যৌন হয়রানিকে নাটক বানাতে চেয়েছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন

সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে : শুক্রবার, এপ্রিল ১২, ২০১৯ ৯:৫৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
OC Moyazzen
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক: শরীরে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যার আগেই যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে গিয়ে ফেনীর সোনাগাজী থানার ওসির কক্ষে আরেক দফা হয়রানির শিকার হয়েছিলেন মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত। সে সময় ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

আইনজীবীরা বলছেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ করার সময় ওসির ভিডিও ধারণের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার সুযোগ রয়েছে নুসরাতের পরিবারের। ওসির এ ধরনের আচরণের বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছেন, আইন না মেনে অভিযোগ করতে যাওয়া কারোর ভিডিও করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

আরও পড়ুন: নুসরাতের জানাজ সম্পন্ন

ভিডিও করার সময় নুসরাত অঝোরে কাঁদছিলেন এবং তার মুখ দু’হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ছিল ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’

দায়িত্বে অবহেলার দায়ে গত ৯ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে নুসরাতকে জেরা করা হচ্ছে ‘কিসে পড়? ক্লাস ছিল?’ ঘটনা জানাতে গিয়ে নুসরাত বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। সে সময় তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় ‘কারে কারে জানাইসো বিষয়টা?’ নুসরাত যখন জানায় তাকে অধ্যক্ষ ডেকে নিয়ে গিয়েছিল, তখন প্রশ্ন করা হয় ‘ডেকেছিল, নাকি তুমি ওখানে গেছিলা?’ পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল বলে নুসরাত জানালে প্রশ্ন করা হয় ‘পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল? পিয়নের নাম কী?’ নুসরাত সে সময় পিয়নের নাম বলেন ‘নূর আলম।’

পুরো ভিডিও’তে নুসরাত কাঁদছিলেন। একসময় ভিডিওধারণকারী তাকে ধমকের সুরে বলেন ‘কাঁদলে আমি বুঝবো কী করে, তোমাকে বলতে হবে। এমন কিছু হয়নি যে তোমাকে কাঁদতে হবে।’

ভিডিওর শেষে নুসরাতের কথা বলা শেষ হলে ধারণকারী বলেন ‘এইটুকুই?’ আরও কিছু অশালীন উক্তির পাশাপাশি তাকে উদ্দেশ করে ওই ব্যক্তি বলেন ‘এটা কিছু না, কেউ লিখবেও না তোমার কথা। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেবো। কিছু হয়নি। রাখো। তুমি বসো।’

এ ব্যাপারে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘যদি কোনও রূঢ় অশালীন উপায়ে সুনির্দিষ্ট আইনিপন্থা না মেনে এ ধরনের কোনও ভিডিও করা হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। এটি তার ব্যক্তিগত বিচ্যুতি।’ সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ

জনপ্রিয়