মিথ্যা ঘোষণায় অর্থ পাচার হয়েছে : গভর্নর

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, ডিসেম্বর ২, ২০২২ ১১:০৫:২২ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক:
আমদানি-রপ্তানির আড়ালে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।

বেশি দামের পণ্য কম দামে এলসি খুলে বাকি অর্থ হুন্ডিতে পাঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, এক লাখ ডলারের মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি মাত্র ২০ হাজার ডলারে আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে। বাকি অর্থ হুন্ডিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যে ২০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত ওভার ইনভয়েস (আমদানি মূল্য বাড়িয়ে দেখানো) হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গভর্নর বলেন, গত জুলাইয়ে এমন আশ্চর্যজনক প্রায় ১০০টি ঋণপত্র বন্ধ করা হয়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যে পণ্যের দাম কম বা বেশি দেখিয়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ‘ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিং’ বন্ধ করা সম্ভব।

আমদানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক মূল্যে ঋণপত্র খুললে সবাই আমদানি করতে পারবেন। কোনোভাবে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। তবে ৩০ থেকে ৩৫টি বিলাসী পণ্য আছে, যা আমদানি না করলে হয়; এমন কিছু পণ্যে শুল্ক-কর বাড়ানো হয়েছে। এ সব পণ্যের এলসি মার্জিন বাড়ানো হয়েছে।

ডলারের বাজার ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে দাবি করে আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এখন বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ১২১ টাকার ডলার ১১০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর আমদানি পর্যায়ে ডলারের দর এখন ১০৩-১০৪ টাকা। যা কয়েক মাস আগে অনেক বেশি ছিল।

বিআইডিএসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ।

আরও পড়ুন : টাকায় ভর্তি বাংলাদেশের ব্যাংক : পরিকল্পনামন্ত্রী

জনপ্রিয়