তামিমের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের স্বস্তি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, মে ১৭, ২০২২ ৮:১৫:৫৩ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
টেস্টের দ্বিতীয় দিনই সাবলীল ব্যাটিংয়ে বড় ইনিংস খেলার আভাস দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তৃতীয় দিন ঠিক তাই হলো সাগরিকায়। নিজের চেনা ব্যাটিং ছন্দে পুরো দুই সেশন দাপট দেখালেন তিনি। তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি। বাঁহাতি ওপেনারের দাপুটে দিনে চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে স্বস্তিতে বাংলাদেশ।

আজ মঙ্গলবার টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে তিন উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩১৮ রান। দিন শেষে উইকেটে ৫৩ রানে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তাঁর সঙ্গে ৫৪ রানে অপরাজিত লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা থেকে আর মাত্র ৭৯ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

আউট হননি তামিম ইকবালও। তবে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ড্রেসিং রুমে ফিরেছেন তিনি। দিনের দুই সেশনে ব্যাট করেছেন তিনি। সেঞ্চুরিতে খেলেছেন ১৩৩ রানের চমৎকার ইনিংস। ২১৭ বলে তাঁর ইনিংসে আছে ১৫টি বাউন্ডারি। তাঁর ইনিংসজুড়েই ছিল কর্তৃত্বের ছাপ। তবে সেঞ্চুরি পাওয়ার পর কিছুটা ক্র্যাম্পে ভুগতে দেখা যায় তাঁকে। যার কারণে তৃতীয় সেশনে আর মাঠে নামেননি তিনি। তৃতীয় সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং সামাল দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস।

সাগরিকায় বিনা উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে আজ দিন শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে অবিচ্ছেদ্য থেকে জুটি অক্ষত রাখেন তামিম ও জয়। দুজনেই এই সেশনে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি।

৩৯ রানে দিন শুরু করে দিনের পঞ্চম ওভারেই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। অফস্পিনার রমেশ মেন্ডিসকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পঞ্চাশের দেখা পেয়ে যান বাঁহাতি ওপেনার। ক্যারিয়ারের ৩২তম টেস্ট হাফসেঞ্চুরি করতে তামিম খেললেন ৭৩ বল।

তামিমের সঙ্গে থাকা জয়ও পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরির দেখা। আসিথা ফার্নান্দোর বল লেগ সাইডে পাঠিয়ে দুই রান নিয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন জয়। হাফসেঞ্চুরি পেতে জয় খেলেন ১১০ বল। পাঁচ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি।

হাফসেঞ্চুরিতে দুই ওপেনার প্রথম সেশন ভালোভাবে পার করেন। কিন্তু লাঞ্চ বিরতির পর হঠাৎ ছন্দ হারালেন জয়। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই ফার্নান্দোর ফাঁদে পড়ে বিদায় নিতে হলো তরুণ এই ওপেনারকে। ১৪২ বলে ৫৮ রান করে আউট হয়েছেন জয়।

এরপর উইকেটে এসে টিকলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত। ২ রানেই তাঁকে বিদায় করেছে লঙ্কানরা। আউট হয়ে ফিরেছেন অধিনায়ক মুমিনুল হকও। প্রথম সেশন দারুণ কাটানোর পর দ্বিতীয় সেশনে হঠাৎ ছন্দপতন হয় বাংলাদেশের। এই এক সেশনে তিন উইকেট হারায় মুমিনুল হকের দল।

কিন্তু স্রোতের বিপরীতে ছিলেন তামিম। উইকেটে থিতু হয়ে তুলে নেন সেঞ্চুরি। লঙ্কান পেসার আসিথা ফার্নান্দোকে পুল করে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৯৫ থেকে ৯৯-এর ঘরে যান তামিম। এর পরের বল লেগ সাইডে পাঠিয়ে এক রান নিয়ে পেয়ে যান শতকের দেখা। শতক হাঁকাতে বাঁহাতি ওপেনারের লেগেছে ১৬২ বল। এর মধ্যে হাঁকিয়েছেন ১২টি বাউন্ডারি। সেঞ্চুরির পর আরো ৩৩ রান যোগ করে বিশ্রামে যান তিনি।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে স্কোরবোর্ডে ৩৯৭ রান তুলেছে শ্রীলঙ্কা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা ম্যাথুজ খেলেছেন ১৯৯ রানের ইনিংস। ৩৯৭ বলে তাঁর ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৯টি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা দিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস : ১৫৩ ওভারে ৩৯৭/১০ (ফার্নান্দো ৩৬, করুনারত্নে ৯, মেন্ডিস ৫৪, সিলভা ৬, ম্যাথুজ ১৯৯ , চান্দিমাল ৬৬, ডিকভেলা ৩, মেন্ডিস ১, এম্বুলদেনিয়া ০, বিশ্ব ১৭, ;সাকিব ৩৯-১২-৬০-৩,নাঈম ৩০-৪-১০৫-৬,তাইজুল ৪৮-১২-১০৭-১ ,শরিফুল ২০-৩-৫৫-০,খালেদ ১৬-১-৬৬-০)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১০৭ ওভারে ৩১৮/৩ (তামিম ১৩৩*, মাহমুদুল ৫৮, মুমিনুল ২, শান্ত ১, মুশফিক ৫৩, লিটন ৫৪ ;বিশ্ব ৮-০-৪২-০, ফার্নান্দো ১৬-২-৫৫-১, মেন্ডিস ৩১-৮-৮৩-০,এম্বুলদেনিয়া ২৭-৬-৬২-০, ডি সিলভা ১৩-২-৩৯-০, কাসুন ১১-৪-১৭-২)।

আরও পড়ুন : তামিম-মাহমুদুলে আশার আলো

জনপ্রিয়