দিন মজুরি থেকে সফল ব্যাবসায়ী নান্নু মিয়া

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, নভেম্বর ৮, ২০২২ ৫:০১:২৮ অপরাহ্ণ

এম হামিদুর রহমান লিমন, রংপুর ব্যুরো প্রধানঃ
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথ ইউনিয়নের মাদারপাড়া গ্রামের মোঃ আয়াত আলী সরকার এর পুত্র মোঃ নান্নু মিয়া ১৯৮৪ সালের ২৮ শে অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। নান্নু তিন ভাই এর মধ্যে ছোট। নান্নু অভাবের কারণে স্কুল এর গুন্ডি পার হতে না পারলেও তিনি নিজেকে সফল ব্যাবসায়ী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন বলে জানান নান্নু মিয়া। নান্নু দুই সন্তানের জনক। একজন ছেলে আর একজন মেয়ে।

নান্নু মিয়া বলেন,আমি অভাব অনাটনের সংসারে বেড়ে উঠেছি । আগের গম এর আটার পিঠা আর আলু সিদ্ধ খেয়েই দিন কাটতো। আর আমার স্বপ্ন ছিল ছোট থেকেই আমি ব্যাবসা করব আর মা বাবাকে দেখা শোনা করব। আর লেখাপড়ার কথা বলতে আগে তো পুরাতন বই কিনে নিয়ে পড়তে হত। যার কাছ থেকে নিতাম তাকে তিন ভাগের এক ভাগ টাকা দিয়ে কিনে নিতে হত। আর সেই বই নিয়ে আমি লেখা পড়া করতাম। আমি ওয়ান থেকে ফাইভ পযর্ন্ত ফাইভ এ ছিলাম দুইবার। তার পর খেতমতপুর হাই স্কুলে ভর্তি হলাম। ক্লাস সিক্স থেকে নাইন পযর্ন্ত লেখাপড়া পড়া করার পর আমার মনে হল যে আমি যে চলে ফিরে খাব। বর্তমান সংসারে টানাটানি খুব এবং খাওয়া দাওয়ার সম্যসাা খুব। এই দেখে আমি চিন্তা করলাম আমি ঢাকা। তারপর ঢাকা গেলাম। তার পর ঢাক মধু গিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ এর মত রিকশা চালাইলাম।তার আর গ্রামে ফেরত আসলাম। তার কিছুদিন পর আমি আবার ঢাকায় গেলাম যাওয়ার পর আমি এবার মালিবাগে প্রায় এক থেকে দুই মাস গ্যার্মেন্স এ কাজ করলাম। তার পর আবার গ্রামে ফিরে এসে সুপারি এর ব্যাবসা করছি প্রায় দুই বছরের মত। তার পর ঢাকাই গিয়ে সুইটার ফ্যাক্টরিতে ছিলাম প্রায় দেড় মাস। তার চাকরির মাঝে মাঝে প্রতি শুক্রবার রিকশা চালাইতাম। যে টাকা আয় হত রিকশা চালাই সেটা পুরোটাই বাড়ি পাঠাই দিতাম। তিনি আরো বলেন, একদিন রিকশা নিয়ে ঢাকা কাওরান বাজারে যাত্রী নিয়ে গিয়ে দেখি আমাদের রংপুর এর বারমা আলু। দেখি শুধু আলু নয় আমাদের এলাকার আলু আর কচু বিক্রি করে। আমি আমি ভাবলাম এখন থেকে আলু, কচু বিক্রি করব ওখান থেকে। তারপর চাকরি ছেড়ে দিয়ে গ্রামে এসে দুই তিন বস্তা বারমা আলু নিয়ে যা কাওরান বাজার আর গেন্ডা বাজারে বিক্রি করা শুরু করলাম। এটা প্রায় চৌদ্দ থেকে পনের বছর আগের কথা। আমার বাবা একটা বন্দক রেখে ব্যাবসা করতে দিয়েছি এক সময় এসে সেই টাকা টাও ফুরিয়ে যায়। তখন যেহেতু আমার টাকার দরকার ব্যবাসা করব। তখন মেয়ে দেখা শুরু করলাম। যে যৌতুক নিয়ে ব্যাবসা করব। মামারা মেয়ে দেখল বিয়ে হল কিন্তু মামারা যৌতুক ছাড়া বিয়ে ঠিক করল। বিয়ে করলাম।