নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হচ্ছেনা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্ধ পাওয়া মোংলার পুকুর খনন কাজ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : সোমবার, মে ২৭, ২০১৯ ৯:৫৮:৫৭ অপরাহ্ণ
Mongla
ছবি : মাসুদ রানা

মাসুদ রানা: মোংলা প্রতিনিধি
মোংলা উপজেলার আড়াইলক্ষ মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মিটাতে জেলা পরিষদের মালিকানা আটটি পুকুর সংস্কার করার (বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উপযোগী করে তুলতে) জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিশেষ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে এসব পুকুর গুলো খনন কাজ শেষ না হওয়ার আশংখ্যা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন চলার পর আবারও বন্ধ হয়ে পড়ছে সংস্কার কাজ। সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদাররা বলছেন,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্তৃক দেয়া প্লান ও ওয়ার্ক ওয়াডার মাফিক তাদের পুকুর খনন করতে না দেয়া হচ্ছে না। এ দিকে পানিয় জলের চাহিদা মিঠাতে দূর্যোগকালীন সময়ে পানি সরবরাহের ব্যবহ্যত মোবাইল ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এর মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি।

লবন অধ্যাষিত নদী সংলগ্ন মোংলার ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষদের পানিয় জলের চাহিদা মেটাতে কয়েক বছর আগে আটটি পুকুর খনন করে জেলা পরিষদ। আর এ পুকুর গুলো সংস্কারের দায়িত্ব পড়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপর। সবকটি পুকুর সংস্কারের জন্য গেল বছরের প্রথম দিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (বাগেরহাট) প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ পায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে। দরপত্রের নিয়মানুসারে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে ২০১৯ সালের জুন মাসে সবকটি পুকুরের খনন কাজ শেষ করার কথা।

কিন্তু ২৭ মে সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়,মিঠাখালী ইউনিয়নে ৫টি আর সুন্দরবন ইউনিয়নে ৩টি পুকুরের খনন কাজ বন্ধ রয়েছে। ওয়ার্ক ওয়াডার দেয়ার ১১মাস অতিবাহিত হলেও কয়েক দিন কাজ করার পর আবারও বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।

মিঠাখালী ইউনিয়নে ৫টি পুকুরের খনন কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইমন এন্টারপ্রাইজ ও যাকা উল্লাহ বাদ্রার্স। প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিনিধি খলিলুর রহমান জানান, দরপত্রের নিয়মানুসারে ১৪ ফুট গভীরতা করতে হবে প্রতিটি পুকুর। কিন্তু সাত ফুট পুকুর খনন করলে পানি উঠছে তাই আমাদের জনস্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম মেনে ড্রেজার দিয়ে পলি তুলতে হচ্ছে। কিন্তু ওই পদ্ধদিতে পলি তুলতে বাধা দিচ্ছেন স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা। তাদের বাধার কারনে নিদিষ্ট সময়ে শুরু হওয়া পুকুরের খনন কাজ বন্ধ করে দিতে বাদ্য হয়েছেন তারা।

এর ফলে এসকেভেটার আর ড্রেজার মেশিনের ভাড়া দিয়ে তাদের কয়েক লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। ঠিকাদেরর ওই প্রতিনিধি দাবি করেন,তাদের আংশিক কাজ করা হয়েছে। বাধা সৃষ্টি করা না হলে দ্রুত তারা কাজ শুরু করবেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর তাদের রানিং বিল পরিশোধ করতে গড়িমশি করছেন। অন্য দিকে ৩টি পুকুরের সংস্কার কাজ করছে মেসার্স শামিম এন্টার প্রাইজ। তাদেরও একই অভিযোগ।

তবে এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার দাবি করেন,সরকারী বরাদ্ধের টাকা সঠিক ভাবে কাজে লাগানোর জন্য তারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খনন কাজ তদারকি করেছেন।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাগেরহাট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী শামিম আহাম্মেদ বলেন,আমরা কাজের শুরু আর সমাপ্তির সময় স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে করে থাকি। আমাদের দেয়া প্লান মোতাবেক ঠিকাদারকে কাজ করতে দেয়া হলে নিদিষ্ট সময়ে সবকটি পুকুরের সংস্কার কাজ সমাপ্ত হতো। ঠিকাদার আর জনপ্রতিনিধির দন্ধের কারনে দীর্ঘ দিন ওই পুকুরের খনন কাজ বন্ধ ছিলো। এখনি কাজ না করতে পারলে সামনে বর্ষায় পুকুরে পানিতে ভরে যাবে। তখন আর খনন কাজ চালানো স¤ভব হবেনা। এ দিকে তিব্র গরমে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মিটাতে সোমবার থেকে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (দূর্যোগ কালীন সময়ে ব্যবহ্যত) দিয়ে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। মোংলা পোট পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জুলফিকার আলী পানি সরবরাহের উদ্ধোধন করেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্তাবধানে থাকা প্লান্টটির চালক মোহাম্মদ হোসেন জানান, সোমবার প্রথম দিন পাঁচ হাজার লিটার পানি এলাকায় সরবরাহ করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফেতর পর্যন্ত চলমান থাকবে এ পানি সরবারহের কার্যক্রম।

আরও পড়ুন :মোংলায় জমে উঠেছে ঈদবাজার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়