ভোক্তাকে নিত্যপণ্যেও বাড়তি মূল্য দিতে হবে

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, জুন ২৩, ২০১৯ ১১:৪৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
গতকাল ডিআরইউ আয়োজিত এক বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের কারণে অনেক নিত্যপণ্য ভ্যাটের আওতায় আসছে। এতে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়বে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভোক্তারা বাড়তি কর পরিশোধে বাধ্য হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ক্যাবের পক্ষ থেকে এ শঙ্কার কথা বলা হয়। এতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের ওপর প্রতিক্রিয়া প্রদান করে ভোক্তাদের সংগঠনটি। এ সময় লিখিত বক্তব্য দেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান। এ সময় ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলমসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম রহমান বলেন, ‘বাজেটে ২০১২ সালের ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একক ১৫ শতাংশ করহার ছাড়াও ৫, ৭.৫ এবং ১০ শতাংশ করারোপের বিধান করা হয়েছে। এতে ভোক্তারা বাড়তি কর পরিশোধ করতে বাধ্য হতে পারে।’

চলমান বার্তার অন্যান্য খবর>>

নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫ রানে হারলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করবে আওয়ামী লীগ : শেখ হাসিনা

‘মাদ্রাসা নয়, সাধারণ শিক্ষা থেকেই বেশি জড়াচ্ছে জঙ্গিবাদে

ট্রাম্পের কাছ থেকে কী এমন চমৎকার চিঠি পেলেন ট্রাম্প?

তিনি বলেন, ‘ভ্যাটের পরিধি বাড়ানোর কারণে বেশ কিছু পণ্য, যেমন নিত্য ব্যবহার্য ভোজ্য তেলের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে পণ্যমূল্য বাড়বে। আমরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, এরই মধ্যে গুঁড়া দুধের দাম কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করব সংসদে আলোচনার পর পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের যাতে বাড়তি কর বা মূল্য পরিশোধ করতে না হয় তার ব্যবস্থা করা হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হবে।’

ক্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের আমদানির ওপর আরোপিত (২০১৭) শুল্কহার গড়ে ২৫.৬৪ শতাংশ, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ২০১৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর গড় আমদানি শুল্কহার ছিল ৪.৭৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর এই হার ছিল ১২.১৯ শতাংশ। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিল্প খাতে সুরক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে উচ্চহারে আরোপিত আমদানি শুল্কের কারণে পণ্য ক্রয়ে বাংলাদেশের ভোক্তাদের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে।

গোলাম রহমান বলেন, ‘প্রত্যাশা ছিল বাজেটে শুল্কনীতি পর্যালোচনা করে ক্রমান্বয়ে আমদানি শুল্ক কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কিন্তু তা হয়নি। বরং গুঁড়া দুধ ও চিনিসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। গুঁড়া দুধের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব যথাযথ নয়। আশা করব সংসদে আলোচনার পর এ প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হবে।’

ক্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রতিবছরই সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহে দেরি হয়। এতে কৃষক সরকারের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। লাভবান হয় মিল মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যাবসায়িক শ্রেণি। অনেক সময় রাজনীতিকরা এ সুবিধা লুটে নেন। এ অবস্থার উত্তরণে বাজেট প্রস্তাবে মিলারদের সম্পৃক্ত করে ‘কন্ট্রাক্ট গোয়িং’ পদ্ধতিতে ধান-চালের ক্রয়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এ ছাড়া ভোক্তা-স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রমের সমন্বয়ে ‘ভোক্তাবিষয়ক বিভাগ’ নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি পৃথক বিভাগ অথবা একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠনের দাবিও জানিয়েছে ক্যাব। পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের সুদ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর দ্বিগুণ করে সরকারের অবসরপ্রাপ্ত, বয়স্ক, মধ্যবিত্ত, গৃহিণীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতির মধ্যে পড়বে। তাই এর আয়ের ওপর থেকে কর কমানোর দাবি জানানো হয়। সূত্র : কালের কণ্ঠ।

আরও পড়ুন :

চলতি বছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ইতিবাচক মনে করে আইবিএফবি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ

জনপ্রিয়