বাঘায় আ.লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষের ঘটনায় আবারও মারপিট; আহত ২

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, মার্চ ২৩, ২০২২ ৫:১৩:২৯ অপরাহ্ণ

আখতার রহমান, রাজশাহী অফিস
রাজশাহীর বাঘায় আ.লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষের ঘটনায় আবারও পৃথক মারপিটে দুইজন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার পৃথকভাবে উপজেলার নারায়নপুর বাজারে ও কিশোরপুর গ্রামে এই মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও আরেকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির পক্ষে সম্মেলনে ভটভটি গাড়ি দেওয়ার কারনে রতন আলী (২৫) নামের এক যুবককে মারপিট করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাস আলীর সমর্থকরা মারপিটে তাকে আহত করে বলে জানান আহত রতন আলীর বড় ভাই সুমন আলী। বুধবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় তাকে মারপিট করা হয়েছে। আহত রতন আলী কিশোরপুর গ্রামের একরাম আলীর ছেলে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি করা হয়েছে।

অপর দিকে মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আক্কাছ আলীর ছোট ভাই আকুল হোসেন নারায়নপুর বাজারে জেবু নামের এক ব্যক্তির সারের দোকানে বসে ছিল। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সমর্থকরা তাকে মারপিটে আহত করা হয়েছে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে নেওয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তার অবস্থা বেগতিক দেখে তাৎক্ষনিক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অতর্কিতভাবে আমার নিরিহ ছোট মামা আকুলকে হাতুড়ি, লোহার রড় দিয়ে মারপিট করা হয়েছে বলে জানান আক্কাছ আলীর ভাগ্নে পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ মার্চ) বেলা ১১টায় উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি—বার্ষিক সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্কাস আলীর সমর্থকরা আ.লীগের সম্মেলনের মঞ্চের সামনে আক্কাস ভাই আক্কাস ভাই বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সমর্থকরা। এতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে দু’পক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুটি মামলায় ৮২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৭০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। সোমবার রাতে এই মামলা দুটি করা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা আ.লীগের সম্মেলনে সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে উভয় গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা অবস্থা বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দুইজনকে পৃথকভাবে মারপিট করা হয়েছে শূনেছি। তবে কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি—বার্ষিক সম্মেলনে সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশের একটি পিকআপ গাড়ী ভাংচুর করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ও আশরাফুল ইসলাম বাবুল বাদি হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : পাবনায় নানা আয়োজনে আনন্দ টিভি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

জনপ্রিয়