শিরোনাম

মহানবী হযরত মোহাম্মদ স. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (১ম পর্ব)

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : রবিবার, মে ১২, ২০১৯ ১১:১৬:৪৯ অপরাহ্ণ
Mohmmed S.
নবী সা. এর রওজা মোবারক। ছবি : সংগৃহীত।

মাহমুদুন্নবী জ্যোতি:
যাঁর জন্ম না হলে পৃথিবীর জন্ম হতো না, সৃষ্টিকুলের জন্মের অনেক পূর্বে যাঁর জন্ম, মহান রাব্বুল আলামিনের বন্ধু, যাঁর সুপারিশ ব্যতীত কোন উম্মতের পরকালের নাজাতের সম্ভাবনা নেই, যিনি সকল নবীদের নবী, যাঁর সম্মানে আনুগত্য প্রকাশ করে সমস্ত সৃষ্টিকুল, যিনি সর্বাধিক আল্লাহর প্রশংসাকারী, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, আখেরী নবী, মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে শ্রদ্ধাভাজন, অনুকরণীয়, অনুস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, আকায়ে নামদার তাজেদারে মদীনা হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা আহমদ মোস্তফা স. এর জীবনী বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন তথা জীবনের প্রতিটি স্তরে তাঁকে অনুসরণ করা প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য করণীয় কর্তব্য। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চলমান বার্তার পাঠকদের জন্য মহানবী সা. এর জীবনী ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। আজকে থাকছে নবী সা. এর জন্ম ও বংশ পরিচয়।

জন্ম: ১২ই রবিউল আওয়াল ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ, রোজ: সোমবার, সুবেহ সাদেকের সময়।
জন্মস্থান: বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা নগরী।
বংশ: তৎকালীন প্রখ্যাত কোরাইশ বংশে।
পিতা নাম: আবদুল্লাহ।
মাতার নাম: আমেনা।
দাদার নাম: আব্দুল মুত্তালেব, আসল নাম-আমের। এছাড়া তিনি অনেকের কাছে শায়বা নামেও পরিচিত ছিলেন।
দাদীর নাম: ফাতেমা বিনতে আমর ইবনুল আয়েয।
নানার নাম: ওহাব।
নানীর নাম: বাররা।
ধাত্রীমাতার নাম: ফাতেমা বিনতে আবদুল্লাহ। উনি ছিলেন ওসমান ইবনে আবু আ’সের মাতা।
দুধমাতার নাম: হালিমা।

নবীজির নাম: নবীজির প্রধান নাম ছিলেন ৫টি। (১) ‘মোহাম্মদ’ অর্থ: সর্বাধিক প্রশংসিত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আখেরী নবীর প্রশংসা করতেন, (২) ‘আহমদ’ অর্থ: সর্বাধিক প্রশংসাকারী, আখেরী নবী সবচেয়ে বেশি আল্লাহর প্রশংসা করতেন, (৩) ‘আক্কেব’ অর্থ: কুফুরীকে ধ্বংসের জন্য যাঁর আবির্ভাব, (৪) ‘মাহী’ অর্থ: সর্বশেষ আগমনকারী, উঁনার পর আর কোন নবী পৃথিবীতে আসবেন না। এবং (৫) ‘হাশের’ অর্থ: হাশরের মাঠে অগ্রবর্তী ব্যক্তি। নবীজি কিয়ামতের দিন হাশরের মাঠে এই নাম ধারণ করে উম্মতের জন্য সুপারিশ করবেন। এছাড়া উপনাম আছে অনেক, যেমন-আল আমিন, আবুল কাসেম।

জবান মোবারকের প্রথম বাক্য: হযরত হালীমা রা. বর্ণনা করেন যে, আমি যখন মহানবী সা. এর দুধ ছাড়ালাম, তখন তাঁর জবান মোবারকে এই কয়টি বাক্য উচ্চারিত হয়েছিল। “আল্লাহু আকবার কাবীরা ওয়ালহামদুলিল্লাহি হামদান কাছিরা ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়াঅসিলা”।

নবীজির চৌদ্দ পূরুষের নাম: আবদুল্লাহ, আবদুল মুত্তালেব, হাশেম, আবদে মুনাফ, কুসাই, কেলাব, মুররাহ, কাব, লুয়াই, গালব, ফেহর (কোরায়েশ), মালেক, নজর, কেনানা।

