প্রতিটি আঘাতের জবাব দেওয়া হবে : রিজভী

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৭, ২০২২ ৬:২২:৩২ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক:
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে সরকার। কিন্তু নিউটনের তৃতীয় সূত্র মনে রাখবেন। প্রতিটি আঘাতের সমান ও বিপরীত জবাব দেওয়া হবে। কাউকে গ্রেপ্তার করে বিএনপির আন্দোলন ঠেকানো যাবে না। তারা সবাই আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করবে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘এই সরকারের একজন মন্ত্রী যিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, উনি প্রতিদিন বলেন খেলা হবে। এটা তো ফিউচার টেনসে বলেছে, প্রেজেন্ট টেন্সে বলবে না খেলা চলছে। আপনি কামরুজ্জামান রতনকে গ্রেপ্তার করেছেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা কামালকে গ্রেপ্তার করেছেন। এটা কি খেলার অংশ না? সারা দেশে সমাবেশ যাতে না হয়, তার জন্য অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। এটা কি খেলার অংশ? বিএনপির সমাবেশের দুই দিন আগে বাস মালিকদের ধর্মঘট ডাকে এটাও তো আপনার খেলার অংশ। কারণ আপনার নির্দেশ ছাড়া এই বাস মালিক সমিতি ধর্মঘট ডাকার কথা না। বিএনপির সমাবেশ শেষে তাদের ধর্মঘটও শেষ হয়। এটা তো ওবায়দুল কাদের ও শেখ হাসিনার খেলার অংশ।’

রিজভী বলেন, ‘খেলা দেখাচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি নিয়ে। বিদ্যুতের নাকি বন্যা বয়ে গেছে। হাইওয়ে, বড় বড় ফ্লাইওভার উন্নয়নে গোটা দেশ ছড়িয়ে গেছে। দেশের মানুষের আয় বেড়েছে ২১৩৪ ডলার। আবার প্রধানমন্ত্রী একবার বলছে দুর্ভিক্ষ হবে, আবার বলছে হবে না। এই যে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী। মানুষের যদি এত আয় বেড়ে থাকে, তাহলে দুর্ভিক্ষ হবে কেন? কিন্তু দুর্ভিক্ষ চলছে। সরকারি চাল ৩০ টাকা কেজি যে ট্রাকগুলোতে দেবে, সেই ট্রাকগুলোর পিছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ দাঁড়িয়ে থাকছে চালের জন্য। এটাই তো দুর্ভিক্ষের আলামত। ওবায়দুল কাদের ফিউচার টেন্সে বলেন খেলা হবে। কিন্তু খেলা তো চলছে। মানুষের আহার নিয়ে, খাদ্য নিয়ে, ভোগান্তি নিয়ে। এসব দেশের জনগণ দেখছে। এর হিসাব কিন্তু আপনাকে একদিন দিতে হবে।’

বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলে রিজার্ভে নাকি এখনও ৩৫ মিলিয়ন ডলার আছে। আইএমএফ বাংলাদেশ ব্যাংককে বললো হিসাব দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক বললো ২৪ মিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আছে। আওয়ামী লীগ বলে ৩৫ মিলিয়ন ডলার। আর বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে ২৪ মিলিয়ন ডলার। হঠাৎ করে কমে গেল কেন? কিন্তু বাতাসে অনেক কথা বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত রিজার্ভ তার চেয়েও কম। রাজকোষ শূন্য অবস্থায় এসে পড়েছে। আওয়ামী লীগ বলছে ৩৫ মিলিয়ন বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে ২৪ মিলিয়ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তো আপনাদেরই লোক। যেই আইএমএফ জানতে চেয়েছে তখনই রিজার্ভ কমে গেছে। দেশের পরিস্থিতি খুবই ভয়ঙ্কর অবস্থায় আছে।’

অ্যাডভোকেট রিজভী বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যাংকগুলোতে কোনো টাকা পয়সা নেই। সব শূন্য অবস্থায়। আওয়ামী লীগ কত লুটপাট করেছে যে আজ খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। আর বিএনপি যখন ক্ষমতা ছাড়ে তখন ঋণখেলাপি ছিল শুধু চার হাজার কয়েকশো কোটি টাকা। এই ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছে, এই টাকা কে নিয়েছে? এই টাকা সব আওয়ামী লীগ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজনেরা নিয়েছে। আজ বলছেন ব্যাংকের টাকা শেষ হয়ে আসছে। দেশের ঋণখেলাপি কে কে তার জন্য একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যারা যারা ঋণখেলাপি তারাই সেই কমিটির সদস্য।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘ফুটবল খেলার মাঠে কিন্তু আত্মঘাতী গোলও আছে। অর্থাৎ নিজেদের প্লেয়ার নিজেদের গোল পোস্টেই গোল করে দেয়। ওবায়দুল কাদেররা কিন্তু সেই ধরনের আত্মঘাতী খেলোয়াড়। যেমন ওয়ান ইলেভেনে ওবায়দুল কাদের, আবদুল জলিল, শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম বলেছে, শেখ হাসিনা কার কার কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে। তাই ওবায়দুল কাদের যখন খেলার কথা বলবে, তখন শেখ হাসিনা আপনিও সাবধান হয়ে যান। কারণ সে বিপদে পড়লে আপনার সব কথা কিন্তু সে বলে দিবে।’

রিজভী বলেন, ‘আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বাধা দিচ্ছেন। গ্রেপ্তার করছেন, মারধর করছেন। নিউটনের তিনটা সূত্র, তৃতীয় নম্বরটা হলো আপনি যেভাবে আঘাত করবেন, তার বিপরীত সমান প্রতিঘাত হবে। যে অন্যায় করছেন বিএনপির সাথে, হত্যা নির্যাতন গ্রেপ্তার করছেন, খুলনা বরিশাল বিএনপির বড় বড় সমাবেশগুলোর আগে যেভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছেন, রক্তাক্ত করছেন, সমানভাবে এর প্রতিঘাত জনগণকে সাথে নিয়ে দেওয়া হবে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘কামরুজ্জামান রতনকে গ্রেপ্তার করেছে যাতে ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে লোকজন কম হয়। কিন্তু এটা আপনাদের ভুল পলিসি। কামরুজ্জামান রতনকে গ্রেপ্তার করার কারণে মুন্সীগঞ্জের নেতাকর্মীরা আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে সাফল্যমণ্ডিত করবে।’

রুহুল কবির রিজভী অবিলম্বে কামরুজ্জামান রতনসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতনের মুক্তি দাবিতে এই মানববন্ধন হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে ও আবদুল কুদ্দুস ধীরেনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা আ ক ম মোজাম্মেল হক, আলী আজগর রিপন মল্লিক, শহীদুল ইসলাম শহীদ, যুবদলের সোহেল আহমদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল সহ মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। এসময় মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম, মহিউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ডা. জাহেদুল কবির জাহিদ, শাহ আলম, এসএম জাহাঙ্গীরসহ অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন : আগ্নেয়গিরির মতো মানুষ ফুঁসে উঠছে : মির্জা ফখরুল

জনপ্রিয়