যে কারণে রস টেলরকে মনে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১১, ২০২২ ৯:৪৯:৩৬ অপরাহ্ণ

চলমান বার্তা ডেস্ক
ক্যারিয়ারে ১১২টি টেস্ট, ৭৬৮৩ রান, ১৯টি শতক- নিউজিল্যান্ডের হয়ে ১৬ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা রস টেলর বাংলাদেশের বিপক্ষে তার টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টটি খেললেন।ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ‘গার্ড অফ অনার’ দিয়ে রস টেলরকে সম্মান জানান।

রস টেলরও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আধুনিক ক্রিকেটে যারা প্রভাব ফেলেছেন, দিনের পর দিন পারফর্ম করে গেছেন- তাদের একজন রস টেলর।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে বেশ কয়েকটি রেকর্ডের মালিক রস টেলরের ব্যাট থেকেই এসেছে নিউজিল্যান্ডের একমাত্র আইসিসি শিরোপা, ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জয়সূচক রান। তবু অনেক বিশ্লেষক মনে করেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে তাকে নিয়ে চর্চা হয় কম।

চার নম্বরে খেলা বিশ্বসেরাদের তালিকায় রস টেলর
টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা চার নম্বর, যেখানে খেলেছেন কিংবদন্তী ক্রিকেটাররা। এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন রস টেলর।

মাত্র চারজন ক্রিকেটার টেস্টে চার নাম্বারে নেমে টেলরের চেয়ে বেশি রান তুলেছেন, তাদের নাম- সাচীন টেন্ডুলকার, মাহেলা জয়াবর্ধনে, জ্যাক ক্যালিস, ব্রায়ান লারা। জাভেদ মিয়ান্দাদের নাম টেলরের নিচে।

এই তালিকায় ওয়ানডে ক্রিকেটে সবার ওপরে রস টেলর, চার নম্বরে নেমে অন্য কোনও ব্যাটসম্যান রস টেলরের সমান বা কাছাকাছি রান (৭৬৬৪) করতে পারেননি।তার পরেই আছেন জয়াবর্ধনে যিনি করেছেন ৬৯৪৭ রান।এই তালিকায় রস টেলরের সাথে একমাত্র এবি ডি ভিলিয়ার্সই আছের ৫০ এর বেশি গড় নিয়ে।

টেস্টে রস টেলরের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পার্থে ২৯০, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী কোনও দলের ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।

রস টেলর নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান
নিউজিল্যান্ডের হয়ে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৪৪৭টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন রস টেলর।এই সময়ে তিনি ১৮১৭৩ রান তুলেছেন, যা নিউজিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি।

রস টেলর একাধারে-
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক শতকের মালিক- ৪০টি
নিউজিল্যান্ডের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রান- ৭৬৮৩
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান- ৮৫৮১
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ওয়ানডেতে শতক- ২১টি
টেস্টে রস টেলর ৪৪ গড়ে ব্যাট করেছেন, ওয়ানডেতে ৪৮।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে রস টেলরের খেলাটা এতোটাও সহজ ছিল না, তাসমানিয়ার একটি গ্রাম থেকে উঠে আসেন টেলর- যেখানে মূল খেলাটা রাগবি।

সেখান থেকে রস টেলর নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলে নিজেকে থিতু হন, ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডেতেই ১২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তবে তিনি আরও বেশি প্রশংসা কুড়ান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোবার্টের ৮২ বলে ৮৪ রানের ইনিংস দিয়ে।

২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে রস টেলর মূলত বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের অস্তিত্বের জানান দেন, ১২৪ বলে ১৩১ রান, শেষ আট ওভারে নিউজিল্যান্ড ১২৭ রান তোলে, তাও শোয়েব আখতার, আব্দুল রাজ্জাকদের বলে।

এই বিশ্বকাপে রস টেলর ৮ ম্যাচে ৬৪ গড়ে ৩২৪ রান তোলেন।এই বিশ্বকাপটাই রস টেলরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারকে দুই ভাগে ভাগ করেছে মূলত। ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ৩৫ গড়ে তুলেছেন ২৬২৪ রান, ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত তিনি খেলেছেন ৫৭ গড়ে।

কোহলি, ডি ভিলিয়ার্সদের সাথেই আছেন রস টেলর
গত ১১ বছরে যারা বিশ্ব ক্রিকেট মাতিয়েছেন তাদের তালিকায় রস টেলরের নামটা ওপরের দিকেই আছে।অন্তত তিন হাজার রান যারা তুলেছেন গত প্রায় এক যুগে, তাদের মধ্যে রস টেলরের চেয়ে বেশি গড় আছে শুধু ভারতের ভিরাট কোহলি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্সের।বাবর আজম, রোহিত শর্মা, কুমার সাঙ্গাকারার নাম আছে এই তালিকায় রস টেলরের নিচে।

বিশেষত ২০১৪ ভারতের বিপক্ষে টানা ২টি সেঞ্চুরির পর, দুবাই গিয়েই পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি এবং ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে রস টেলরের রানের তালিকা ছিল এমন- ৫৭, ১১৯*, ১১০, ৪২।

২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বহুল আলোচিত ফাইনালে খেলে হেরে যায় নিউজিল্যান্ড।এই টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার ছিল নড়বড়ে।কেইন উইলিয়ামসনের সাথে রস টেলর মূলত অভিজ্ঞ ভূমিকা পালন করেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওভালে ৮২ রানের একটি ইনিংস খেলে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতিতে ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন, ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলেন গুরুত্বপূর্ণ ৭৪ রানের ইনিংস।

রস টেলরকে যারা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন
পুরো ম্যাচ জুড়েই আলোচনায় ছিলেন রস টেলর, ম্যাচ শেষে নিউজিল্যান্ডের ডেভন কনওয়ে ও টম লাথাম আলাদা করে টেলরের কথা বলেছেন। লাথাম বলেছেন, ১৭ বছর ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ছিলেন টেলর। কনওয়ে বলেন তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন রস, “১১২ ম্যাচের অভিজ্ঞতা, এটা সহজেই পাওয়া যায় না।”

মমিনুল হক বলেছেন, “যখন বড় হচ্ছি তখন থেকেই রস টেলরকে খেলতে দেখছি। আমরা তাকে ভালোবাসি তাকে সবাই মিস করবে। আপনাকে ধন্যবাদ রস, বাকি জীবনের জন্য শুভকামনা।”

মুশফিকুর রহিম নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, আপনার দেয়া আনন্দের জন্য ধন্যবাদ রস টেলর। সুন্দর টেস্ট ক্যরিয়ারের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক হারশা ভোগলে।

জনপ্রিয়