নবীজির বংশধারা: নবীজি ছিলেন ইসমাঈল আ. এর বংশধর। ইমাম তাবারী তাঁর লিখিত ইতিহাস গ্রন্থে যে তালিকা দিয়েছেন, তা হলো-
১। মোহাম্মদ সা., ২। আবদুল্লাহ, ৩। আবদুল মুত্তালেব, ৪। হাশেম, ৫। আবদে মুনাফ, ৬। কুসাই, ৭। কেলাব, ৮। মুররাহ, ৯। কাব, ১০। লুয়াই, ১১। গালব, ১২। ফেহর (কোরায়েশ), ১৩। মালেক, ১৪। নজর, ১৫। কেনানা, ১৬। খুযাইমাহ, ১৭। মুদরেকা, ১৮। ইলয়াস, ১৯। সুযের, ২০। নাযার, ২১। মা’আদ, ২২। আদ্্নান, ২৩। আরু, ২৪। হুমাইসা, ২৫। সালামান, ২৬। আওস, ২৭। বুয, ২৮। ক্বামওয়াল, ২৯। উব্বী, ৩০। আওয়াম, ৩১। নাশেদ, ৩২। হায্্যা, ৩৩। বালদাস, ৩৪। ইয়াদলাফ, ৩৫। ত্বাবেখ, ৩৬। জাহেম, ৩৭। নাহেশ, ৩৮। মাখী, ৩৯। আইফী, ৪০। আবক্বার, ৪১। উবায়দ, ৪২। আদ্্দা’আ, ৪৩। হামদান, ৪৪। সানবার, ৪৫। ইয়াস্্রবী, ৪৬। ইয়াহ্যান, ৪৭। ইয়ালহান, ৪৮। আরউইয়া, ৪৯। আইয়া, ৫০। দীশান, ৫১। আইসার, ৫২। আক্বনাদ, ৫৩। আইহাম, ৫৪। মাক্বসার, ৫৫। নাহেছ, ৫৬। যারেহ্্, ৫৭। শোম্মা, ৫৮। মায্্যা, ৫৯। এওয, ৬০। আরাম, ৬১। কাইদার, ৬২। ইসমাঈল আ.।

নবীজির দাদার বিবাহিত পরিচয়: নবীজির দাদা আব্দুল মুত্তালেব মোট ছয়টি বিবাহ করেছিলেন। ছয় স্ত্রীর ঘরে সন্তানের সংখ্যা ছিল ২১ জন। যথাক্রমে:
১ম স্ত্রী: সাফিয়্যা বিনতে জুয়াইনদর। ১ম স্ত্রীর ঘরে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন একমাত্র পুত্র হারেস।
২য় স্ত্রী: ফাতেমা বিনতে আমর ইবনুল আয়েয। ২য় স্ত্রীর গর্ভে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ৪ পুত্র-যুবায়র, আবু তালেব, আবদুল কা’বা, আবদুল্লাহ এবং ৬ কন্যা-উম্মে হাকীম, বাইদা, উমাইমা, আরওয়া, বাররা ও আতেকা।
৩য় স্ত্রী: ৩য় স্ত্রী ছিলেন লুবনা বিনতে হাজের। এ ঘরে জন্মগহণ করেছিলেন একমাত্র পুত্র আবদুল উজ্জা। পবিত্র কোরানে যাকে লাহাব নামে অভিহিত করা হয়।
৪র্থ স্ত্রী: হালা বিনতে ওয়ামীর ইবনে আবদে মানাফ। তিনি ছিলেন চার পুত্র সন্তানের জননী। পুত্রগণের নাম ছিল-মুকাওয়াম, হাজাল, মুগীরা ও হামযা।
৫ম স্ত্রী: তামীলা বিনতে খাইয়াব বিন কুলাইব ছিলেন ৫ম স্ত্রী। ৫ম স্ত্রীর গর্ভে যেরার, কাসাম ও আব্বাস নামে তিন পুত্র জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।
৬ষ্ঠ স্ত্রী: ৬ষ্ঠ স্ত্রীর নাম ছিল মুনিমা বিনতে আমর ইবনে মালেক। তিনি ছিলেন গাইদাক্ব ও মাস্আব নামে দুই পুত্রের জননী।

পিতার মৃত্যু: নবীজির জন্মের পূর্বে পিতা আবদুল্লাহ মাত্র ২৫ পঁচিশ বছর বয়সে এবং বিয়ের মাত্র এক বছর পর মৃত্যুবরণ করেন। সিরিয়া থেকে বাণিজ্য থেকে ফেরার পথে বনী আদী ইবনে নাজ্জারের আবাসস্থলের কাছাকাছি একটি স্থানে কবর দেয়া হয়। (বর্তমান মসজিদে নববীর পাশে চিহ্নিত করা আছে)।

মাতার মৃত্যু: পিতৃহারা নবীর বয়স যখন মাত্র ছয় বছর তখন পিতার কবর দেখতে গিয়েছিলেন মায়ের সাথে। কবর দেখে ফেরার পথে আবওয়া নামক স্থানে মা আমেনা মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।

(আগামী কাল থাকছে নবী সা. এর বাল্য জীবন ও বৈবাহিক জীবন। চোখ রাখুন চলমান বার্তায়)

আরও পড়ুন : রোজার তাৎপর্য ও গুরুত্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়