মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ এর গুচ্ছ কবিতা

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, অক্টোবর ১২, ২০২১ ৭:০২:২৯ অপরাহ্ণ

রোদনের প্রতিচিত্র

কোথায় জীবন য্যানো দৃশ্যমান নয় তার মূল
বেনামি উজান থেকে নেমে আসে তপ্ত স্রোতধারা
বৃšত্ম-আধারের আগে কোথায় প্রথম ফোটে ফুল
আকারবিহীন মনে শব্দহীন শব্দ আনে সাড়া?

কোন সূচনায় সুখ অসুখের মতোন সমান
মৌনমুখী মগ্নতার অবিনাশী মুখবন্ধ হয়
চৈতন্যের পাড় ভেঙে নিয়ে আসে অন্ধ অভিমান
কালের কপোলে করে শতাব্দীর অশ্রম্ন অপচয়?

নয়নের নদীতট নিসর্গের নিরšত্মর স্রোতে
রোদনের মতো আঁকে জীবনের বিচিত্রিত রূপ
বিদগ্ধ রীতিতে ঋদ্ধ যে রাখে নেতৃত্ব কোনোমতে
সে জ্বালে কথার মূলে মর্মগন্ধী চেতনার ধূপ।

সীমানাবিহীন পথে শুরম্ন হয় রোদন রোদন
দিকের দেয়াল দিয়ে সে ছবি কী ঢেকে রাখা যায়?
অচিন অয়নে তার চিহ্নহীন অবাক বদন
জ্বলে নিত্য নিরšত্মর অšত্মরের আলৌকিকতায়।

ভালোবাসাবাসি

এখানে জীবন নীল
হয়েছে তুমুল খোলা নিশ্বাসের নদীর সলিল
পূর্ণিমার রাতে মরা চাঁদ
আলোর বিরম্নদ্ধে চলে যায়।
এখানে বসšত্ম বৈরী
প্রতিটি ফাগুন য্যানো আগুনের নীরব সাগর
শিশির নামে না রাতে
গানের পাখির কণ্ঠ খরাদগ্ধ চৈত্রের মতোন।
এখানে
সৌর সাগরের এই ভাসমান দ্বীপে
চুকেবুকে গ্যালো বুঝি বিনাশের সকল হিসেব?
এ ক্যামন স্খলন
এ ক্যামন প্রেমহীন নষ্ট আচরণ;
হšত্মারক এ সভ্যতাকে কে ঠেকাবে কে?
এ প্রশ্নের মুখোমুখি শুধু নীরবতা
মুখে মুখে উচ্চারিত শুধুমাত্র ব্যর্থতার কথা!
এরই মাঝে আরো একজন ডাহুকের ডাক বুকে নিয়ে
তুলেছে আবার পাল সাত সাগরের মগ্ন স্রোতে
জাহাজে সাজানো তার থরে থরে কতো
কুসুমের তেজারত, বুলবুলির গান
তেরো তবকের চাঁদ, দখিনা হাওয়ার হাসাহাসি
আশা বুকে, ব’লবে আবার দ্বীপবাসী,
‘ভালোবাসি’
আমরা শুধুই জানি প্রেম
আমরা শুধুই জানি শুধুমাত্র ভালোবাসাবাসি।

অক্ষরের পরের অক্ষর

দ্যাখোনা আমাকে ভেঙে কতোবার সহজে ছুঁয়েছি
অচেনা অজানা ঢেউ নীলোত্তীর্ণ নভের মতোন
নিয়েছি নি¯ত্মব্ধতা তুলে ড়্গ’য়ে যাওয়া বুকের ডাঙায়
আমাকে কাঁদায় কাল নির্ধারিত বিকাল সকাল।

দ্যাখোনা কীভাবে এঁকে পুনঃ মুছি প্রেমের প্রহার
ব্যথা ও বিস্ময় নিয়ে অড়্গরের শরীর সাজাই
আমি উপকূল নীল অসীমতা যেখানে ভেঙেছে
বেদনাবাহিত বাণী আমি আনি যতোটুকু জানি।

আমাকে ক’রেছো বুঝি বাঙলাদেশী বুকের সমান
আমার কলমে তাই কলমিলতা কাঁঠালের কথা
ভাদ্রের ভরা নদী চরাঞ্চলে কাশের নিরালা
আমার সত্তার সাথে এক বস্ত্রে সময় কাটায়।

কবে কোন কেয়াবন মুকুলিত আমের কানন
মাতাল লেবুর ফুল ধানকেশে সিঁথি কাটা পথ
আখড়্গতে অড়োহর পানিফল পানের বরজ
আমাকের দিয়েছে ছুঁড়ে কালকণ্ঠে আশংকার স্রোতে।

শিশির নিশির চোখে এঁকে রাখে শোকের কাজল
পদ্মভরা পুষ্করিণী মেলে ধরে পুস্তকের পাতা
পাঠ করে সমকাল পিঠ রেখে মহা-ইতিহাসে
স্বাড়্গরের শেষে নামে অড়্গরের পরের অক্ষর।

জনপ্রিয়