যুদ্ধজাহাজ নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে গিয়েছিলেন রাজীব গান্ধী!

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বৃহস্পতিবার, মে ৯, ২০১৯ ১১:১৪:২৭ অপরাহ্ণ
Rajib Gandi
প্রয়াত রাজীব গান্ধি ও সোনিয়া গান্ধি। ছবি : সংগৃহীত।

অনলাইন ডেস্ক:
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন,  ১৯৮৭ সালে রাজীব গান্ধী তার পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে একটি যুদ্ধজাহাজে চেপে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন।

গান্ধী পরিবারের কয়েকজন বিদেশি আত্মীয়, বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চনের পরিবারসহ লাক্ষাদ্বীপে ওই ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল রণতরী আই এন এস ভিরাট।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লিতে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময়ে ২০১৩ সালে ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে রাজীব গান্ধীর ব্যাপারে অভিযোগটি করেন।

ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল যে রাজীব গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী এবং তাদের দুই সন্তান রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা তাদের কয়েকজন বন্ধু, সোনিয়ার মা, ভাই এবং সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনের পরিবার ছুটি কাটাতে লাক্ষাদ্বীপের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে গিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনটিতে লাক্ষাদ্বীপ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করা হয়েছিল, যারা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছিলেন যে ৮৭ সালের বর্ষশেষের সময়টা রাজীব গান্ধী ও তার পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবরা ওই দ্বীপে কাটিয়েছিলেন।

কে কীভাবে পৌঁছিয়েছিলেন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ওই বাঙ্গারাম দ্বীপটিতে, সেখানে অতিথিদের কী কী খাবার দেওয়া হত, মুরগী বা পাউরুটি বা মদ কোথা থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল, সেসবেরও বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে এটাও লেখা হয়েছিল যে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ আই এন এস ভিরাটকেও সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছোট জাহাজ আর একটি ডুবোজাহাজও পাঠানো হয়েছিল গান্ধী পরিবারের জন্য।

অমিতাভ বচ্চন যখন ফিরছিলেন কোচি বিমানবন্দর হয়ে, সেখানে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কাগজের এক চিত্র-সাংবাদিক তাকে দেখতে পেয়ে ছবি তুলে নেন, সেই ছবিও ইন্ডিয়া টুডেতে ছাপা হয়েছিল, যেমন ওই দ্বীপে থাকার সময়ে রাজীব গান্ধী আর সোনিয়া গান্ধীদের বেশ কিছু ছবিও ছাপা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে গোটা ঘটনাটা সংবাদমাধ্যমের চোখের আড়ালে ঘটানো হয়েছিল। সেখানে যে গান্ধী পরিবার গিয়েছিলেন, এ নিয়ে বোধহয় কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি ছুটি কাটাতেই গিয়েছিলেন কী না, বা তার ভ্রমণের জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়েছিল কী না, এই বিষয়গুলি নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।

সেই সময়ে লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক ছিলেন ওয়াজাহাত হাবিবুল্লা যিনি পরে ভারত সরকারের শীর্ষ আমলা হয়ে অবসর নেন।

তিনি বলছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন লাক্ষাদ্বীপে এবং তারপরে সেখানে থেকে যান। কয়েকজন পারিবারিক বন্ধুকেও ডেকে নেন। আর যুদ্ধ জাহাজটি সেখানে রাখা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য। মি. গান্ধীর বিদেশী আত্মীয়রা কেউই যুদ্ধজাহাজে চাপেন নি।

কংগ্রেস মুখপাত্র পভন খেরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদী আসলে নিজের ব্যর্থতাগুলোকে ঢাকতেই নিহত প্রধানমন্ত্রীকে টেনে আনছেন। খেরা উল্লেখ করেছেন নৌবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ অফিসার – ভাইস মার্শাল ভিনোদ পাসরিচার মন্তব্য। পাসরিচা সেই সময়ে আই এন এস ভিরাটের প্রধান ছিলেন।

তিনি মন্তব্য করেছেন যে রাজীব গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধী একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য যুদ্ধজাহাজে দুদিন কাটিয়েছিলেন। ওয়াজাহাত হাবিবুল্লা এবং ভাইস মার্শাল পাসরিচার মন্তব্য দুটোই খুব গুরুত্বপূর্ণ — কারণ তারা কেউই অস্বীকার করছেন না যে রাজীব গান্ধী সেখানে যান নি, কিন্তু বলছেন ছুটি কাটাতে নয়, সরকারি কাজে গিয়েছিলেন সব প্রোটোকল মেনে।

তামিল গেরিলা সুইসাইড বম্বারদের ঘটানো বিস্ফোরণে নিহত রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর প্রায় ১৮ বছর পরে কেন নরেন্দ্র মোদী হঠাৎ মি. গান্ধীর দিকে বারে বারে অভিযোগের আঙ্গুল তুলছেন, এটা অনেকের কাছেই অদ্ভুত লাগছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন ইন্দিরা গান্ধী এবং রাজীব গান্ধী – দুজনেই যেহেতু নিহত হয়েছিলেন.. তাই অনেক মানুষের মনে শহীদ পরিবার হিসাবে তাদের প্রতি একটা সহানুভূতি আছে। সেটাই বোধহয় ভাঙ্গতে চাইছেন মোদী।

কোনও বিশ্লেষক আবার বলছেন, আর এস এসের যেহেতু স্বাধীনতা আন্দোলনে সেরকম কোনও ভূমিকাই ছিল না, সেই প্রসঙ্গটা যাতে বেশি প্রচারে না আসে, তার জন্যই গান্ধী পরিবারকে টার্গেট করছেন মোদী।

আবার রাহুল গান্ধী আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে যেহেতু দুর্নীতির অভিযোগে সরাসরি জড়ানো যাচ্ছে না, উল্টোদিকে  মোদীর বিরুদ্ধেই দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠছে। তাই পাল্টা আক্রমণের পথ হিসাবে রাজীব গান্ধীর নাম টেনে আনা হচ্ছে। কখনও যুদ্ধজাহাজে ছুটি কাটানোর কথা বলা হচ্ছে, আবার কখনও বফর্স মামলার কথা বলা হচ্ছে, যে মামলায় হাইকোর্ট রাজীব গান্ধীকে নির্দোষ বলে রায় দিয়েছিল।

আরও পড়ুন : হ্যারি ও মেগানের সন্তানের নাম রাখলেন ‘আর্চি’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

জনপ্রিয়