বৈশাখের আনন্দে যেন প্রাণ ফিরে পায় উত্তর বঙ্গের সংস্কৃতি

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, এপ্রিল ৬, ২০১৯ ৯:১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

সুজন, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা:
স্বাধীন একটি দেশ “যার নাম বাংলাদেশ”। এদেশের মানুষ সামাজিক ভাবেই সংস্কৃতি প্রিয়। বাংলার রূপ, রস ও লোক সমাজ সংস্কৃতির রেখায় বেশ দৃষ্টি রাখে। বাংলাদেশ তথা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের এই দিবসটি একযোগেই পালন করে।হয়ত সে কারনেই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত বাঙালির সংস্কৃতি জীবনে পহেলা বৈশাখ একটি সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হয়ে দাড়িয়েছে।

সে কারনেই জাতি ধর্ম বর্ণ সব মানুষের মহামিলনে জমে উঠে বৈশাখী মেলায়। গ্রাম বাংলার উত্তরের মানুষ এমন একটি দিনকে ঘিরে বিভিন্নরকম ছোট বড় আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নানা সূত্রের আত্মীয় স্বজনেরা মেলা উপলক্ষে বেড়াতে আসেন আত্মীয়দের বাড়িতে,জমে ওঠে আড্ডা ও রুচীশীল নানান খাবারের আয়োজন। এই সময় বিভিন্ন রকম লোকজ মুখরোচক খাবার তৈরীতে ব্যস্তথাকে মেয়েরা। চিড়া, মুড়ি, খই, লাড়ু, বাতাসা, ইলিশমাছ, পান্তা ও বিভিন্ন রকম ভর্তা জাতীয় খাবার। এই সকল খাবার পরিবেশন করে বাঙালি জাতির ঐতিহ্যকে অনেকখানি সমৃদ্ধ করে তোলে।যদিও এই ঐতিহ্যপূর্ণ মেলার আয়োজনকে ঘিরেই শিশু ও মেয়েরা নানান রকম সাজে ব্যস্ত থাকে। সর্বত্তরের জেলা হিসেবে রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে এই বৈশাখী মেলার আয়োজনের ব্যপকতা অনেক বেশি।

এই এলাকার মানুষ বেশীর ভাগই কৃষি নির্ভরশীল। যদিও বর্তমানে দেশের ভাল চাকুরী গুলোতে সুনাম কেড়েছে এই উত্তরের সোনার ছেলেমেয়রা তবুও এই এলাকার অনেক মানুষ এখনো সহজ সরল প্রকৃতির , সরকারি ও বেসরকারী চাকুরীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পেশা হিসেবে শিক্ষকতায় এই উত্তরের মানুষ বেশির ভাগই কর্মরত রয়েছে। দেশের উত্তরের মানুষগুলো বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব মনে করে। যদিও এই মেলা বাঙালির প্রচিীন ঐতিহ্য। বৈশাখকে কেন্দ্র করে গ্রাম-শহর হয়ে ওঠে নতুন বছরকে বরণের মহা আয়োজন। এই ধরণের মেলায় বেশিই ভাগই পুতুল নাচ, কবি গান, পালাগান, নাগরদোলা আর হৈ চৈ আনন্দ।

যদিও গ্রাম থেকে হেটে হেটে শহরে এই মেলা স্থান দখলকরে নিয়েছে। শহরের মানুষরাও ক্লান্ত কাটিয়ে নিজেকেআনন্দ উল্লাসে খানিক সময় ভরিয়ে রাখতে চায়। যদিও দিনে দিনে বৈশাখি মেলার প্রচলন বেড়ে চলছে। আর এই মেলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌছাতে এগিয়ে আসছে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এই মেলার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মৃতি বহন করে যাচ্ছে বাংরাদেশেন ঐতিহ্য তথা উত্তরবঙ্গেরও সহজ সরল মানুষের চিরচেনা সংস্কৃতি।

সংস্কৃতিতে জরাজীর্ণ, দীনতা হীনতা ও নচিকতাকে পরিহার করে সুন্দর ও সৌন্দর্যকে লালন করে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে প্রতিবছর জমে ওঠে কয়েকটি বৃহত্তম বৈশাখী মেলার মধ্যে অন্যতম রাণীশংকৈল বৈশাখী মেলা। দেশের সুনামধন্য কবি সাহিত্যিক থেকে শুরু করে দেশের মহান ব্যক্তিদের আগমন দেখে গেছে মাস ব্যাপী বৈশাখী মেলায়।

এই মেলাকে ঘিরেই গ্রাম্য মানুষের অর্থাৎ বাঙালির আনন্দ আর্তিক, ইচ্ছা আকাঙ্খা, শ্রেয়বোধ ও শুভ বুদ্ধিকে প্রকাশ করে তোলার একটি দেশের উত্তরের জেলার অনবদ্য উৎসব হলো বৈশাখী মেলা। এই মেলার মুল আয়োজক হিসেবে রাণীশংকৈলের সংস্কৃতির, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী মহল ব্যক্তিদের একাতত্বা অভিন্ন।

বাঙালির এই মেলা সম্পর্কে জানার অবকাশ নেই। অনেকেই মনে করেন- বৈশাখী মেলা হয় মূলত: বাংলাসনের প্রথম দিনে। এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোক উৎসব। এক সময় ঋতু ধর্মী উৎসব হিসেবে পালন হত। কারন কৃষিকাজের সুবিধার্থেই সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের মার্চেই বাংলাসন প্রর্বতন করেন। আর বাংলা নববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত হয় সম্রাট আকবরের সময় থেকেই। সে সময় বাংলার কৃষকেরা জমিদার ও তালুকদারদের খাজনা পরিশোধ করত।

আর এই কারনেই তখন মেলা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হত। আর পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সাথে মিশে একাকার হয়ে ওঠত পহেলা বৈশাখ। চিরাচিত বাংলার কৃষকের মেলা আজ রুপলাভ করেছে শহর বন্দরেও। এই ঐতিহ্য যেন বাংলার কৃষকের ঘামের ফসলের উৎসব। তাই বাঙ্গালির এই প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে দোল খাচ্ছে ৷ এভাবেই বাংলার সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের ধারা চলমান রয়েছে বাংলার এই সবুজ মাঠ প্রান্তরে ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়