তিন দিনের রিমান্ডে সু-প্রভাতের সেই ঘাতক বাসের মালিক

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, এপ্রিল ৫, ২০১৯ ১২:০০:০৫ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরীকে চাপা দেয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার সু-প্রভাত পরিবহনের বাসটির মালিক ননী গোপালের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার বিকেলে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বাকি বিল্লাহ তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে তার আইনজীবী ইয়ার খান রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এ মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা আসামির বিরুদ্ধে যায় না। এ গাড়ির ড্রাইভার-হেলপার রিমান্ডে আছে। কিন্তু মালিকতো আর গাড়ি চালাইনি। তাহলে কেন রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রত্যেক মালিক তো বলবেই যে নিরাপদ স্থানে গাড়ি সরিয়ে নেয়ার কথা। এটি তো অপরাধের কিছু নেই। রিমান্ড চাওয়ার কোনো যুক্তিগত কারণ নেই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির চালকের হালকা লাইসেন্স ছিল। কন্ডাক্টরের কোনো লাইসেন্স ছিল না। তারপর মালিক কন্ডাক্টরকে গাড়ি চালাতে নির্দেশ দিয়ে অপরাধ করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর মুগদা থেকে ননী গোপালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

উল্লেখ্য, ১৯ মার্চ সকাল ৭টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রগতি সরণি এলাকায় সু-প্রভাত (ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) বাসের চাপায় বিইউপির শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরী নিহত হন।

এদিন দিবাগত রাতে নিহত আবরারের বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আরিফ আহম্মেদ চৌধুরী বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়- বাসের চালক সিরাজুল ইসলাম, তার সহকারী, কন্টেকটার ও মালিককে। মামলার ধারা পেনাল কোডের ২৭৯/ ৩৩৮ (ক)/৩০৪/ ও ১০৯। মামলা নং ৩০।

মামলার অভিযোগে বাদী বলেন, বাসটির চালক বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে বাড্ডার দিকে থেকে প্রগতি সরণি রোড দিয়ে কুড়িলের দিকে যাওয়ার পথে গুলশান থানাধীন শাহাজাদপুরের বাঁশতলায় পথচারী সিমথিয়া সুলতানা মুক্তাকে (২০) চাপা দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

আবারও বেপরোয়াভাবে দ্রুতগতিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাড়ি চালিয়ে গুলশান থানাধীন নর্দ্দা আইকন টাওয়ারের সামনে প্রগতি সরণির পাকা রাস্তার ওপর জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় আমার ছেলে আবরার আহাম্মেদ চৌধুরীকে চাপা দিয়ে বাস তার মাথার ওপর দিয়ে চালিয়ে যায়। ফলে তার মাথা থেতলে মগজ বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে সে মারা যায়। সূত্র: কালের কণ্ঠ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়