মহানবী হযরত মোহাম্মদ স. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (৩য় পর্ব)

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, মে ১৫, ২০১৯ ২:১৭:৫৭ অপরাহ্ণ
Mohmmed S.
নবী সা. এর রওজা মোবারক। ছবি : সংগৃহীত।

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি:
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চলমান বার্তার সম্মানিত পাঠকদের জন্য মহানবী সা. এর জীবনী ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকে রয়েছে নবীজী স. উদ্যোগ নিয়েছে। আজকে থাকছে নবী সা. এর সন্তানাদির পরিচয় ও আহলে বাইয়াতের বংশধারা।

সন্তানাদির পরিচয় ও পরলোকগমণ:
হযরত নবী করিম সা. এর মোট আওলাদের সংখ্যা ছিল সাত জন। তিন পুত্র ও চার কন্যা। এঁদের মধ্যে প্রথম ছয়জনই ছিলেন হযরত খাদিজার রা. গর্ভজাত।

পুত্র:
১ম পুত্র: হযরত আবুল কাসেম। তাঁর নামানুসারে নবীজিকে আবুল কাসেম অর্থাৎ কাসেমের পিতা নামে ডাকা হতো। হযরত কাসেম যখন সবেমাত্র হাঁটতে শিখেছেন তখনই তাঁর ইন্তেকাল হয়।

২য় পুত্র: আব্দুল্লাহ। তাঁকে তায়্যেব এবং তাহের নামেও ডাকা হতো। নবুওত প্রাপ্তির পর তাঁর জন্ম হয়। কথাবার্তা বলতে শুরু করেছেন এ বয়সেই তিনি ইন্তেকাল করেন। দুজনের মাতা ছিলেন খাদিজা রা.।

৩য় পুত্র: ইবরাহীম। মাতার নাম হযরত মারিয়া কিবতিয়া রা.। হিজরী ৯ সালের জামাদিউল আওয়াল মাসে মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮ মাস বয়সে হিজরী ১০ সালের ২৯ শাওয়াল তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কন্যা:
প্রথম কন্যা: হযরত সাইয়্যেদা যয়নব রা.। নবীজির বয়স যখন ত্রিশ বছর অর্থাৎ বিবাহের পাঁচ বছর পর ১ম কন্যার জন্ম হয়। মক্কার জীবনেই খালাতো ভাই (খাদিজা রা. এর বোনের ছেলে) আবুল আসের সাথে বিয়ে হয়। সাইয়্যেদা যয়নবের গর্ভে এক পুত্র আলী এবং কন্যা উমামা জন্ম গ্রহণ করেন। ছেলে হযরত আলী রা. কিশোর বয়সেই ইন্তেকাল করেন। হযরত ফাতেমা রা. ইন্তেকালের পূর্বে এই মর্মে ওসিয়ত করেন যে, হযরত আলী রা. যেন উমামাকে বিয়ে করেন। পরবর্তিতে হযরত আলী রা. শাহাদাত বরণের পর মুগীরা ইবনে নওফেলের রা. সাথে হযরত উমামার বিয়ে হয়। এঘরে ইয়াহইয়া নামে তাঁর একজন পুত্র সন্তান ছিলেন। হযরত যয়নব হিজরী ৮ সনে ইন্তেকাল করেন।

দ্বিতীয় কন্যা: হযরত রুকাইয়্যা রা.। নবীজির বয়স যখন ৩৩ বছর তখন দ্বিতীয় কন্যার জন্ম হয়। বিবাহ হয় প্রথমে আবু লাহাবের পুত্রের সাথে। কোরআন অবতীর্ণ এবং সুরা লাহাব নাজিল হওয়ার পর আবু লাহাবের ছেলে রুকাইয়্যা রা. কে তালাক দেন। পরবর্তিতে হযরত ওসমান রা. এর সাথে বিবাহ হয়। আবদুল্লাহ নামে এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিন্তু মাত্র ছয় মাস বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। হিজরী ২য় সনে বদর যুদ্ধের সময় ২১ বছর বয়সে হযরত রুকাইয়্যা রা. ইন্তেকাল করেন।

