দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালু হতে পারে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, জুন ৭, ২০১৯ ২:৫১:৩৮ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা অনলাইন ডেস্ক:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালুর লক্ষ্যে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত উভয় দেশের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক যৌথ সভায় ভারত-বাংলাদেশ অংশের সড়কপথের উন্নয়নের কথা বলা হয়। একই সঙ্গে সড়ক উন্নয়নের সময় বিকল্প রুট হিসেবে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দৌলত্গঞ্জ ও ভারতের মাঝদিয়া অংশের সড়ক ব্যবহার করে আমদানি-রফতানি চালু করার বিষয়ে মত দেয়া হয় সভায়।

দর্শনা ল্যান্ড কাস্টম স্টেশন দপ্তর থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ ও ৯ অক্টোবর ভারতের নয়াদিল্লিতে ‘জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমসে’র ১২তম যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রেলওয়ে ওয়াগনে দর্শনা-গেদে রুটের মাধ্যমে মালামাল আমদানি-রফতানি চালু রয়েছে। পাশাপাশি জনসাধারণ যাতায়াত করছে বাংলাদেশের দর্শনার জয়নগর চেকপোস্ট ও ভারতের গেদে দিয়ে। সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সড়কপথে আমদানি-রফতানির বিষয়টি তোলা হলে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের দর্শনার জয়নগর চেকপোস্ট অংশের ২০০ মিটার ও ভারতের গেদে অংশের ৮০০ মিটার রাস্তা খুবই সরু। ভারতের অংশের রাস্তাটি উন্নয়নের কাজে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এরই মধ্যে হাত দিয়েছে। সেক্ষেত্রে দর্শনা অংশের রাস্তা প্রশস্ত করতে বাংলাদেশকে আহ্বান জানানো হয়।

উভয় দেশের সড়ক উন্নয়নকালীন সময় বিকল্প রুট হিসেবে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দৌলত্গঞ্জ ও ভারতের মাঝদিয়া অংশ দিয়ে সড়কপথে আমদানি-রফতানি চালুর বিষয়ে ভারতের কাছে প্রস্তাব রাখে বাংলাদেশ। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু রাস্তা উন্নয়নের কারণে এখনই দর্শনা-গেদে দিয়ে সড়কপথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু করা সম্ভব নয়, সেজন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জীবননগরের দৌলত্গঞ্জ ও ভারতের মাঝদিয়া দিয়ে সড়কপথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু করতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার দৌলত্গঞ্জ ও ভারতের মাঝদিয়া দিয়ে ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত সড়কপথে ল্যান্ড কাস্টম স্টেশনের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি চালু ছিল। ইন্দো-চায়না ও ইন্দো-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে ওই স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। আবার সেটির কার্যক্রম ১৯৭২ সালে চালু হয়। পরবর্তীতে সেটি ফের বন্ধ হয়ে যায়।

দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালু হলে দুুই দেশে আমদানি-রফতানির দ্বার উন্মোচনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে এ বন্দর এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা স্থল শুল্কস্টেশনের উপকমিশনার আব্দুল আলীম জানান, বাংলাদেশের দর্শনার সঙ্গে ভারতের রেল যোগাযোগের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি চালু রয়েছে। ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে সপ্তাহের বন্ধের দিন ছাড়া দর্শনা হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন ভারতের কলকাতার চিত্পুর পর্যন্ত যাতায়াত করছে। এক্ষেত্রে ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য দেশে আমদানি হলেও কোনো পণ্য রফতানি হচ্ছে না। রেলে পণ্য আমদানি করার ফলে দর্শনা অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে না। কারণ আমদানি করা পণ্য সবই রেল যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের চাহিদামতো নির্দিষ্ট রেলস্টেশনে গিয়ে খালাস হচ্ছে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও বেশি ট্রাকের প্রয়োজন পড়ছে না। যে কারণে এখানে যথেষ্ট পরিমাণ কর্মসংস্থান হচ্ছে না।

তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর চালু হলে দর্শনা একটি ব্যবসার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে। এখানে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা চালু হবে, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রাক-লরি ভাড়া, বেশি সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিদিন ভারত থেকে (৪২টি রেল ওয়াগন) ১ র্যাকের অধিক এবং ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য দর্শনায় ঢুকলে সেগুলো খালাস করতে ২০০ ট্রাক ও কয়েকশ শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান। ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। বর্তমানে যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মালপত্র নিয়ে ৫০০-৬০০ ট্রাক আসে; সেগুলো খালাস করতে তিন থেকে ১৮ দিন সময় লাগে। এতে আর্থিক ক্ষতির শিকার হন সংশ্লিষ্টরা। দর্শনা পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হলে সেখান দিয়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০টি ট্রাকের পণ্য খালাস করা সম্ভব হবে, এতে বেনাপোল স্থলবন্দরের ওপর থেকে চাপ কমবে এবং আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্টদের আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে।

আব্দুল আলীম আরো বলেন, ২০১৮ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে ‘জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমসে’র যৌথসভায় জীবননগরের দৌলত্গঞ্জ ও ভারতের মাঝদিয়া দিয়ে সড়কপথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু করতে রাজি হলেও এটার বাস্তব রূপ দেয়া সম্ভব নয়, কারণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অর্থাৎ জীবননগরের দৌলত্গঞ্জে কোনো অবকাঠামো নেই, যেটা আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেক্ষেত্রে দর্শনার অবস্থান সুবিধাজনক। সেখানে ভারতের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২০০ মিটার রাস্তা দ্রুত প্রশস্ত করা সম্ভব ও মালামাল সংরক্ষণের জায়গা এখানে বিদ্যমান। সূত্র: দেনিক বণিক বার্তা।

আরও পড়ুন:৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ : ওবায়দুল কাদের

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ

জনপ্রিয়