নুসরাতের মতো জান্নাতি হত্যার বিচারও দ্রুততার সাথে করা হোক

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, জুন ১২, ২০১৯ ১১:২২:০০ পূর্বাহ্ণ

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সরকারের শীর্ষ মহল থেকে পুড়িয়ে দেওয়া নূসরাতের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চলে যায় নূসরাত।

নুসরাত মারা যাওয়ার পর এই হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দুই মাসের মধ্যে সোনাগাজীর ওসি মোয়াজ্জেম বাদে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। ওই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ ও অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২০ জুন দিন ধার্য করেছেন সেখানকার আদালত। সরকারের তড়িৎ পদক্ষেপে নুসরাতের পরিবার আশা করছে, তারা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে। আমরাও সেটাই প্রত্যাশা করি।

নুসরাতের মতো একই অবস্থা হয়েছে নরসিংদীর দশম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতি আক্তারের (১৬)। গত ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী শিপলু, শাশুড়ি শান্তি বেগম ও ননদ ফাল্গুনী বেগম জান্নাতির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি তারা। পরে এলাকাবাসীর চাপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ৪০ দিন যন্ত্রণার পর গত ৩০ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।

জান্নাতিকে হত্যার পর পৌনে দুই মাস পার হলেও হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। পরবর্তীতে আদালতে মামলা হয়। কিন্তু মামলার প্রায় দুই মাস পাড় হলেও আজ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি পিবিআই। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে জান্নাতির হত্যাকারীরা। হত্যাকারীদের অব্যাহত হুমকির মুখে ভয়ে ও আতঙ্কে দিন কাটছে জান্নাতির পরিবারের সদস্যদের।

মৃত্যুর আগে আগুন দিয়ে পোড়ানোর বর্ণানা দিয়ে গেছে জান্নাতি। তার আর্তনাদ কেঁপে উঠেছিল পুরো হাসপাতাল চত্বর। পাশের বেডে থাকা এক রোগী ভিডিও ধারণ করেছে তার করুণ আর্তনাদ। সেখানে দেখা গেছে, মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিল সে। তীব্র ব্যথা সইতে না পেরে দরিদ্র বাবার কাছে ব্যথানাশক একটি ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেছিল। সে বলছিল, ‘তোমার কাছে জীবনে আর কিছুই চাইব না বাবা। একটি ব্যথানাশক ওষুধ দাও।’ কিন্তু দরিদ্র বাবা সেই ইনজেকশন কিনে দিতে পারেননি। জান্নাতির সে আশা হয়ত পূরণ হয়েছিল। তার পরও জান্নাতি চলে গেছে পৃথিবী থেকে। নিয়ে গেছে প্রেমের কুৎসিত অভিজ্ঞতা নিয়ে।

জান্নাতি প্রেমের টানে ঘর ছাড়লেও যৌতুক ও মাদক ব্যবসার কাছে নতি শিকার করেনি। মাদক ব্যবসায়ী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কঠোর বিচার আশা করছি। আশা করছি যেমনিভাবে নুসরাতের মামলা দ্রুততার সাথে আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তেমনিভাবে জান্নাতিকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার বিচার আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতি দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়