মহানবী হযরত মোহাম্মদ স. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (৪র্থ পর্ব)

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, মে ১৬, ২০১৯ ১২:৪৭:১০ অপরাহ্ণ
Mohmmed S.
নবী সা. এর রওজা মোবারক। ছবি : সংগৃহীত।

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি:
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চলমান বার্তার সম্মানিত পাঠকদের জন্য মহানবী সা. এর জীবনী ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকে রয়েছে নবী সা. এর ওহী নাজিলের সময়, স্থান, ওহীর পরবর্তী অবস্থা এবং মদিনায় হিজরত।

ওহী নাজিলের তারিখ ও স্থান:
নবী করীম স. এর প্রতি হেরাগুহায় হযরত জিবরাঈল আ. এর আগমন হয় সর্বপ্রথম ১২ মতান্তরে ৯ রবিউল আওয়াল তারিখে। ঈসায়ী সন তারিখের হিসেবে দিনটি ছিল ৬১০ খৃষ্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার। হিজরী বিগত শতাব্দীর একজন শীর্ষস্থানীয় হাদীস তত্ত্ববিদ হযরত আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী র: এর মত অনুযায়ী চব্বিশ হাজার বার প্রিয় নবীর সা. এর নিকট ওহী নিয়ে হযরত জিবরাঈল আ. এর আগমন ঘটেছিল। (মলফুযাতে মোহাদ্দেস কাশ্মীরী)।

নামাজ ও রোজা শুরু:
হযরত উসানা ইবনে যায়েদ রা. তাঁর পিতা হজরত যায়েদ রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন, “আমার প্রতি ওহী নাযিল হওয়ার প্রাথমিক অবস্থাতেই হযরত জিবরাঈল আ. আমাকে ওজুর নিয়ম শিক্ষা দেন এবং আমাকে দিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ান। পরবর্তিতে সুরা গাফেরের ৫৫নং আয়াত নাযিল হওয়ার পর সূর্যোদয়ের আগেই দুই রাকাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বক্ষণে দুই রাকাত মোট দুই ওয়াক্তে চার রাকাত নামাজ ফরজ হয়। এর সাথে হুকুম নাযিল হয় তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার। পরবর্তিতে হিজরতের আগে মে’রাজের সময় দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। রোজা ফরজ হয় হিজরী ২য় সনের শাবান মাসের শেষ ভাগে।

হিজরত:
হযরত মোহাম্মদ সা. মোট দুইবার হিজরত করেছিলেন। প্রথমবার হিজরী ৫ম সনে হাবশায় এবং দ্বিতীয়বার হিজরী ১৩ সনে মদীনায়। যে কারণে নবীজিকে বলা হয় “ছাহেবুল হিজরাতাইন”। প্রথম হিজরতে তিনি নিজে দেশ ত্যাগ না করলেও এর বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনায় নেতৃত্ব ছিল তাঁরই।

মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত:
নবুওয়াত প্রাপ্তি ত্রয়োদশ সনের ২৭শে সফর তারিখ রাতে হযরত মোহাম্মদ সা. আবু বকর রা. কে সাথে নিয়ে মক্কা থেকে বের হন। মক্কা থেকে আনুমানিক ছয় থেকে সাত মাইল দূরে সওর গিরি গুহায় তিনদিন আত্মগোপন করে থাকার পর পহেলা রবিউল আওয়াল সেখান থেকে বের হয়ে মক্কার অভিমুখে যাত্রা করেন। দীর্ঘ এগার দিন পথ চলার পর ১২ই রবিউল আওয়াল সোমবার মদীনায় এসে উপস্থিত হন।

মদীনা শরীফের পূর্বের নাম :
মদীনার পূর্ব নাম ছিল ইয়াসরব। হিজরতের পর নবীজি এই স্থানটি বেছে নিলে সেখানকার নামকরণ করা হয় মদীনাতুন নবী বা নবীর শহর।

সুফফা:
সুফফা অর্থ মসজিদ সংলগ্ন বারান্দা। নামাজ শুরুর প্রথম দিকে কেবলা ছিল বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে। হিজরতের ষোল মাস পর কেবলা কা’বা শরীফের দিকে পরিবর্তিত হয়ে যায়। তখন মসজিদে নববীতে কেবলা পরিবর্তনের ফলে সাবেক কেবলার দিকে বেশ কিছুটা জায়গা অকেজো হয়ে যায়। সেখানে নবীজি সা. ঐ জায়গাটি ছিন্নমূল মুহাজের ও বিদেশ হতে আগত অতিথিদের অবস্থানের জন্য নির্ধারণ করে দেন। আর এটাকেই সুফফা বলে। এখানে সাধারণত তিন ধরণের লোকের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। (১) যাঁরা সর্বস্ব হারিয়ে হিজরত করে আসতেন। যে পর্যন্ত তাঁদের কোন কাজের ব্যবস্থা না হতো ততদিন পর্যন্ত তাঁরা এখানে অবস্থান করতেন। (২) যাঁরা সারাক্ষণ নবী করীম সা. এর খেদমত করতেন, দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করতেন ইসলামের জন্য, নবীজির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের থাকতে দেয়া হতো। (৩) যেসব বহিরাগত লোক ইসলাম গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে মদীনা শরীফে আসতেন তাঁদের থাকার ব্যবস্থা এই সুফফাতেই হতো। সুফফার তদারকি নবীজি সা. নিজেই করতেন। তখনকার ধনাঢ্য ব্যক্তিদের দানের অর্থে খরচ যোগানো হতো।

(আগামী পর্বে দেখুন “নবীর জীবনে জিহাদ”। চোখ রাখুন চলমান বার্তায়)

আরও পড়ুন >>

মহানবী হযরত মোহাম্মদ স. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (১ম পর্ব)

মহানবী হযরত মোহাম্মদ স. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (২য় পর্ব)

মহানবী হযরত মোহাম্মদ স. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (৩য় পর্ব)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়