তার পর আমি বিয়ের পর গ্রামে কামলা দিয়ে রানীগঞ্জ গিয়ে ছিলাম গিয়ে দেখি ধান কাটা কাটি শেষ হয়ে গেছে পড়ে হাতের কাস্তা পাঁচ টাকাদিয়ে বিক্রি করে রুটি খেয়ে আর ভাড়া দিয়ে বাসায় আসলাম পরে আমার নুুতুন বৌ এর সাথে গল্প করলাম কি করা যায়। তখন আমার বৌ বলল আমার বাবার কাছে দশ হাজার টাকা আছে। আমি সেই টাকা নিয়ে আসি আমি গয়না নিব না বাবা মার কাছ থেকে নিবনা। পরে সেই দশ হাজার টাকা দিয়ে একটি কচু জমি কিনলাম।তার পর এভাবে টুকটাক ব্যাবসা করতে করতে মোটামুপিট ভালই চলতে শুরু করল। তার পর আমার সাথে পলাশবাড়ীর মকবুল ভাই আমার সাথে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে শেয়ার পার্টনার সহ। পরে তিন লক্ষ টাকার মত লাভ হলে দেড় লক্ষ টাকা করে দুই জনে ভাগ করে নিলাম। তার পর এই টাকা নিয়ে আমি আলুর ব্যাবসা শুরু করলাম। আমি তখন মকবুল ভাইয়ের আলু কোল্ড ষ্টোওে বেচা কেনা করতাম তারপর আমার পাশের এক বড় ভাই শাহীন সর্দার ওনি আরোদদারী ব্যাবসা করত। তার সাথে কাজ করতে করতে পরে আলাদা হলাম। আমি পরে প্রায় দশ বার জন ব্যাবসায়ীদের সাথে কমিশনে ব্যাবসা শুরু করলাম। ব্যবাসা করতে করতে আমি এমন অবস্থায় এসে দাড়ালাম পড়ে আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যান নির্বাচনে দাড়াল তখন তিনি আমাকে ডেকে বলল নান্নু ভোর্ট খেলা লাগবে। তার ভোর্ট করলাম তার নির্বাচনে জয়ি হবার পর আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম তার পর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী কৃষকলীগ এর ইউনিয়ন সভাপতি করে দিলেন। তবে বর্তমান রোড এর কাজ চলছে বর্তমান ব্যাবসা স্থগিত। বর্তমানে আমি একটু সমস্যায় আছি। আর তার উপর আবার আলু এর বাজার দাম ভাল না। তার পরে আমি আজ সফল ব্যাবসায়ী। আমার সফল ব্যাবসায়ী হিসাবে আজ নিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পিছনে অনুপ্রেরণা হল আমার বাবা মায়ের দোয়ার আর বৌয়ের অনুপ্রেরণায় আজ আমাকে সফল ব্যাবসায়ী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি। তবে আমি রাজনীতি বীদ হিসাবে পরিচয় দেয়ার চেয়ে একজ ব্যবাসায়ী হিসাবে পরিচয় দিতে ভাল বাসি। আর আমি যেহেতু অভাব এর কারণে লেখাপড়া করতে পাড়ি নাই সেই দুঃখ থেকেই আমি গরীব ও অসহায় ছাত্র/ছাত্রীদের সহযোগীতা করি বলে দাবী করেন নান্নু মিয়া।

নান্নু মিয়ার বাবা মোঃ আয়াত আলী সরকার বলেন, আমি আজ গর্বীত্ব পিতা। আমার তিন ছেলেই নিজেদের সফল করতে পেরেছে। এক ছেলে ডাক্টার, এক ছেলে মাওলানা আর নান্নু ব্যাবসায়ী। আমি নান্নু এর ভবিষ্যৎতে আরো ভাল কিছু করবে আমি সব সময় দোয়া করি। আমার ছেলেরা যেন ভাল থাকে আর যনে সব সময় থাকে দুধে ভাতে।

আরও পড়ুন :বোদা পৌরসভার তফসিল ঘোষণা, ২৯ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ

জনপ্রিয়