পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ : মির্জা ফখরুল

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২ ১০:৩৬:০২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠি, বন্দুক, টিয়ারশেল দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। বিএনপির নয় সরকারের কোমর ভেঙে গেছে। আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পুলিশ ও অস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ছাত্রসমাবেশ বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ সমাবেশের আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈরাজ্য তৈরি করেছে সরকার। ভোটাধিকার রক্ষায়, গণতন্ত্রের জন্য মানুষ যখন জেগে উঠতে শুরু করেছে, তখন আন্দোলন দমন করার জন্য সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গিয়ে সমানে মিথ্যাচার করছে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে। তাদের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় এই কথা শুনে বাংলাদেশের মানুষ হাসছে। পনের বছর ধরে অত্যাচার, নির্যাতন করা হচ্ছে। দায়িত্ব একটাই সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সরকারকে পরাস্ত করতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সময় এখন আছে, উল্টাপাল্টা কথা না বলে সেফ এক্সিট নেন। পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। নতুন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

ছাত্রসমাবেশে যোগ দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা ফুল নিয়ে গেছে, আর তাদের আপ্যায়ন হয়েছে লাঠি দিয়ে। সরকার ঘোষণা দিলো লাঠি নিয়ে মিটিং মিছিল করা যাবে না। অথচ ছাত্রলীগ লাঠি নিয়ে হামলা চালালো। বিএনপি লাঠি খেলা খেলে না। আওয়ামী লীগের লাঠি খেলার অতীত ইতিহাস রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ মিছিল সভা করতে চায়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে এ সকল বাধা আসবে। বিএনপি সকলকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, বাধা এলে ছাড় দেওয়া হবে না। ইভিএম নিয়ে নির্বাচনের স্বপ্ন সরকারের আশায় গুড়েবালি। দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়তে প্রস্তুত।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে উপাচার্য। বিএনপি লাঠির ওপর ভর করে না। যদি আঘাত করেন, পাল্টা আঘাত করা হবে। আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারকে সরানো হবে। খালেদা জিয়াসহ আটক নেতাকর্মীদের মুক্ত করা হবে। বুকের রক্ত দিয়ে সরকারকে প্রতিরোধ করা হবে।

ছাত্রদলের সভাপতি রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হকসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

আরও পড়ুন : বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশের ডাক দিলো বিএনপি

জনপ্রিয়