মুক্তি পেলেন সম্রাট

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, মে ১১, ২০২২ ৪:৩১:৩০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
অবশেষে কারামুক্ত হয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের (বহিষ্কৃত) সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। বুধবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারা কর্মকর্তা জামিনের কাগজ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সিসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা সম্রাটকে নিয়ম-কানুন মেনে মুক্তি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার পাহারায় থাকা কারারক্ষীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মুক্তি পান।

এর আগে, আজ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় সম্রাটের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। বুধবার (১১ মে) ঢাকার বিশেষ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এরমধ্যে দিয়ে সম্রাটের বিরুদ্ধে থাকা চারটি মামলায় তার জামিনে আর বাধা থাকে না।

সম্রাটের আইনজীবী মাহবুবুল আলম দুলাল গণমাধ্যমকে বলেন, সম্রাটের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে। অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচারের মামলায় এর আগে জামিন পেয়েছেন তিনি। এবার দুদকের মামলাতেও জামিন পেয়েছেন। তাই তার কারামুক্তিতে আর বাধা নেই।

এর আগে আজ বুধবার সকালে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান তিন শর্তে সম্রাটের জামিন মঞ্জুর করেন।

শর্তগুলো হলো—আদালতের অনুমতি ব্যতিত তিনি দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না, তাঁর পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার প্রতিবেদন আগামী ধার্য তারিখে জমা দিতে হবে।

নথি থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সম্রাট বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং সেগুলোতে লোক বসিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। অনেক সময় ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করতেন। তিনি অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঢাকার গুলশান, ধানমণ্ডি, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট কিনেছেন ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া তাঁর সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নামে-বেনামে এক হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

পরে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সাবেক সভাপতি সম্রাটকে ক্যাসিনো মামলায় ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন : সাহেদের বিচার শুরু

জনপ্রিয়