তৃতীয় কন্যা: তৃতীয় কন্যার নাম ছিল উম্মে কুলসুম রা.। দ্বিতীয় কন্যার ন্যায় তৃতীয় কন্যারও আবু লাহাবের পুত্রের সাথে বিবাহ হয় এবং একই কারণে তালাকপ্রাপ্তা হন। পরবর্তিতে দ্বিতীয় কন্যা রুকাইয়্যা রা. ইন্তেকাল করলে হিজরী দ্বিতীয় সনে হযরত কুলসুম রা. হযরত ওসমান রা. সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। যে কারণে হযরত ওসমান রা. কে বলা হয় ওসমান জিনূরাইন অর্থাৎ দুই নূরের অধিকারী। এঘরে কোন সন্তানাদি ছিল না। হিজরী সনে হযরত কুলসুম রা. ইন্তেকাল করেন।

চতুর্থ কন্যা: হযরত ফাতেমা রা.। অধিকাংশ জীবনীকারের মতে হযরত ফাতেমা রা. নবীজীর নবুওত প্রাপ্তির বছর জন্মগ্রহণ করেন। হিজরতে পর হযরত আলী রা. এর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর গর্ভে দুই পুত্র (মতান্তরে তিন পুত্র, তৃতীয় জনের নাম মুহসেন, শিশু কালেই তাঁর মৃত্যু হয়) হযরত হাসান রা., হযরত হোসাইন রা. এবং দুই কন্যা হযরত যয়নব ও হযরত উম্মে কুলসুম জন্মগ্রহণ করেন। হিজরী একাদশ সনে নবীজির ওফাতের ছয় মাস পর হযরত ফাতেমা রা. ইন্তেকাল করেন।

আহলে বাইত বা হযরত নবী করীম সা. এর বংশধারা:
নবী করীম সা. এর পুত্র সন্তানগণ যেহেতু প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন সেহেতু হযরত হাসান রা. এবং হযরত হোসাইন রা. এর মাধ্যমে আহলে বাইত বা নবীর বংশধারা অব্যাহত থাকে।

হযরত হাসান রা. বারজন পুত্র ও পাঁচজন কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। পুত্রগণ ছিলেন, যায়েদ, হাসান মুসান্না, হুসাইন, তালহা, ইসমাঈল, আবদুল্লাহ, হামজা, ইয়াকুব, আবদুর রহমান, আবু বকর, কাসেম ও ওমর। কন্যাদের নাম ছিল-ফাতেমা, উম্মে সালমা, উম্মে আবদুল্লাহ, উম্মুল হোসাইন, রামলা ও উম্মুল হাসান। পুত্রদের মধ্যে ওমর, কাসেম এবং আবদুল্লাহ কারবালায় শহীদ হয়েছিলেন। হোসাইন ও ওমরের সন্তানাদি হয়েছিল। কিন্তু এধারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। শুধু যায়েদ এবং হাসান মুসান্নার বংশধারা অবশিষ্ট রয়েছে। হযরত ইমাম হোসাইন রা. এর আওলাদের মধ্যে শুধু আলী আল আসগর জীবিত ছিলেন। তাঁর উপাধি ছিল যয়নুল আবেদীন বা সাধকগণের ভূষণ। তাঁর ছয় পুত্র ও দুই কন্যার মাধ্যমে বংশধারা বিস্তার লাভ করেছে। সংক্ষেপে এঁরাই ছিলেন আহলে বাইত বা প্রিয় নবীজীর বংশধারার উত্তরাধিকারী। এছাড়াও নবীজীর চাচা হযরত আব্বাস রা. এর পুত্রগণও আহলে বাইতের অংশ ছিলেন। এক হাদীসে পারস্য দেশীয় সাহাবী হযরত সালমান ফার্সী রা. কেও আহলে বাইতের অন্তর্ভূক্ত বলে স্বীকার করা হয়েছে। তবে এটি ছিল প্রিয় সাহাবী হযরত সালমান রা. প্রদত্ত বিশেষ সম্মান। এর সাথে রক্তের কোন সম্পর্ক নাই।

(পরবর্তী পর্বে দেখবেন নবীজী স. ওহী নাজির ও মদিনায় হিজরত)

আরও পড়ুন :

মহানবী হযরত মোহাম্মদ স. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (১ম পর্ব)

মহানবী হযরত মোহাম্মদ স. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (২য় পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়