মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘরের স্বপ্নদ্রষ্টা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, আগস্ট ৩, ২০২২ ১০:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ

এম. মাহমুদ:
স্বপ্ন দেখা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা যে স্বপ্ন দেখে না। এক্ষেত্রে অধিকাংশই নিজেদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। নিজের ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎ, সংসার আর পরিবার থাকে স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু দেশ ও জাতিকে নিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট মানুষের সংখ্যা নেহায়েত নগন্য। এই নগন্যদের মাঝে অগ্রগন্য একজন। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী। তার স্বপ্ন জুড়ে বিরাজ করে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অমর কৃর্তি, মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, উন্নয়ন সেই সাথে দেশের ইতিহাস সাধারণ মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার অদম্য ইচ্ছা। তার স্বপ্নাবিষ্ট অন্তরের আরেকটি ইচ্ছা পূরণ হলো গত ১লা আগষ্ট, সোমবার। এদিন গোপালগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর’। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো: নুরুল ইসলাম সুজন এম.পি। এর আগে ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির ভারচুয়াল উদ্বোধন করেন।

জাতির জনকের বর্ণাঢ্য ও কর্মময় জীবনের ইতিহাস সহজে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার মূল পরিকল্পনা গ্রহণ করেন মোঃ মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর।

জাতির জনকের কর্মময় জীবনের ঘটনাপুঞ্জি নিয়ে ধারাবাহিক ১২টি পর্বে নির্মাণ করা হয়েছে জাদুঘরটি। এখানে দর্শনার্থীরা পরিচিত হবে জাতির পিতার শৈশবের দিনগুলোর সাথে। পর্যায়ক্রমে তাঁর ছাত্রজীবন, বেড়ে উঠা, মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মাধ্যমে গণমানুষের প্রাণের নেতা হয়ে ওঠা, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদান, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবর্ণনীয় নির্যাতন ভোগ, মিথ্যা মামলা ও কারাভোগের করুণ চিত্র, তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রাম, বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ, ’৬৬ এর ঐতিহাসিক ছয় দফা,, ’৬৯ এর গণঅভ‚্যত্থান, জাতির গৌরবোজ্জ্বল ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা, যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ পুর্নগঠনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত হবেন।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ভিডিও ও স্থিরচিত্র দিয়ে। কোচের এক প্রান্তে রয়েছে একটি বড় এলইডিতে জাতির পিতার ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। রয়েছে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ। যেগুলো দর্শনার্থীরা হেড ফোনের মাধ্যমে শুনতে পারবে এ সকল ভাষণ ও থিম সং। থিম সংটি লিখেছেন স্বপ্নদ্রষ্টা মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী। এতে জয় বাংলা শ্লোগানের আদলে তৈরি করা হয়েছে একটি বুক শেল্ফ। যেখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর উপর রচিত ও তাঁর কর্মময় জীবনের উপর লিখিত গুরুত্বপূর্ণ বইসমূহ ও শিশুদের জন্য রয়েছে শিশুতোষ সাহিত্য কর্ম। রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা চিঠি। ১২টি টেবিলে সাজানো রয়েছে জাতির পিতার পৈতৃক নিবাসের প্রতিরূপ, তাঁর ব্যবহৃত চশমা, পাইপ, মুজিব কোট, টুঙ্গিপাড়ায় সমাধিস্থল সহ ১৩টি ঐতিহাসিক অনুকৃতি। এছাড়া রয়েছে বেশকিছু দুর্লভ চিত্র। জাদুঘরটির দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা, ডেকোরেশন ও ফুলের বাগান নজর কাড়বে দর্শনার্থীদের। জাদুঘরটি বাহির সাজানো হয়েছে ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ধারাবাহিক সংগ্রামের উপর চিত্রিত ম্যুরালের মাধ্যমে।

মিটার গেজ ও ব্রড গেজ এর জন্য নির্মিত জাদুঘর দু’টি দেশে বিভিন্ন ষ্টেশনে অবস্থান করবে। দর্শনার্থীরা বিনামূলে জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবে।

রেলমন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতায় এই অভিনব উদ্ভাবনী কাজটির প্রশংসা করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে রেলওয়ে তাদের সেবা বহুমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি স্কয়ার হাসপাতালের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ করতে যাচ্ছে ইমারজেন্সি হসপিটাল কাম অ্যাম্বুলেন্স। এই কাজের মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও তিনি। পাহাড়তলি কারখানায় একটি এয়ারব্রেক সম্বলিত কোচ নির্ধারণ করে মোডিফিকেশন কার্যক্রম চলছে। শিগগিরই এই রেল অ্যাম্বুলেন্সও সেবা দিতে শুরু করবে।

মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরীর আরেকটি ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় শহিদ হওয়া শ্রমিকদের স্মরণে ‘অদম্য স্বাধীনতা’ নামে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়ে ২০১৩ সালে রেলের অকেজো যন্ত্রাংশ ও মালামাল দিয়ে নির্মাণ করা হয় এই স্মৃতিসৌধ।

এছাড়াও নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে পোড়া লোকমোটিভ ও ডেমু পুনর্বাসন, দেশেই রেল ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ তৈরির উদ্যোগও তার হাত দিয়েই নেওয়া।

কর্মের পাশাপাশি তিনি রচনা করেছেন শতাধিক জনপ্রিয় গান। তার লেখা গানেও স্থান পেয়েছে জাতির জনক, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। এছাড়া তিনি নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করেন।

আরও পড়ুন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমান রেল জাদুঘরের যাত্রা শুরু

সর্বশেষ

জনপ্রিয়