নরেন্দ্র মোদির পুনর্বিজয়ে কতটা স্বস্তিতে বাংলাদেশ?

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, মে ২৪, ২০১৯ ৩:০৩:১১ অপরাহ্ণ
Jyoti

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি:
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। দ্বিতীয়বারের মতো দিল্লীর মসনদে বসতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। বহু বছর ধরে উপমহাদেশে ভারতের পরিচিতি ছিল ‘ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির’ একটি মডেল হিসেবে। তবে ভারতে পরপর দুটো নির্বাচনে বিজেপির জয় বাংলাদেশে যারা সেক্যুলার রাজনীতি করতে চায় তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়বে।

বাংলাদেশ সরকার যে ভারত সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে এবং আগামীতেও রাখতে চাইবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের সে চাওয়ার প্রতিদান পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে বিজেপি সরকারের মনোভাবের উপর। ভারতে যদি সেক্যুলার রাজনীতি না চলে, এবং তারা যদি আমাদের চারিদিকে শুধুমাত্র নির্বাচনে জেতার জন্য বিদ্বেষের রাজনীতি আরম্ভ করে দেন, তখন সরকারের পক্ষে সে জিনিসটা ম্যানেজ করা চ্যালেঞ্জিং হবে।

ভারতের রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি যেভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের উপরে থাকবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা ভারতের রাজ্যগুলোতে এবারের নির্বাচনে বিজেপি বেশি আসন লাভ করেছে।

ভারত বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। বাংলাদেশে যে দলই সরকার গঠন করেছে তারাই ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বর্তমান সরকারও চাইবে তা অব্যাহত থাক। তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের মনোভাবের বিষয়টির প্রতিও নজর দিতে হবে। কারণ, বিজেপি’র বিগত সরকার বাংলাদেশের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়েই ভারত ছাড় দেয়নি। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের অনাগ্রহ তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

এছাড়া সাম্প্রতিক বছরে ভারতের আসাম রাজ্যে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ায় ৪০ লাখ অবৈধ নাগরিকের তালিকা করেছে, যাদের বেশিরভাগই মুসলমান। এদেরকে নিয়ে বিজেপি’র সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য এই ৪০ লাখ মানুষকে শংকিত করে তুলেছে। তাদের অনেকেই ধারণার করছে যে, তাদেরকে হয়ত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মতো দেশত্যাগে বাধ্য করা হবে, নয়তো রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকার সব সময় ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে। এদেশে অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ধর্ম পালন করে আসছে। কিন্তু ভারতে গরু ইস্যু নিয়ে প্রায়ই অস্থিরতা বিরাজ করে। এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে মুসলমানকে পুড়িয়ে হত্যা, শূকরের মাংস খাওয়ানো সহ ঘটেছে নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনা। কিন্তু তার প্রভাব এদেশে বসবাসকারী হিন্দুরা মোটেও শংকিত হননি।

প্রতিবেশী দেশের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক অনেকটাই নির্ভর করে দেশের জনগণের ওপর। তবে ধর্মীয় অনুভূতির ক্ষেত্রে কখনো কখনো জনগণ অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে এবং যার প্রভাব পড়ে সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে সেগুলো দমন করতে না পারলে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বিঘ্নিত হয়- যা কোনো দেশের জন্যই কাম্য নয়।

আরও পড়ুন : ১০ লাখ টাকায় কেনা মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়