মসৃণ ফ্লাইওভারের নিচে খানাখন্দে ভরা রাস্তা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, মে ২৫, ২০১৯ ১০:৫১:১৯ অপরাহ্ণ
Reza

রেজা চৌধুরী:
বর্তমান সরকারে উদ্যোগে দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্যে যানজট নিরসন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো। রাজধানী ঢাকায় একাধিক ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলেও যানজটের যে দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি তা সাধারণ যাত্রী ও বিশেষজ্ঞরাই স্বীকার করেছেন। ফ্লাইওভার যেখান থেকে শুরু হয়েছে সেখানে যানজট না থাকলেও যেখানে গিয়ে নামতে হচ্ছে সেখানে ফ্লাইওভার থেকে নেমে আসা এবং নিচের চলমান গাড়ি একই সাথে এক রাস্তায় আসার কারণে সেখানে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।

রাজধানী ঢাকার শান্তিনগর, বাংলামটর, সাতরাস্তা, রাজারবাগ, বেইলী রোডের মাথায় প্রায়ই যানজট লেগেই থাকে। সব চেয়ে বড় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ঢাকা মেডিকেলের মুখে এবং গুলিস্তানে নামার জায়গায় যানজট এখন অসহনীয় হয়ে ওঠেছে। রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনের যে উদ্দেশ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছিল, তার সুফল তেমনভাবে জনগণ ভোগ করতে পারছেন না। এছাড়া ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তাটিও দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় ছিল।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে উদ্বোধন করা হলো জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কের ফ্লাইওভার। যেটি কোনাবাড়ীর মোয়াজ্জেম গেট থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে কাশিমপুর কারাগারে। ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ফ্লাইওভার দিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের যানবাহন চলাচলে সুবিধা হবে। সময় সাশ্রয় হয়ে। কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া এসকল উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

Flaiover
জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কের ফ্লাইওভার। ছবি : শহিদুল ইসলাম

কিন্তু কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায় তৈরি হয়ে আছে খানাখন্দে ভরা। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট বিভাগের আশু দৃষ্টি দেয়া আবশ্যক। কারণ, ফ্লাইওভার নির্মাণের শুরু থেকে জয়দেবপুর থেকে কোনবাড়ি হয়ে কাশিমপুর কারাগার পর্যন্ত রাস্তা পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতে কাদায় সয়লাব হয়ে যায় গোটা এলাকা। অফিসগামী মানুষ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা পড়েন দারুণ বিপাকে। কাঁদা পাড়িয়ে যেতে হয় স্কুল কলেজে। এক্ষেত্রে মেয়েদের পড়তে হয় বেশি বিড়ম্বনায়। এছাড়া কোনাবাড়ীর বিসিক শিল্পনগরীর পণ্য আনা নেওয়ায় কোম্পানি মালিকদের অনেক বেশি অসুবিধায় পড়তে হয়।

জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কের ফ্লাইওভারের নিচে কোনাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকার রাস্তা। ছবি : লেখক

এলাকাবাসী আশা করেছিল, ফ্লাইওভার উদ্বোধনের আগেই নিচের রাস্তাটি সংস্কার করে জনগণের চলাচল উপযোগী করা হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় আশাহত হয়েছেন স্থানীয়রা। কারণ, শুধুমাত্রা রাস্তার কারণে স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষের। এছাড়া নোংরা পরিবেশের কারণে অনেক সময় বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়া পর্যন্ত পান না। যদিও পান, তখন কাঙ্খিত ভাড়া পান না। বিষয়টির প্রতি প্রশাসনের আশু সুদৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

সরকারের উন্নয়নের ফসল কোনাবাড়ী ফ্লাইওভার উদ্বোধনে উচ্ছ্বসিত জনগণের প্রত্যাশা, যত শীঘ্র সম্ভব জয়দেবপুর থেকে কোনাবাড়ী হয়ে কাশিমপুর জেলখানা পর্যন্ত ফ্লাইওভারের নিচের খানাখন্দে ভরা রাস্তাটি অতি দ্রুত সংস্কার করা হোক।

আরও পড়ুন >>

নরেন্দ্র মোদির পুনর্বিজয়ে কতটা স্বস্তিতে বাংলাদেশ?

১০ লাখ টাকায় কেনা মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়