ পাওয়া গেলে পুনরায় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

আরও পড়ুন :

নিরাপত্তার নামে দেশে ফেরত প্রবাসীদের এ কেমন হয়রানী?

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়