শিরোনাম

মঠবাড়িয়ায় কৃষি অফিসের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা; নিরাপত্তা প্রহরীকে ফাঁসানোর অভিযোগ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২২ ১২:২৬:২৭ অপরাহ্ণ

মজিবর রহমান, পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসে ৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতে ব্যর্থ হয়ে চুরির নাটক সাজিয়ে নিরাপত্তা প্রহরীকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত হোসেন ও সংশ্লিষ্ট অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আত্মসাতের চেষ্টা করা ওই টাকা প্রান্তিক চাষীদের তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) কৃষি অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ তাওফিকুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।এ সময় আইন শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম উপস্হিত ছিল।

এ ঘটনায় গত ২৭ জানুয়ারি মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । মামলার একমাত্র আসামী মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ ইব্রাহীমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ইব্রাহিম উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড চরকখালী গ্রামের আবু জাফর আকনের পুত্র।

মামলার বাদী আরিফুল ইসলাম মঠবাড়িয়া কৃষি অফিসের প্রধান সহকারী এবং ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড পূর্ব পশারিবুনিয়া গ্রামের ফোরকান হাওলাদারের পুত্র। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার উপ- পরিদর্শক (এসআই) কাজী সরোয়ার জানান,ইব্রাহীমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্হান থেকে টাকা উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসার শওকত হোসেন ২৬ জানুয়ারি (বুধবার) ৩টার দিকে সোনালী ব্যাংক মঠবাড়িয়া শাখা থেকে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৩০ টাকা উত্তোলন করেন।অফিসের প্রধান সহকারী আরিফুল ইসলামকে ব্যাংকে পাঠিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়।

দু’টি চেকের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। একটি চেকে ৩ লাখ ১১ হাজার ২৬ টাকা যার টোকেন নং-০০০২০৫৪৯ আরেকটি চেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ টাকা যার টোকেন নং- ০০০২০৫৪৮।

বিধি বহির্ভূতভাবে শওকত হোসেন নামের ওই কর্মকর্তা সরকারী টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের উদ্দশ্যে বাসায় নিয়ে যান।কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে ওই টাকা ভাগ ভাটোয়ারার চেষ্টা করা হয়।

এদিকে অফিসের অন্যান্য স্টাফরা বিষয়টি জেনে ফেলায় শওকত হোসেন দায় এড়াতে নিরাপত্তা প্রহরী ইব্রাহিমের কাছে টাকা গচ্ছিত রাখার নাটক সাজিয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

এরপর মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ অভিনব নাটকের শিকার নিরাপত্তা প্রহরীকে থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওই নিরাপত্তা প্রহরী ইব্রাহিম সুচতুর কর্মকর্তা শওকত হোসেন কর্তৃক তার নিকট গচ্ছিত ৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা স্বীকার করে।পুলিশ উদ্ধারকৃত টাকা জব্দ করে।

উত্তোলনকৃত ৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৩০ টাকার মধ্যে জব্দকৃত বাদে বাকি ৯৪ হাজার টাকারও কোন সদুত্তর দিতে পারেনি কৃষি অফিসার শওকত হোসেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, উত্তোলনকৃত টাকা তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের এবং ওইদিন ১০৫ জন কৃষকের প্রশিক্ষন ভাতা বাবদ ৯৪ হাজার টাকা খরচ করা হয়।তবে বাস্তবে এর কোন ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

এ বিষয় শওকত হোসেন জানান, কৃষকদের ৪৯টি ফসল প্রদর্শনীর জন্য টাকাগুলো উত্তোলন করা হয়েছিল। অফিসের হিসাব নম্বরে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার সময় চলে যাওয়ায় ওই টাকা অফিসের ড্রয়ারে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে চুরি হয়ে যায়।

বরিশাল বিভাগের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ তাওফিকুল গণমাধ্যমকে জানান, কৃষকদের প্রদর্শনীর ৭ লক্ষাধিক টাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বাসভবন থেকে চুরি হয়। নিরাপত্তা প্রহরীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা যায়। টাকা চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কেউ এতে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করা করা হবে।

মঠবাড়িয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ নূরুল ইসলাম বাদল জানান, কৃষি অফিসের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে গত ২৮ জানুয়ারী জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আরো পড়ুন : মঠবাড়িয়া ইউএনও’র শীতবস্ত্র বিতরণ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়