মোংলায় স্কুল সেফটি ট্যাংকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শনিবার, জুলাই ৩০, ২০২২ ৬:২৫:০৬ অপরাহ্ণ

মাসুদ রানা, মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় নতুন নির্নাণাধীন স্কুলের সেফটি ট্যাংকের গর্তে পড়ে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে পৌর শহরের দিগন্ত প্রকল্প সরকারী প্রাথমীর বিদ্যালয়ের পাশে দ্বিতলা নির্মানাধীন বাথরুমের সেফটি ট্যংাকের মধ্যে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশু ইয়ামিনের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসছে। এলাকাবাসী বলছে, দুই বছরেও নির্মানকাজ শেষ না করায় উপজেলা প্রকৌশলী আর ঠিকাদারের অবহেলার কারণেই এখানে একের পর এক ঘটনা ঘটছে। তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়ার আশ্বাস মোংলা থানা পুলিশের। খবর শুনে ঘটনাস্থল ছুটে যান পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান, কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ নিয়ে এলাকাাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যাক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মোংলা পোর্ট পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ড কবরস্থান রোড এলাকার দ্বিগন্ত প্রকল্প সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত দুই বছর পুর্বে দ্বীতলা একটি বাথরুম নির্মানের কাজ পায় যশোর জেলার মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। শুরু থেকে আংশিক কাজ শেষে বাথরুমের সেফটি ট্যাংক নির্মান করার জন্য বড় একটি গর্ত খনন করে স্কুলটি পশ্চিম পাশে। কিন্ত সেফটি ট্যাংকিটি সম্পুর্ন নির্মান না করে উম্মুক্ত ভাবে ফেলে রাখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন। বৃষ্টির মৌশুম তাই সেফটি ট্যাংকির গর্ত সম্পুর্ন পানিতে তলিয়ে য়ায়।

দ্বিগন্ত স্কুল সংলগ্ন শ্রমিক আবাসিক এলাকায় বাবুল হোসেন বাবুর বাসা থেকে দুই বছর শিশু পুত্র ইয়ামিন হোসেন বিদ্যালয় মাঠে অন্য শিশুদের দেখে খেলতে যাওয়ার সময় হঠাৎ পা ছিটকে ওই সেফটি ট্যাংকের মধ্যে পরে যায়। ট্যাংটির গভীরতা ৬ ফুটেরও বেশী থাকায় ও বৃস্টিতে পানি জমায় মুহুর্তের মধ্যে শিশুটি গর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন অন্যান্য জায়গায় খুজে না পেয়ে হঠাৎ ট্যাংকির পানির মধ্যে ভেসে উঠে শিশু ইয়ামিন। সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু ইয়ামিনকে মৃত্যু ঘোষনা করে। এ খবর শুনে দ্রুত ছুটে যান মোংলা থানা পুলিশ প্রশাসন, পৌর মেয়র শেখ আঃ রহমান, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আল-আমিন, স্কুল কমিটির সদস্য মোঃ হারুন, আঃ হাকিম সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা। তাদের দাবী প্রকৌশলী আর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালীপনা ও অবহেলার কারণে শিশু ইয়ামিনের মৃত্যু হয়েছে, তাই এ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার দাবী জানান তার পরিবার সহ এলাকাবাসী। এব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় ইয়ামিনের বাবা বাবুল হোসেন বাবু।

এলাকাবসী ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর জি এম আল-আমিন জানায়, বর্তমানে ওই দ্বিগন্ত স্কুলটিতে শিশু শ্রেনী থেকে ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ শতাধিক ছাত্র ছাত্রী লেখা-পড়ার করলেও সেখানে দুই বছরেও নির্মান করা হয়নী সরকারের বরাদ্ধের দ্বীতলা বিশিষ্ট বাথরুমটি। স্কুল কমিটি ও কোমল মতি শিশুদের অভিভাবকরা লিখিত ও মৌখিক বার বার বলা স্বত্যেও উপজেলা প্রকৌশলী আর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় দীর্ঘদিন থেকে উম্মুক্ত ভাবে ফেলে রাখা হয়েছে স্কুল সংলগ্ন এ সেফটি ট্যাংকটি। বহুবার বলা সত্যেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেফটি ট্যাংকি উম্মুক্ত রাখার কারণেই আজ এমন মৃত্যুর ঘটনার ঘটেছে। তাই আর যেন কোন স্কুল শিক্ষার্থী বা শিশু প্রান দিতে না হয় সে ব্যাপারে সুষ্ঠ ব্যাবস্থা ও সুবিচারের দাবী জানায় তিনি।

মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান জানন, আজ শনিবার দুপুরে স্কুলের সেফটি ট্যাংকের গর্তে পড়ে এক মিশুর মৃত্যু বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখ ও বেদনা দায়ক, তবে কেন স্কুলটির সেফটি ট্যাংক নির্মান করা শুরু করেও সম্পুর্ন করা হয়নী তা জানার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছি। তার নাম ঠিকানা দেয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হেয়ছে এবং অবহেলাকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কঠিন বিচার দাবী জানন মেয়র।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এমডি মোঃ রাব্বি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোন অবহেণা নয়, বৃস্টির জন্য কাজ সম্পুর্ন করা সম্ভব হয়নী তাই সাইড ওয়ালের কাজ শেষ করা একটু বিলম্ভ হয়েছে। বৃস্টি শেষ হলে একাজ সমাপ্ত করা হবে।

মোংলা থানার ওসি তদন্ত বিকাশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, স্কুলের সেফটি ট্যাংকের গর্তে পড়ে এক শিশু মুত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে যাওয়া হয়েছে এবং তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। আপাতত এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা গ্রহন করা হবে। শিশুটির পরিবারের লিখিত অভিযোগের সুত্রধরে তদন্ত সাপেক্ষে ঠিকাদারের সংশ্লিষ্ঠতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস পুলিশের এ কর্মকর্তা।

নির্মানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারের অবহেলার ফলে ঝড়ে গেল তাজা এক শিশুর প্রাণ, তাই আর কোন শিশুর মৃত্যু আগেই সুষ্ঠ বিচারের দাবী সচেতন মহলের।

আরও পড়ুন :মোংলা বন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানী শুরু

জনপ্রিয়