মোংলা বন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানী শুরু

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৮, ২০২২ ১০:৩৫:০৪ অপরাহ্ণ

মাসুদ রানা, মোংলাঃ
পদ্মাসেতু’র বহুমুখী সুবিধার আলোকে ঢাকার সবচেয়ে কাছের সমুদ্র বন্দর মোংলা। আর এ পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ঢাকার সাথে মোংলা বন্দরের দূরত্ব কম মাত্র ১৭০ কিলোমিটার, আর ঢাকার সাথে চট্ট্রগ্রামের দুরত্ব ২৬০ কিলোমিটার। তাই সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের ফলে ব্যবসায়িরা মোংলা বন্দর দিয়ে পন্য আমদানি-রপ্তানি করার আগ্রহী হয়েছে। শুরু করেছে এ বন্দর দিয়ে গার্মেন্টস’র তৈরি পোশাক রপ্তানীর কাজ।

২৮ জুলাই বৃহস্পতিবা সকাল ১১ টায় বন্দর সৃস্টির ৭১ বছর পর এই প্রথম বন্দরের ৮ নং জেটি থেকে সরাসরি ইউরোপ’র উদ্দ্যোশ্যে ২৭ টি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানীকৃত গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে পানামা পতাকাবাহী এমভি মার্কস নেসনা বিদেশী এ জাহাজটি বন্দর ছেড়ে যায়।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পুর্বের সংকট কাটিয়ে মৃতুপ্রায় মোংলা বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে গতি ফিরেছে। বন্দরের সুবিধাদি বৃদ্ধির লক্ষে ১০টি বড় প্রকল্পও বাস্তবায়িত হচ্ছে। চালু হয়েছে পদ্মা সেতু কাজ, চলছে খুলনা-মোংলা রেল লাইন, ৬ লেন সড়ক, রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও খানজাহাজন আলী বিমান বন্দরের কাজ। তাই দেশ-বিদেশের ব্যাবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনার নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে মোংলা সমুদ্র বন্দরে।

চলতি বছরের ২৫ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাতে পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ায় দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে তার মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দর অন্যতম। তাই ঢাকার ব্যাবসাযীরা এই প্রথম মোংলা বন্দর দিয়ে গার্মেন্টস পন্য রপ্তানী শুরু করেছে। ঢাকার ফকির এপ্যারেলস লিঃ, উইন্ডি এপ্যারেলস লিঃ, কে.সি লিনজেরিয়া লিঃ আর্টিস্টিক ডিজাইন লিঃ, নিট কনসার্ন লিঃ, মেঘনা নিট কম্পোসিট লিঃ ও শারমিন এপ্যারেলস লিঃ সহ মোট ২৭টি কোম্পানী বাচ্চাদের তৈরী পোশাক, জার্সি ও কার্ডিগান, টি-শার্ট, ট্রাওজার, সহ প্রায় ১৫ প্রকারের গার্মেন্টস পন্য ৫ সতাধিকেরও বেশী কাটুন ভর্তি পোশাক 40 ফিট ১১ টি কন্টেইনার বোঝাই করে রপ্তানী করছে। ২৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এ সকল পন্য নিয়ে পানামা পতাকাবাহী এমভি মার্কস নেসনা নামক জাহাজটি বন্দর ত্যাগ করেছে। বন্দরের ৮নং জেটি থেকে ইউরোপর পোল্যান্ড দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার ৫-৭ দিনের মধ্যে ওই দেশের বন্দরে জাহাজটি পৌঁছাবে বলে জানান রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান এন্ড সন্স।

এ বন্দরে জাহাজের পন্য হ্যান্ডলিং দ্রুত ও নিরাপদে হওয়ায় এবং ঢাকার সাথে এ বন্দরের দূরত্ব কম তাই সময় ও অর্থ দুয়েরই সাশ্রয়ের ফলে ব্যবসায়িরা মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি করায় আগ্রহী হয়েছে। তৈরি পোশাক রফতানির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এ বন্দরের গুরুত্ব আরো বহুগুন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বন্দর চেয়ারম্যান। এর আগে এ বন্দর দিয়ে গার্মেন্টস পণ্য কখনও রফতানি হয়নি। তাই মোংলা বন্দরে সুযোগ-সুবিধার কথা চিন্ত করে রপ্তানিকারকরা এ বন্দর ব্যবহার করছে বলে জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আর সহায়তা পেলে মোংলা বন্দর ব্যাবহারে আরে আগ্রহী হবে আমদানী-রপ্তানীকারক ব্যাবসায়ীরা। ফলে কর্মচঞ্চল্য হবে মোংলা বন্দর, বৃদ্ধি পারে সরকারের রাজস্ব এমনটাই মনে করেন বন্দর ব্যাবসায়ীক সংশ্লিষ্টরা।
মোংলা বন্দর র্কতৃপক্ষরে চয়োরম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলনে, মোংলা বন্দররে জন্য আজকে একটি স্মরনীয় দিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী র্কতৃক পদ্মা সতেু উদ্বোধনরে পর ১ মাসের মধ্যে পদ্মা সতেু হয়ে মোংলা বন্দর এর মাধ্যমে র্গামন্টেস পন্য রপ্তানরি নবযাত্রা শুরু হলো। বিভিন্ন র্গামেন্টস কোম্পানরি কন্টেইনার নিয়ে সরাসরী বন্দর হতে পোল্যান্ডের উদ্দ্যোশ্যে এ পন্য রপ্তানী হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমদানি-রপ্তানীর এ ধারা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

আরও পড়ুন :মোংলা বন্দর জেটিতে থেকে আটক ৩ দুর্বৃত্তকে জেল হাজতে প্রেরণ

জনপ্রিয়