যেভাবে ভলিবল খেলোয়াড় থেকে ক্রিকেটার হলেন এবাদত হোসেন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : বুধবার, জানুয়ারি ৫, ২০২২ ৫:১৪:৫৯ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
দুই বছর আগে যখন বিপিএলে মিরপুরের মাঠে চট্টগ্রামের বিপক্ষে সিলেট সিক্সার্সের হয়ে উইকেট নেয়ার পর যখন অনেকটা সামরিক কায়দায় স্যালুট দেন একজন তরুণ, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে সাত উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সেই বোলার, এবাদত হোসেন চৌধুরী। নিজের ২৮তম জন্মদিনের দুইদিন আগে পাওয়া দলের জয়ের পেছনে তার ছিল প্রধান ভূমিকা।

মজার ব্যাপার হলো, ক্রিকেটার বা বোলার হিসাবে পরিচিতি পেলেও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই সদস্য কিন্তু খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন ভলিবল খেলোয়াড় হিসাবে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে সঞ্চালকের প্রশ্নের জবাবে এবাদত হোসেন বলেছেন, ”আমার ভলিবল থেকে ক্রিকেটে আসার গল্পটা অনেক লম্বা। তবে আমি ক্রিকেট উপভোগ করছি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ও বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করাটাও।”

মৌলভিবাজারের ছেলে এবাদত হোসেন চৌধুরী ২০১২ সালে বিমান বাহিনীতে সৈনিক হিসাবে যোগ দেন। সেখানেই চাকরির পাশাপাশি বিমান বাহিনীর নিয়মিত ভলিবল খেলতে শুরু করেন।

ভলিবল দিয়ে ক্রীড়া জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি ক্রিকেট খেলার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ২০১৪ সালে সিটি ক্লাবের হয়ে ঢাকায় প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান।

তিনি প্রথমে নজরে আসেন ২০১৬ সালে রবি পেসার হান্ট প্রতিযোগিতার মাধ্যম। সেই সময় তার দ্রুত গতির বলের জন্য তিনি ‘স্পিড স্টার’ পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফর্মেন্স ক্যাম্পে ডাক পান।

সেই বছর ওই ক্যাম্পে আরও ডাক পেয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সাদমান ইসলামের মতো তরুণরা, যারা এখন জাতীয় দলে খেলছেন। সেই সময় হাই পারফর্মেন্স ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ দিতে আসা আকিব জাভেদের প্রশংসাও কুড়ান এবাদত হোসেন।

সেই সময় বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ন্যাশনাল ম্যানেজার ছিলেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম। তিনি বলছেন, ”এবাদত দারুণ সমালোচনার মুখে ছিল অনেকদিন। কারণ ওর বোলিং এভারেজ ভালো একজন বোলারের সাথে যায় না। সেটা নিয়ে অনেক সমালোচনা ছিল। কিন্তু সেটার পরেও ওর মধ্যে ভালো করার যে জেদ ছিল, ভালো করার চেষ্টা ছিল, সেটাই তার সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে আমার মনে হয়।”

এবাদত হোসেনের বোলিংয়ের অনেক পরিবর্তন তিনি দেখতে পেয়েছেন বলে বলছেন মি. আবেদীন।

”রিসেন্টলি আমি দেখলাম, ওর বোলিংয়ের মধ্যে কিছু পরিবর্তন এসেছে। অনেক ডিসিপ্লিনড মনে হয়েছে, টেকটিক্যালি ইমপ্রুভড মনে হয়েছে ওকে। সেটার জন্য তাকে কঠোর অনুশীলন করতে হয়েছে।” তিনি বলছেন।

২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের হয়ে খেলতে নেমে নয় ওভারে ১৯ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন এবাদত। তিনটি ওভার ছিল মেডেন।

এরপর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) সিলেট সিক্সার্সের হয়ে মাঠে নেমে আলোচিত হয়ে ওঠেন এবাদত। সিলেট সিক্সার্সের শেষ ম্যাচে মাত্র ১৭ রানে চার উইকেট নিয়ে দলের জয়ের নায়কে পরিণত হন। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) পাঁচ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে তিনি নির্বাচকদের নজরে আসেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এবাদত হোসেনের প্রথম অভিষেক ঘটে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। তাসকিন আহমেদ ইনজুরিতে থাকায় নিউজিল্যান্ড সফরে তিনি জাতীয় টেস্ট দলের হয়ে খেলার ডাক পান। তেসরা মার্চ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই তার আন্তর্জাতিক খেলা এবং টেস্টে অভিষেক হয়।

কিন্তু বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে বরাবরই সমালোচনার মধ্যে থেকেছেন এবাদত হোসেন। ১০টি টেস্ট খেললেও তার বোলিং গড় ছিল প্রায় ১০০। মোট উইকেট ছিল ১১ টি।

কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের মাটিতেই হারিয়ে ম্যাচ সেরা হয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করে ফেললেন এবাদত হোসেন চৌধুরী।

জনপ্রিয়