দেড় মিনিটে আওয়ামী লীগ নেতা টিপুকে হত্যা!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, মার্চ ২৫, ২০২২ ৬:০০:০৮ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
রাজধানীর শাহজাহানপুরে ‘ফিল্মিস্টাইলে’ মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ওরফে টিপুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সময় একই গাড়িতে ছিলেন তার বন্ধু মিজানুর রহমান। পুরো ঘটনাটি তিনি দেখেছেন।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে মিজানুর হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় যানজটে আটকে ছিল টিপুর মাইক্রোবাস। ওই সময় মুখোশধারী কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তার মাইক্রোবাস লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। মাইক্রোবাসের কাচ ভেঙে টিপুর শরীরে একাধিক গুলি লাগে। চালক মুন্নাও গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় যানজটে আটকা পড়ে রিকশায় বসে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন ওরফে প্রীতি (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

ওই গাড়িতে সে সময় চারজন ছিলেন। তাদের মধ্যেই একজন মিজানুর রহমান।

এদিকে টিপুকে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ মার্চ) দুপুরে নিহতের স্ত্রী শাহজাহানপুরের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ফারজানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে শাহজাহানপুর থানায় হত্যা মামলাটি করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহজাহানপুর থানার ওসি মনির হোসেন মোল্লা বলেন, কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।

মামলার এজাহারে ডলি বলেন, আমার স্বামী মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। আমার বাবার মতিঝিল কাঁচাবাজার এলাকায় একটি রেস্টুরেন্ট আছে। আমার স্বামী রেস্টুরেন্ট দেখাশোনা করতেন। আমার স্বামী বৃহত্তর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের ১০ বছর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন দলীয়ভাবে কোন্দল ছিল। গত ৪-৫ দিন আগে আমার স্বামীকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনের মতো গতকাল (বৃহস্পতিবার) মাইক্রোবাস নিয়ে গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্নাসহ তিনি হোটেলের উদ্দেশে যাওয়ার জন্য রওনা হয়। মতিঝিল এজিবি কলোনির গ্র্যান্ড সুলতান নামে রেস্টুরেন্ট কাজ শেষে বাসায় আসার পথে রাত আনুমানিক সোয়া দশটার দিকে শাজাহানপুর মানামা ভবনস্থ বাটার দোকানের সামনে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। এ সময় গুলির কারণে আমার স্বামীর গলার ডান পাশে, বুকের বাম পাশে, বুকের বাম পাশের বগলের কাছাকাছি, পেটের মধ্যে নাভির নিচে, বাম কাঁধের ওপরে, পিঠের বাম পাশের মাঝামাঝি স্থানে, পিঠের বাম পাশের কোমর বরাবর, পিঠের ডান পাশের কোমরের ওপর মারাত্মক জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন। দুষ্কৃতিকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করার সময় প্রীতি নামে এক পথচারীও নিহত হন।

আরো পড়ুন : সরকার স্বাধীনতা পদকেও ‘আত্মীয়করণ’ করেছে : ফখরুল

জনপ্রিয়