পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চার মাসে মিলল পৌনে ৪ কোটি টাকা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, মার্চ ১৩, ২০২২ ১১:১৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স চার মাস পর খুলে এবার রেকর্ড তিন কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ টাকা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি টাকা ছাড়াও দানবাক্সে ডলার, পাউন্ড, রিয়াল, দিনার, রিঙ্গিত, দিনার ও বিপুল স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে।

এর আগে গত বছরের ৬ নভেম্বর সর্বশেষ দানবাক্স খোলার পর তিন কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৫ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়। সেগুলো থেকে টাকা খুলে প্রথমে ১৫টি বড় বস্তায় টাকা ভরা হয়। এরপর প্রায় টানা ১২ ঘণ্টা ধরে টাকা গণনা চলে। টাকা গণনায় মসজিদ ও মাদ্রাসার শতাধিক ছাত্র-শিক্ষক, রূপালী ব্যাংকের ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ ও আনসার এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলমসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে রূপালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ বিভাগীয় জিএম হেমন্ত কুমার দাসের তত্ত্বাবধানে টাকা গণনার কাজ সম্পন্ন হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম মসজিদের দানবাক্সে তিন কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ টাকা পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এটা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অর্থ প্রাপ্তি। প্রাপ্ত দানের টাকা থেকে পাগলা মসজিদের এবং এই মসজিদ কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত মাদ্রাসা, এতিমখানা ও কবরস্থানের ব্যয় নির্বাহ করাসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় সহায়তার পাশাপাশি গরিব ছাত্র ও দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক কাজেও টাকা দেওয়া হয়।

সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট তিনতলা বিশাল পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় অবস্থিত পাগলা মসজিদটি প্রথমে ১০ শতক জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে এর আয়তন আরও বাড়ানো হয়। মসজিদের প্রায় চার একর জায়গা রয়েছে।

কথিত আছে প্রায় ৫০০ বছর আগে বাংলার ১২ ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী ১২ জন জমিদারের অন্যতম ঈশা খাঁর আমলে ‘দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা’ নামে একজন ব্যক্তি নদীর তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তী সময়ে ওই স্থানটিতে মসজিদটি নির্মিত হয়। জিল কদর পাগলার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়।

আরো পড়ুন : শাবান মাসের আমল ও ফজিলত

জনপ্রিয়