মোংলায় দরিদ্রের চাল আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২ ৭:৩০:২৬ অপরাহ্ণ

মাসুদ রানা, মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় গরিব ও অসহায় হতদরিদ্রদের প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চালে মাপে কম ও পরিবর্তন করে দেয়া সহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মিঠাখালি ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল সহ অন্যান্য চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসুচি পালন করে ভুক্তভোগী শহা¤্রাধিক নারী-পুরুষরা। খাদ্যগুদাম থেকে সঠিক চাল দেয়া হলেও তা পরিবর্তন করে গরীবদের নিম্নমানের চাল বিতারণ করা হয়েছে। তবে দোষিদের বিরুদ্ধে সঠিক বিচারের আশ্বাস উপজেলা প্রশাসনের। এব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মোংলা উপজেলায় একটি পৌরসভা সহ ৬টি ইউনিয়নে প্রায় আড়াই লক্ষ লোকের বসবাস। এর মধ্যে হতদরিদ্র দুঃস্থ্য নারীদের সরকারীভাবে (ভি ডাবিøউ ডি)’র খাদ্য সহায়তার আওতায় রয়েছে ২হাজার ৭২৪ জন নারী। এরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল পেয়ে থাকে। এছাড়া নদী ও খালে ঝাটকা সংরক্ষন অভিযান চলাকালীন জেলেদের দুই মাসে ১৬০ কেজি ও সামুদ্রীক মাছ ধরা বন্ধের সময় জেলেদের জন্য দ্ইু মাসে ৮৬ কেজি চাল সরকারীভাবে বরাদ্ধ রয়েছে। মোংলা উপজেলায় দুই ক্যাটাগরির জেলের সংখ্যা রয়েছে ৫ হাজার ৫১৫জন।

দীর্ঘদিন থেকে এসকল গরিব ও অসহায় দুঃস্থ্য নারী-পুরুষ ও জেলেদের সরকার থেকে পাওয়া চাল বিতারণের সময় তা মাপে কম ও সেদ্ধ চালের পরিবর্তে নিম্নমানের আতপ চাল বিতারণ করছে দুর্নীতিবাজ ইউপি চেয়ারম্যানরা। এর সাথে জড়িত রয়েছে খাদ্যগুদামের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও একটি চোরাকারবারী চক্র। তারা বিতারণকৃত প্রতিটন চাল থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা এবং প্রতি টনে মাপে কম দিয়েছে প্রায় ১৬৫ থেকে ১৭০ কেজি চাল। আর এর সাথে জড়িত রয়েছে মিঠাখালী, বুড়িরডাঙ্গা, চিলা সহ ৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা বলে দাবী এলাকাবাসীর।

গত ২৩ আগষ্ট থেকে পর্যাক্রমে এ চাল বিতারণ করা হলে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে প্রকাশ পায়, পরে এনিয়ে ফুসে উঠে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মোংলা উপজেলা পরিষদের সামনে দুর্নীতিবাজ ও কালোবাজারীর মুল হোতা ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডলের বিচারের দাবীতে মাববন্ধন কর্মসুচি পালন করে ভুক্তভোগীরা। এসময় দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান, খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ আর এর সাথে জড়িত চোরাকারবারীদের বিচারের দাবী জানায় তারা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বিষয়টি তদন্ত করে সুষ্ঠ বিচারের আশ্বাসে ফিরে যান অসহায় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় দ্রæত তদন্ত কমিটি গঠন করেন নির্বাহী কর্মকর্তা।

এ মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উৎপল মন্ডল নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন নিরিহ এলাবাসীর উপর। ইউনিয়নে আসা সরকারি বিভিন্ন সহায়তার কার্ড চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল নিজের লোকদের বণ্টন করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের খোলা বাজারে চাউল বিক্রির কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ফেয়ারপ্রাইচ (ওএমএস) এর কার্ডে গরীব, অসহায় ও দুস্থ্য মানুষের নাম কর্তন করে চেয়ারম্যান নিজের পছন্দের লোকদের কার্ড দিয়েছেন ও সরকারের দেওয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কাজের অনিয়ম এবং দূর্নিতী করেছেন তিনি বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের। এসময় চেয়ারম্যানের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, চেয়ারম্যানের কর্মকান্ডে সরকারের ভাবমূূূূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই সঠিক তদন্ত করে চেয়ারম্যান’র অপসারণ সহ এর বিচারের দাবী জানায় এলাকার অসহায় শহা¤্রধিক নারী-পুরুষরা।

এদিকে খাদ্য পরিদর্শক ও মোংলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রিপন আহাম্মেদ বলেন, চলতি অর্থ বছরে মোংলা উপজেলার ইউনিয়নে যতগুলো চাল এ খাদ্যগুদাম থেকে বিতারণ করা হয়েছে তা সম্পুর্নটাই সিদ্ধ চাল দেয়া হয়েছে। তবে কিভাবে পরিবর্তন হয়ে তা তিনি জানে না।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান উৎপল কুমার মন্ডল বলেন, পরিষদের সব কাজ নিয়ম অনুযায়ী চলছে। আমি সব সময় অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছি। এছাড়া আমি কোন পছন্দের লোকদের তালিকা তৈরী করি নাই, তালিকা তৈরী বা অন্যান্য উন্নয়ন মুলক সকল কার্যক্রমে আমার ইউপি সদস্যরা সাথে রয়েছে। এছাড়া মাপে কম বা নিম্মমানের কোন চাল বিতারন করা হয়নি, একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

মোংলা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার জানান, এলাকা থেকে অভিযোগ পেয়েছি, আমরা ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিবো।

চলতি অর্থ বছরে এ পর্যন্ত হতদরিদ্রদের সরকারী খাদ্য সহায়তায় ২৪৪.৫৯০ মেঃ টন এবং জেলেদের ৩২৩.৮৪০ মেঃ টন চাল বিতারণ করা হয়েছে। তবে যারা এলাকার গরিব ও অসহায় দুঃস্থ্য মানুষের মুখের খাবার কেড়ে নেয় তাদের তদন্ত করে শাস্তির ব্যাবস্থা করবে সরকার এমনটাই দাবী সচেতন মহলের।

আরও পড়ুন :মোংলায় প্রবাসীর কোটি টাকার জমি জোর পূর্বক দখলের অভিযোগ

জনপ্রিয়